Published : 17 Sep 2025, 04:00 PM
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চার দিনব্যাপী ত্রয়োদশ কংগ্রেস আয়োজন করতে চলেছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া চারদিনব্যাপী কংগ্রেস শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর
এতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় করণীয় নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে সিপিবি।
বুধবার পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে এয়োদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কমরেড মিহির ঘোষ বলেন, কংগ্রেসের উদ্বোধনী দিনে পার্টির 'ভেটারান কমরেডদের' সম্মাননা জানানো হবে।
'সমাজ বদলের লক্ষ্যে শোষণ-বৈষম্যবিরোধী বাম গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা কর' প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রায় দুই শতাধিক প্রবীণ কমরেড কংগ্রেসে যোগ দেবেন।
যাদের বয়স ৭০ বছর বা তদূর্ধ্ব এবং যারা এক টানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পার্টির সদস্য হিসেবে যুক্ত আছেন, তাদেরকে 'ভেটারান কমরেড' হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে যারা সুস্থ ও চলাফেরা করতে সক্ষম, তারা উপস্থিত থাকবেন।
কংগ্রেসের আগে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও শাখা সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কংগ্রেসের জন্য ৫২৫ জন প্রতিনিধি ও ২৬ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রতিটি জেলা সম্মেলনে নতুন জেলা কমিটি গঠন ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও মিহির ঘোষ জানিয়েছেন।
সিপিবির সভাপতি কমরেড শাহ আলম বলেন, "দেশে এখন আইনের শাসন, মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইক সোচ্চার হতে হবে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন যেন হয় তার জন্য সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।"
সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, "নব্বই দশক থেকে সিপিবিকে বিভক্ত করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে সিপিবি এগিয়ে চলেছে এবং এগিয়ে যাবে।"
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে নির্বাচনের তিন মাস আগে রুটিন ওয়ার্ক ছাড়া কিছু করার এখতিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নেই। অথচ এই সরকার ‘বন্দর লিজ’ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রিন্স।
লিখিত বক্তব্যে মিহির ঘোষ বলেন, "সিপিবি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার এক অনন্য ধারা সৃষ্টি করেছে। যারা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত, তারা জানেন প্রতিটি কংগ্রেসের আগেই আমরা রাজনৈতিক প্রস্তাব, ঘোষণা ও কর্মসূচি দলিল প্রণয়ন করি, এবং তা নিয়ে দলের প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত আলোচনা চালানো হয়।
"এ বছরও কংগ্রেস উপলক্ষে রাজনৈতিক প্রস্তাব ও কর্মসূচির খসড়া দলিল তিন মাস আগে দলের সকল সদস্য ও প্রার্থী সদস্যের কাছে পাঠানো হয়। পার্টির সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে, এবং শাখা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলনে দলিলগুলো নিয়ে মতামত প্রদান করেছেন। কংগ্রেসে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ এসব দলিলের উপর তাদের নিজস্ব ও বিভিন্ন শাখার মতামত তুলে ধরবেন। আলোচনা শেষে রাজনৈতিক প্রস্তাব ও কর্মসূচি দলিল চূড়ান্ত করা হবে।"
চার দিনব্যাপী এই কংগ্রেস পরিচালনার জন্য গঠিত হবে- 'প্রেসিডিয়াম', 'অডিট কমিটি', 'ক্রেডেনশিয়াল কমিটি', 'প্রস্তাব বাছাই কমিটি', মুখপত্র নির্বাচন'।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় কংগ্রেসের মুখপত্র কংগ্রেসের কার্যক্রম সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করবেন।
এবারের কংগ্রেসে বিদেশি ভাতৃপ্রতীম পার্টির নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা কংগ্রেসে পাঠ করা হবে।
জুলাই আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিতব্য এই কংগ্রেস ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বর্ণনা করে লিখিত বক্তব্যে মিহির ঘোষ বলেন, "এই কংগ্রেসে আমরা গণঅভ্যুম্মানের মূল আকাঙ্খা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের কর্মপণথা নির্ধারণ করব।"
"এমন এক সময় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। সারা দেশে নিরাপত্তাহীনতা, মবসন্ত্রাস, ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্দশা দিন দিন বাড়ছে।"
সরকার তার রুটিন দায়িত্বের বাইরে এমনসব কাজ হাতে নিচ্ছে ‘যা সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের পরিপন্থি’ মন্তব্য করে মিহির ঘোষ বলেন, "বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে হস্তান্তর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হবে।"
জুলাই-অগাস্ট মাসে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার, নিহত পরিবার পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসা, এই সবকিছুই এখনও অনিশ্চয়তায় বলেও মন্তব্য করেন মিহির ঘোষ।
তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে সরকার শুধু কালক্ষেপণ করছে। সম্ভাব্য নির্বাচনের সময় জানানো হলেও জনমনে নানা প্রশ্ন ও সংশয় রয়ে গেছে। এই বাস্তবতা অতিক্রমে, বিকল্প করণীয় ও রাজনৈতিক পথনির্দেশ কংগ্রেসে গৃহীত হবে।
"গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ শুরু হয়েছে। ডানপন্থি সাম্প্রদায়িক শক্তি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পথ অনুসন্ধান ও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির সমাবেশ গড়ে তুলতে করণীয় নির্ধারণ কংগ্রেসের অন্যতম লক্ষ্য।"