Published : 19 Jul 2026, 05:31 PM
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এছাড়া বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথা বলছিলেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপি একটি ‘উদার গণতান্ত্রিক’ রাজনৈতিক দল বর্ণনা করে তিনি বলেন, তারা জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করেন।
'ফ্যাসিবাদী শাসনের' অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে।”

জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলেও আশা রাখেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের উদ্দেশ্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা সত্য তুলে ধরতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের অবদান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রসঙ্গ উঠে আসে তার বক্তব্যে।
এসব ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।