Published : 18 Apr 2026, 08:21 PM
সরকার গঠনের পর থেকে দুই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া ৬০টি পদক্ষেপকে ‘সরকারের অবিস্মরণীয় অর্জন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
শনিবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপি সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মাহদী আমিন, যিনি একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দায়িত্ব নেওয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে যেভাবে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে, প্রতিটি খাতে এবং গণমানু্ষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা অবিস্মরণীয় অর্জন।
“জনগণের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে গত দুই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে যেসব কার্য্কর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার মধ্যে ৬০টি উল্লেখ্যযোগ্য।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মেয়াদ দুই মাস পূর্ণ হয়েছে শুক্রবার ১৭ এপ্রিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া এ সরকারের দুই মাসপূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মাহদী আমিন বলেন, ‘‘দেশের সরকার, রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশের মানুষের সেই আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতমূলক ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন যা এক অনন্য অর্জন।

‘‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলেই আমরা আরো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ।”
প্রধানমন্ত্রীর ৬০ পদক্ষেপ হচ্ছে- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড পাইলট প্রকল্প, ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার, খাল খনন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি অব্যাহত রাখা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গুরুর মাসিক সন্মানি প্রদান, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিয়োগ, ঈদুল ফিতরের সময়ে সারাদেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ, যাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিগগিরই প্রবাসী কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত, হজ যাত্রার খরচ টিকিট প্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো, দেশের মাটিতেই হজযাত্রীদের ‘নুসুক হজ কার্ড’ প্রদান, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্য ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০ পদ পুরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা, সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ, স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা তৈরি করে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ নির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচবছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রত্যাবাসনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন-বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ, মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার খুলে দেওয়া, বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ, বিদেশে দক্ষ ও আধা দক্ষ জনশক্তির রপ্তানির উদ্যোগ, উত্তরবঙ্গে এগ্রো প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির হাব গড়ে তোলা, পে-পাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার জন্য এক লাখ নতুন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের ঘোষণা, ই-হেলথ কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত, হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েনের উদ্যোগ, প্রতিবছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, সকল স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা, বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক ও শূন্য পদে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ, উপজেলা পর্যায়ে ছয়টি খেলায় তিনজন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, মহানগর পর্যায়ে উন্মুক্ত খেলার মাঠের সংস্থান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি হতে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, নতুন কুঁড়িতে ক্রীড়া ও কোরআন তেলোয়াত সংযুক্ত করা, জাতীয় সংসদের গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ, দেশবাসীকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে বেসরকারি খাতের সাথে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের তৈরির ব্যাগ বিতরণ, স্কুল পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার ও ওয়ান ট্যাব’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পাইলট কাযর্ক্রম শুরু, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লানিং উইথ হ্যাপিনেস, কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি যুক্ত করে শিক্ষাক্রমকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ, মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ, স্পোটর্স কার্ড ও স্পোটর্স অ্যালাউন্স চালু, শতাধিক ক্রীড়াবিদকে ভাতা প্রদান, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় দেড় কোটি বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন, দলালদের হস্তক্ষেপ বন্ধের নামজারি ও সেবাগ্রহীতাদের অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করা, অনলাইনে ভূমি কর ব্যবস্থা চালু, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প গ্রহণ, এমপি-মন্ত্রীদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করা, সরকারি অফিস ও বেসরকারি শিল্পখাতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহারের নির্দেশনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হামের টিকা কর্মসূচি চালু, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, জনবান্ধব পুলিশ গঠনের উদ্যোগ, ঢাকায় ইলেকট্রিক বাস ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত পিংক বাস সার্ভিস চালু, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত, বিদ্যুৎ ও অর্থ অপচয় রোধে রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিত করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১১টি নির্দেশনা জারি, এনটিআরসির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষার মেধাভিত্তিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা, ফুটপাতে ব্যবসায়ীদের পুনবার্সনে ভিন্ন স্থানে ব্যবসা পরিচালনার উদ্যোগ, বহুমত ও কণ্ঠের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা, মুক্ত ও নিরাপদ মত প্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যমক ও বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ রাখা, হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, ঢাকার শাহজালাল, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থা, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উদ্বোধন, চলন্ত ট্রেনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার উদ্যোগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিকায়নে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি ও ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই ফাই চালু করার সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া, প্রবাসীদের জনকল্যাণ, দূতাবাস এবং মিশনগুলাকে বাণিজ্যের প্রচার, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বৈদেশিক জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি অন্যতম অগ্রাধিকার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী এবং স্বাভাবিক করা উদ্যোগ, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ সুবিধা, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ দ্বিপাক্ষিক সম্ভাবনার দুয়ার খোলা উন্মোচন করা, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা, উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা, মানবাধিকার রক্ষায় রেকর্ড স্থাপন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তেলের দাম না বাড়িয়ে জনস্বার্থে ভর্তুকি বাড়ানো, বিকল্প উৎস থেকে ক্রয় করার উদ্যোগ, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কুটনীতিতে তেলের সংস্থানকে প্রাধান্য এবং আন্তর্জাতিক দর কষাকষিতে বিশেষ গুরত্ব প্রদানের বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ, ফুয়েল কার্ড পাইলটিং প্রজেক্ট চালু, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সোলার বা সৌর শক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র।
রাষ্ট্রীয় ভবন যমুনা ব্যবহার না করে গুলশানে নিজের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর থাকা, নিজের গাড়ি ব্যবহার করা, নিজস্ব খরচে জ্বালানি ব্যবহার করা, রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাস, ভিভিআইপি প্রটোকল না নিয়ে ‘অতি সাধারণ’ চলাফেরা করা, প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের সময়ে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করার মত পদক্ষেপকে ‘যুগান্তকারী‘বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।

‘প্রধানমন্ত্রীর ওপরে জনগণের বিশাল আস্থা’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণ যেভাবে সরকারকে অবিশ্বাস করা শুরু করেছিল, নেতা-মন্ত্রীকে অবিশ্বাস করা শুরু করেছিল, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, গত দুই মাসে সরকারের উপর আস্থা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরে আস্থা ফিরে এসেছে। তিনি জনগণের মধ্যেই থাকছেন, জনগণের মধ্যেই হাঁটছেন, তিনি নিরাপত্তার তোয়াক্কা করছেন না।
“জনগণের কাছে যেসব আশা-প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের সরকারের এই ৬০ দিনে সব চাইতে বড় অর্জন বাংলাদেশের জনগণ জনাব তারেক রহমানকে বিশ্বাস করেছেন, তারেক রহমান জনগণকে বিশ্বাস করেছেন।”
‘প্রধানমন্ত্রী চান দেশের ভালো কাজগুলো হোক’
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান দেশের ভালো কাজগুলো হোক। তার মধ্যে একটি জিনিস আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি যুদ্ধ- যে যুদ্ধে জ্বালানি তেলের সংকট (তৈরি হয়েছে)। এটা ছাড়া আমার মনে হয়, অন্যান্য প্রশাসনিক এবং যে খারাপ কাজগুলো দুষ্ট লোকেরা করছিল এগুলো কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক কমে গেছে।”
উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব নাজমুল হক খান ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।