Published : 17 May 2026, 06:11 PM
রাজধানীর বেইলি রোডে দুই বছর আগে গ্রিন কোজি কটেজ নামে একটি বহুতল আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর মামলায় আত্মসমর্পণের আবেদন করেও পরে তা প্রত্যাহার করেছেন আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের স্বত্বাধিকারী রমজানুল হক নিহাদ।
তবে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন মামলার আরেক আসামি হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী আদিব আলম।
রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত আদিবের জামিনের আদেশ দেন। একই আদালত থেকে আত্মসমর্পণের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে নিহাদ তা প্রত্যাহার করে নেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ১৯ এপ্রিল এ দুই আসামিসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। আজ তারা দুইজন আত্মসমর্পণের আবেদন করে জামিন আবেদন করেন।
আদিবের পক্ষে অ্যাডভোকেট হাদিউজ্জামান জামিন চেয়ে শুনানিতে তিনি বলেন, “ওই ভবনে যে হাক্কা ঢাকা রেস্টুরেন্ট ছিল, তার মালিক এ আসামি না। তার নামে তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুরে সাত মসজিদ রোডে দুটি রেস্টুরেন্ট রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নাই। স্বেচ্ছায় জামিন নিতে এসেছি। জামিন দিলে পলাতক হবো না।"
রমজানুল হক নিহাদের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, “তিনি (আদিব) ডেভেলপার। ২০১৫ সালে বিল্ডিংটি হ্যান্ডওভার করেন। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভবন মালিকদের সতর্কতামূলক নোটিস দেন। আর ঘটনার সময় তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন।"
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। প্রত্যেকের যোগসাজশে সুপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আগুনের সময় কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যেন কেউ বিল না দিয়ে যেতে না পারে। ধোঁয়ায় আটকা পড়ে অনেকে মারা গেছে।”
জামিনের বিরোধিতা করে উভয় আসামিকেই কারাগারে পাঠানোর আর্জি জানান তিনি।
জবাবে আসামিপক্ষ থেকে বলা হয়, এ মামলায় অনেকে মামলায় জামিনে আছে।
উত্তরে শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, “যারা জামিনে আছেন, তারা জেল খেটেই জামিন পেয়েছেন।”
পরে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ১৯ মে পর্যন্ত আদিবের জামিনের আদেশ দেন। আর নিহাদের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমান রাখেন। পরে নিহাদের পক্ষে তার আইনজীবী আত্মসমর্পণের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।
গ্রিন কোজি কটেজে আগুনে প্রাণহানির ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের মালিকসহ ২২ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র আমলে গ্রহণ করে আদালত। ওইদিন পলাতক ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়।
এর আগে ২ এপ্রিল মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর শাহজালাল মুন্সী।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রিন কোজি কটেজ সাততলা ভবনে আগুনে ৪৬ জন প্রাণ হারায়। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও ৮ জন শিশু। জীবিত উদ্ধার করা হয় ৭৫ জনকে।
ওই ঘটনায় রমনা মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম মামলা করেন। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি।