Published : 12 Apr 2026, 06:01 PM
শেরপুরের উপনির্বাচন নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য’ দেওয়ার অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র একটি আস্থার জায়গা, যেখানে সরকার ও বিরোধী দলকে একে অন্যের ওপর ‘বিশ্বাস’ রাখতে হবে।
রোববার নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা ও মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ অনুষ্ঠানের পর সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ হুইপ। এ দিন বগুড়া ৬ ও শেরপুর ৩ আসনের নবনির্বাচিত ওই দুই সদস্যকে শপথ পড়ান স্পিকার।
চিফ হুইপ বলেন, “সংসদ অধিবেশন চলাকালে শেরপুরের নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিরোধী দলের এক সদস্য দাবি করেছিলেন, জামায়াতের একজন কর্মী নিহত হয়েছেন। তখন তিনি ‘ইন্না লিল্লাহ’-ও পাঠ করেন। পরে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি মারা যাননি এবং জীবিত আছেন।”
পরবর্তী অধিবেশনে ওই এমপির বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করবেন বলে জানান চিফ হুইপ।

তার ভাষায়, “এরকম কিছু ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যের উপর সিদ্ধান্ত হয়। মানুষ এ ক্ষেত্রে যাচাইও করে না। আমি বিশ্বাস করতে চাই, বাস্তবতা যাচাইয়ের নিরিখে উনারা (সংসদ সদস্য) দায়িত্ব পালন করবেন।”
নূরুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, কোথাও কোনো সমস্যার উদ্ভব হলে আপনারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন অথবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন। কিন্তু কেউ কখনো আইন হাতে তুলে নেবেন না। আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। কাজেই মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।”
এ সময় জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে সরকার আরও ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।
সংসদের সাম্প্রতিক আইন প্রণয়ন কার্যক্রম নিয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করেছে।
“চুলচেরা বিশ্লেষণের পর ১৬টি অধ্যাদেশে সংশোধনী প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেগুলো পরে বিল আকারে আনা হবে। আর ১১৭টি অধ্যাদেশ সংসদে পাস করা হয়েছে।”
চিফ হুইপ বলেন, “দেশের ইতিহাসে পাঁচ দিনে ১১৭ বিল পাশ করার রেকর্ড এই প্রথম ও নজিরবিহীন। এই প্রক্রিয়ায় সংসদ সচিবালয় ও বিজি প্রেসের সংশ্লিষ্টরা ‘নির্ঘুম রাত’ কাটিয়ে কাজ করেছেন।”
এত কিছুর পরও ছোট দুটি সংশোধনী নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটকে তিনি ‘দুঃখজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
জুলাই জাদুঘর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭১ সাল, ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালের বাকশাল, ১৯৯০ এর গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে একত্র করে জুলাই জাদুঘর সমৃদ্ধ করতে চায় সরকার।