১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রামিসা হত্যাকাণ্ড ‘থাই পাহাড়ের মত ভারী হয়ে আছে’: সংসদে আইনমন্ত্রী

“আজকে রামিসার বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট, আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।”

রামিসা হত্যাকাণ্ড ‘থাই পাহাড়ের মত ভারী হয়ে আছে’: সংসদে আইনমন্ত্রী
সংসদে বিবৃতি দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jun 2026, 07:00 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:21 PM

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সি স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে ‘থাই পাহাড়ের মতো ভারী’ বলে বর্ণনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সংসদে এক বিবৃতিতে চীন বিপ্লবের নেতা মাও জে দং এর উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মত ভারী হয়ে আছে।” 

রোববার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

‘সবচেয়ে কম সময়ে’ বিচারের নজির হওয়ার দিনে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

এদিন বিকালে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরু বসেছে। দেশের সাম্প্রতিক সময়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বা জরুরি জনস্বার্থে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী ৩০০ বিধিতে সংসদে বিবৃতি দিতে পারেন। এই বিধিতে কোনো প্রশ্ন করার বা বিতর্কের সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে আমরা (রামিসা) হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুইজন আসামি, মূল আসামি সোহেল এবং তার সহযোগী স্ত্রী, তাদের আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ডের রায় পেয়েছি। 

“মাও জে দং এর একটি ঐতিহাসিক উক্তি আছে, কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মত ভারী, কোনো কোনো মৃত্যু পাখির পালকের মত হালকা।”

আদালতে আসমি সোহেল রানা

আদালতে আসমি সোহেল রানা

তিনি বলেন, “রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মত ভারী হয়ে আছে। আর যদি এই ফাঁসির আসামিদেরকে আমরা ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে তাদের মৃত্যু ঘটাতে পারি তাহলে সেটা আমাদের জাতির কাছে পাখির পালকের মত হালকা হিসেবে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস রাখি। 

“এটুকুই ছিল আমাদের পক্ষ থেকে এই মহান জাতীয় সংসদ এবং জাতির কাছে আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “সেদিন আমরা বলেছিলাম, আমাদেরকে যখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন রামিসার বাবা বিচার চান নাই… এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য কি?

“আমরা বলেছিলাম এর একমাত্র জবাব হবে তাকে সেই আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া। আজকে রামিসার বাবা বলেছেন, এই বিচারে উনি সন্তুষ্ট, আমরা তার আস্থার জায়গা ফিরিয়ে দিতে পেরেছি ।”

সকালে রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায় সংসদকে অবহিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, “গত ১৯ মে ঢাকা শহরের পল্লবী এলাকায় একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল, আপনারা সবাই দেখেছেন। সেই নৃশংস ঘটনার পর আট ঘণ্টার মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী দুইজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তিনিও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, “ওইদিন ভিকটিমের বাবার একটি আহাজারী ছিল যে, উনি বিচার চান না। কারণ এদেশে এ ধরনের ঘটনা বিচার হবে না। আমরা আশ্বস্ত করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন এই ঘটনার আমরা বিচার করতে বদ্ধপরিকর।”

বিবৃতিতে তদন্ত ও বিচারের ধাপগুলো তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী।

আদালতে আসামি স্বপ্না আক্তার

আদালতে আসামি স্বপ্না আক্তার

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনী পাঁচ দিনের মাথায় সুষ্ঠ তদন্ত করে ঈদের আগে ২৪ মে দুপুর ১২টায়। বিকাল ৪টার মধ্যে সেই অভিযোগপত্র চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।

দেশের নিম্ন আদালত, ম্যাজিস্ট্রেসি বাদ দিয়ে নিম্ন আদালত ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা, এ বিষয়টি মাথায় ছিল তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখতে সক্ষম হন।

বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তর তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “২৪ তারিখে চার্জশিট পাওয়ার পর পরই আমরা যখন দেখেছি যে আসামি পক্ষ কোনো আইনজীবী দেয়নি। তাদের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অন্যতম একটা প্রক্রিয়া ছিল। আমরা আইনের বিধান মেনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ২৪ তারিখেই আসামিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দিতে সক্ষম হই।”

তিনি বলেন, ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ৩ জুনে এই মামলায় আসামি পক্ষ কোনো সাক্ষী দিতে চান কিনা সেই ধরনের একটি দিন ধার্য রাখা হয়। ৪ জুনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন জন্য দিন ধার্য করা হয়। 

“৫ ও ৬ জুন শুক্র-শনি ছুটি থাকাতে ৭ জুন আজকে ছিল আজকে রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল এবং রায় যথারীতি ঘোষিত হয়েছে।” 

রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন,  আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘কার্যকর করা সম্ভব’ হবে। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।