Published : 24 Apr 2026, 05:03 PM
ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদকে (জকসু) তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন জকসুরই চার নেতা।
শুক্রবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনে সংবাদ সম্মেলনে করে তারা এ অভিযোগ সামনে আনেন। অভিযোগকারীরা ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল থেকে জকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ চারজন হলেন—সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তাকরিম আহমেদ, পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হোসেন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক রিয়াসাল রাকিব ও নির্বাহী সদস্য সাদমান আমিন (সাদমান সাম্য)।
সংবাদ সম্মেলনে রিয়াসাল রাকিব বলেন, “জকসুর আগে ছাত্রশিবির তার ব্যানারে পলিটিক্স করেছে, কিন্তু জকসুর পরে তারা শিবিরের ব্যানারে একটিও না করে জকসুকে ব্যবহার করছে। গত রাতেও জকসুর আয়োজনে প্রতিবাদ মিছিলে জকসুর জিএস ‘ছাত্রদলকে নামিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন, এমন বক্তব্য কীভাবে একজন জকসু নেতা দিতে পারেন?
“এটা তো শিবির সভাপতি হিসেবে তার বক্তব্য হওয়া উচিত ছিল। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাব—সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করবেন না। আর আপনারা এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে আমরাও যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
শাহবাগ থানা প্রাঙ্গণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার রাত পৌনে ১২টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জকসু। এসময় ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে জকসুর জিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, “আমরা বলে দিতে চাই, যদি আপনাদের শুভ বুদ্ধির উদয় না হয়, এই ক্যাম্পাসগুলো থেকে যেভাবে আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে তাড়ানো হয়েছে, আপনাদেরকেও তাড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ। ভবিষ্যতে যদি আবার ফ্যাসিস্ট হতে চান, দেড়-দুই মাসের ভেতরে আপনাদেরকে তাড়াব আমরা ইনশাআল্লাহ।”
সংবাদ সম্মেলনে জকসু নেতা তাকরিম আহমেদ বলেন, “আমরা মোট পাঁচজন যারা ছাত্রশিবিরের বাইরে থেকে নির্বাচিত হয়েছি; তারা আগে থেকেই একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে চাপিয়ে দেয়। আমরা যদি কোনো কিছুতে মতামত দিই, তবে আমাদের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে তারা নিজেরা দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তা জকসুতে বাস্তবায়ন করে।
“আমার তো মনে হয়, জকসুর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে সভাপতি ভিসি স্যারকেও অবগত করা হয় না; তারও তো এখানে কোনো বক্তব্য থাকতে পারে।”
প্রতিষ্ঠার দুই দশক বাদে গত ৬ জানুয়ারি জকসুর প্রথম নির্বাচন হয়। এতে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ ছাড়াও মোটাদাগে আরো তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যাতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ছাত্রশিবির, ইনকিলাব মঞ্চ ও আপ বাংলাদেশের প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’।
এই প্যানেলের বাইরে নির্বাচিত প্রতিনিধি যারা রয়েছেন, তাদের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয় না বলে অভিযোগ জকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক তাকরিম আহমেদের।
তার ভাষ্যে, “আমরা আমাদের পদের অধিকার বলে যে কাজগুলো করি, এই কাজগুলো জকসুর পেইজে দেওয়া হয় না; অথচ তারা কোনো কাজ না করে কারো সাথে কথা বললেই তা জকসুর পেইজে দেওয়া হয়। এইতো কিছুদিন আগে নববর্ষেও এত বড় প্রোগ্রাম নামালাম তা কিন্তু জকসুর পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়নি, কারণ আমি তাদের প্যানেলের লোক না।
“অথচ এই পেইজের অ্যাকসেস যেন আমাদের একজনকে দেওয়া হয়, সেই দাবি জানিয়েছিলাম; কিন্তু তারা বলল, ‘শুধুমাত্র ভিপি-জিএস এবং এজিএসের কাছে এর অ্যাকসেস থাকবে, অন্য কারো কাছে থাকবে না’।”
এর আগে সকালে অভিযোগকারীদের তরফে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “জকসু নির্বাচনের পর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ জকসুর প্লাটফর্মকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে, যা নির্বাচিত ছাত্রসংসদের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবগত রয়েছেন, জকসু নির্বাচনের পূর্বে ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে যে-সব ইশতেহার দেওয়া হয়েছিল, নির্বাচনের পর তারা তাদের ইশতেহারের একটিও এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি, বরং তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি সক্রিয় দেখা যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জকসুর জিএস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার সাড়া মেলেনি।