Published : 19 Jul 2026, 09:01 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দুই অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যরা নিয়মিত সরকারের সমালোচনা করেছেন।
বিল স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো, জনমত যাচাই এবং বিভিন্ন ধারায় সংশোধনীর প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।
পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে দাঁড়িয়েছেন, কয়েক দফা ওয়াকআউটও করেছেন বিরোধীরা।
তবে সেসব আপত্তি আইন প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, দুই অধিবেশন শেষে সেই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে।
বিরোধী দলের অভিযোগ, বিষয়টি শুধু বক্তব্যের জন্য কতটা সময় দেওয়া হচ্ছে, তা নয়। কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন শর্ত শিথিল করে বিল উত্থাপন ও পাস করায় আইন যাচাই, প্রচলিত আইনের সঙ্গে তুলনা ও সংশোধনী তৈরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এতে বিরোধী দলের পাশাপাশি আইন প্রণয়নে সংসদের ভূমিকাও দুর্বল হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য হলো, বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত কিংবা জরুরি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখা যায় না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদের পর্যবেক্ষণ, প্রথম দুই অধিবেশনে বিরোধীরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ কম পাননি। বিরোধীদলীয় নেতা বা অন্য সদস্যরা দাঁড়ালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন স্পিকার।
তবে একই দিনে ৬৭ ধারার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল’ উত্থাপন ও পাসকে প্রচলিত সংসদীয় রীতির ব্যতিক্রম হিসেবে দেখছেন এই সংসদ বিশ্লেষক।

প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশের চাপ
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলে ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উঠেছিল। সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় অধিবেশনের শেষ ছয় কার্যদিবসে ৯১টি বিল পাস করা হয়।
অধ্যাদেশগুলো যাচাইয়ের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি করা হয়। কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রেখে এবং ১৫টি সংশোধন করে বিল হিসেবে পাসের সুপারিশ দেয়। চারটি রহিত এবং ১৬টি আরও যাচাই করে পরে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়।
গণভোট, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং তথ্য অধিকারসহ কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী সদস্যরা লিখিত ভিন্নমত দেন। ফলে দ্রুত অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি হলেও বিশেষ কমিটিতে বিরোধীরা কিছু বিষয়ে নিজেদের অবস্থান নথিভুক্ত করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
তবে সেই কমিটির একটি সিদ্ধান্ত পরে সংসদে বদলে যাওয়ায় ‘সমঝোতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করেছিল বিশেষ কমিটি। কিন্তু সংসদে বিলটি তোলার পর সরকারি দলের একজন সদস্যের সংশোধনী গৃহীত হয়। এতে জাদুঘরের পর্ষদের সভাপতির পদে বাইরের একজন বিশেষজ্ঞের বদলে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে রাখার বিধান যুক্ত হয়।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম একে ‘দিন-দুপুরে ছলচাতুরি’ বলে মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্য ছিল, বিশেষ কমিটির সমঝোতা অনুযায়ীই সরকার বিলটি সংসদে তুলেছে। পরে একজন বেসরকারি সদস্যের সংশোধনী কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়েছে।
বিরোধীদের আপত্তি ছিল, কমিটিতে সমঝোতার পর অধিবেশন কক্ষে ক্ষমতাসীন দলের সংশোধনীতে তা বদলে গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমঝোতার ওপর আস্থা রাখা কঠিন হবে।

দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ
দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশন চলে ৭ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত। ২৬ কার্যদিবসের এ অধিবেশনে বাজেটের পাশাপাশি ১০টি সরকারি বিল পাস হয়। বাজেটের ওপর ১৪ কার্যদিবসে ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট আলোচনা হয়; অংশ নেন ৩১৬ জন সদস্য।
কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে মুলতবি প্রস্তাবের ৭১৫টি নোটিস জমা পড়ে। এর মধ্যে ২৪টি গৃহীত হয় এবং ২২টির ওপর আলোচনা হয়। তবে কতটি নোটিস সরকারি এবং কতটি বিরোধী দলের সদস্যরা দিয়েছিলেন; দুই পক্ষের কতটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল এবং বিরোধীদের কতটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছিল, সেই দলভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করেনি সংসদ সচিবালয়।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাদের অভিযোগকে শুধু বক্তব্য দেওয়ার সময় কম পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখলে মূল সমস্যা ধরা পড়বে না।
তার অভিযোগ, বিল পরীক্ষা, সংশোধনী প্রস্তুত এবং আগের আইনের সঙ্গে তুলনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও নথি না দিয়েই কার্যপ্রণালি বিধির শর্ত স্থগিত করে বিল পাস করা হচ্ছে। এতে বিরোধী দলের পাশাপাশি আইন প্রণয়নে সংসদের ভূমিকাও সংকুচিত হচ্ছে বলে তার ভাষ্য।
ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও বিরোধীদের সেসব বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সমান সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২৮ জুন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় সংশোধন বিল উত্থাপনের সময় বিরোধীরা আগে বিলের কপি না পাওয়ার অভিযোগ তোলে।
নাজিবুর রহমান সংসদে বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে বিলের কপি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই শর্ত শিথিল করা হলে তা সংসদকে জানানো উচিত ছিল। আগের আইনের সঙ্গে বিলটির তুলনামূলক বিবরণও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদের নথি তুলে ধরে বলেন, ১৫ জুন বিলটির নোটিস এবং ২৩ জুন কপি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে রেকর্ড আছে, সেই রেকর্ড মোতাবেক তিন দিনের আগেই নোটিসগুলো দেওয়া হয়েছে এবং কপি দেওয়া হয়েছে।”
এরপর জামায়াতের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার জানান, সেটি নেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিবাদে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদের মতে, সব বক্তব্য পয়েন্ট অব অর্ডারে তোলার বিষয় নয়। দৃষ্টি আকর্ষণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা কিংবা কার্যপ্রণালি বিধির অন্য বিধানেও অনেক বিষয় তোলা যায়।
তার পর্যবেক্ষণ, বিরোধীদলীয় নেতা ও অন্য সদস্যরা দাঁড়িয়ে কথা বলতে চাইলে স্পিকার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের সুযোগ দিয়েছেন।
“কোন বিষয়টি তুলতে চেয়েও তারা পারেননি, বিরোধীদের সেটি সুনির্দিষ্টভাবে দেখানো দরকার।”
বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য প্রথমবার সংসদে আসায় কার্যপ্রণালি বিধির বিভিন্ন সুযোগ ব্যবহারে তাদের আরও সময় লাগবে বলেও মনে করেন তিনি।

২৮ মিনিটে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ বিল
দ্বিতীয় অধিবেশনে বিরোধীদের সবচেয়ে তীব্র আপত্তি আসে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’ নিয়ে।
৬৭ ধারার বিলটি অধিবেশনের শেষ দিনে একই সঙ্গে উত্থাপন ও পাস হয়। উত্থাপনের অনুমতি চাওয়া থেকে পাস পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ২৮ মিনিট।
বিলটির মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠনের বিধান করা হয়েছে। রহিত করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট চারটি আইন।
বিরোধী সদস্যরা বিলটি স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো, জনমত যাচাই এবং সংশোধনী দেওয়ার সময় চেয়েছিলেন।
সেসময় নাজিবুর রহমান সংসদে বলেছিলেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে বিলটি পড়ে আগের আইনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা, সংশোধনীর প্রস্তাব তৈরি কিংবা জনমত যাচাইয়ের দাবি তোলা সম্ভব নয়।”
পরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মন্ত্রিসভা ও রাষ্ট্রপতির সুপারিশের প্রক্রিয়ায় কয়েক দিন সময় গেলেও সংসদ সদস্যদের বিলটি যাচাই ও সংশোধনী দেওয়ার জন্য কার্যত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল।
তার অভিযোগ, কার্যপ্রণালি বিধির ৮৩ বিধির আওতায় সংশোধনী ও আলোচনার বাস্তব সুযোগ না দিয়েই বিলটি পাস করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ যুক্তি দেখান, প্রতিটি বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়। একই ধরনের কাজ করা তিনটি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা চুক্তির অপেক্ষায় থাকায় অধিবেশনের শেষ দিনের মধ্যে বিলটি পাস করা জরুরি ছিল।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির সংশ্লিষ্ট শর্তগুলো আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। ফলে লিখিত সংশোধনী গ্রহণ করে সদস্যদের মধ্যে বিতরণের সময় ছিল না।
নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, জরুরি প্রয়োজনে স্পিকার বিধির শর্ত স্থগিত করে একই দিনে বিল উত্থাপন ও পাসের সুযোগ দিতে পারেন। ফলে প্রক্রিয়াটি বেআইনি নয়।
তবে সংসদীয় রীতি অনুযায়ী বিল উত্থাপনের পর সাধারণত তা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে যায়। স্থায়ী কমিটি না থাকলে বাছাই বা বিশেষ কমিটিতেও পাঠানো যেত।
তার মূল্যায়ন, একই দিনে বিলটি পাস কার্যপ্রণালি বিধির মধ্যে হলেও প্রচলিত সংসদীয় রীতির ব্যতিক্রম।

সংবিধান কমিটিতে যাবে না বিরোধীরা
দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও তারা সদস্যদের নাম দেয়নি।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদে বলেন, কয়েক দফা নাম চাওয়ার পরও বিরোধীরা সাড়া দেয়নি। পরে নাম দিলে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা কখনো বলি নাই যে আমরা নাম দেব। আমরা কনসেপচুয়ালি এটাকে একসেপ্ট করি নাই।”
তার অভিযোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কাজ করতে না দিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া ‘বাইপাস’ করা হচ্ছে। বক্তব্য শেষে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন।
সরকারের অবস্থান হলো, বর্তমান সংবিধানের আওতায় থেকেই সংশোধন আনতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও আগে সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন। সেই আলোচনার জায়গা হচ্ছে বিশেষ কমিটি।
নাজিবুর রহমান বলেন, বিশেষ কমিটিতে সদস্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ তারা দেখছেন না। তিনি বলেন, “এখানে আমাদের অংশগ্রহণ করার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার পর জুলাই জাতীয় সনদ হয়েছে এবং গণভোটে জনগণ রায় দিয়েছে। এখন আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও অন্য অংশীজনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হলে সংস্কার বাস্তবায়নের বদলে আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পথ তৈরি হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকায় বিরোধীদের নেওয়া একটি শপথ কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার বক্তব্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংশোধন করে সংস্কার পরিষদের ছয় মাসের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো সম্ভব। সরকার মেয়াদ বাড়িয়ে পরিষদের অধিবেশন ডাকলে বিরোধীরা সেখানে বসে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়।
তবে সংসদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলেননি তিনি। সংসদের ভেতরে বক্তব্য, নোটিস, সংশোধনী, বেসরকারি বিল এবং প্রয়োজনে ওয়াকআউটের মাধ্যমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদের মতে, শেষ পর্যন্ত যে পরিবর্তনই আনা হোক, তা সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবেই পাস হতে হবে। সে কারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন অযৌক্তিক নয়।
তবে প্রধান বিরোধী জোটকে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি করা গেলে এর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি হতো বলে মনে করেন তিনি।
তার মূল্যায়ন, “প্রথম দুই অধিবেশন দেখেই সংসদকে একপক্ষীয় বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে। সরকার ও বিরোধী দলের আচরণ বোঝার জন্য আরও কয়েকটি অধিবেশন দেখতে হবে।”
আরো পড়ুন-
যাত্রা শুরু ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের
সংসদের প্রথম অধিবেশনে উঠছে ১৩৩ অধ্যাদেশ