Published : 15 Apr 2026, 07:37 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করতে আবারো বৈঠকে বসছেন জামায়াতে ইসলামীমর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতারা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকার মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে এ বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ এর সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
বুধবার বিকালে তিনি বলেছেন, আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বৈঠক হবে।
জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকের পর দুপুরে ব্রিফিং করবেন জোটের নেতারা।
জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট। এর মধ্যে দুই দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে তারা।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।
মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে ১ এপ্রিল সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করে বিরোধী দল।
২ এপ্রিল জোটের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ এপ্রিল বিকালে ঢাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
এরপর ৭ এপ্রিল জোটের শীর্ষনেতাদের বৈঠক হয়, সেখান থেকে চার দিনের কর্মসূচির সিদ্ধান্ত আসে। ৯ এপ্রিল শাহবাগে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে শুরু হয় গণসংযোগের কর্মসূচি। ১১ এপ্রিল সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সেমিনার করেছে ১১ দল।
এর মধ্যেই শুক্রবার সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাস ভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে ‘ওয়াকআউট’ করেন বিরোধী সদস্যরা। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল পাসের সময় সংশোধন নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে ‘ওয়াকআউট’ করেন তারা।