বিএনপিকেও হাসপাতালে নেওয়া দরকার: ওবায়দুল কাদের

তার ভাষায়, ‘নেতিবাচক, ধ্বংস আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে’ বিএনপি নেতারা পুরো দলকে ‘অসুস্থ করে ফেলেছেন’।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2023, 11:08 AM
Updated : 16 Jan 2023, 11:08 AM

বিএনপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতার হাসপাতালে ভর্তির খবরে তাদের অসুস্থতা নিয়ে নিজের মত করে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘নেতিবাচক, ধ্বংস আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে’ বিএনপি নেতারা পুরো দলকে ‘অসুস্থ করে ফেলেছেন’। এ অবস্থায়  পুরো বিএনপিকেই ‘হাসপাতালে নেওয়া দরকার’।

সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সমাবেশে ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য আসে। ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও অব্যাহত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে’ এই সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। 

‘সরকার হটানোর’ যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিন মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর। সে দিকে ইংগিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে জনগণের জানমাল রক্ষা আওয়ামী লীগের ‘নৈতিক দায়িত্ব’।

"কেউ আগুন নিয়ে সন্ত্রাস করবে, কেউ লাঠি নিয়ে খেলতে চাইবে, কেউ অশান্তি সৃষ্টি করবে, রাস্তা অবরোধ করবে, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলবে, সেই অবস্থায় জনগণের জানমাল রক্ষায় আমরা জনগণের পাশে আছি। সেজন্যই আজকের এই শান্তি সমাবেশ, শান্তিপূর্ণ অবস্থান। আর ওদের আয়োজন হচ্ছে অশান্তি-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য।"

বিএনপি নেতাদের অসুস্থতার প্রসঙ্গ ধরে এ সময় তিনি বলেন, “অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাবেন। আমিও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গিয়েছি বারবার। বিএনপি নেতারা অসুস্থ হলে হাসপাতালে যাবেন, এটা নিয়ে কটাক্ষ করা যাবে না। তবে অসুস্থ রাজনীতি করে অসুস্থ হলে সেই অসুস্থ বিএনপিকেও হাসপাতালে যেতে হবে।

“তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। অসুস্থ রাজনীতি করে বিএনপি অসুস্থ হয়ে গেছে। নেতিবাচক, ধ্বংস, ষড়যন্ত্র, মানুষ হত্যার, ভোট চুরি, দুর্নীতির রাজনীতি করে বিএনপি অসুস্থ হয়ে গেছে, হাসপাতালে তাদের যাওয়া দরকার।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "অসুস্থ মানুষ যদি হাসপাতালে যায়, অসুস্থ রাজনৈতিক দল যাবে না? সেটাকেও চিকিৎসা করা দরকার। বিএনপিকে এখন চিকিৎসা করা দরকার। ফখরুল সাহেব কী রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছেন? মির্জা আব্বাস সাহেব? জানি না। অসুস্থ হতেই পারেন। কিন্তু দলটাকে অসুস্থ করে ফেলেছেন এই নেতারা। গোটা দলটাই অসুস্থ হয়ে গেছে।"

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে কাদের বলেন, “আমরা এদেশে ভেসে আসিনি। ভাসতে ভাসতে আমরা আসিনি। আমাদের শেকড় বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে। আমাদের শেকড় বাংলার জনগণের অন্তরে। আপনার সরকার পতন করবেন? বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে ক্ষমতা থেকে হটাবেন? আর বাংলার মানুষ চুপ করে বসে থাকবে? এটা মনে থাকার কোনো কারণ নেই।"

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার মত ‘সত্য বলার সামর্থ্য মির্জা ফখরুলের নেই’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমি সত্য কথা বলি, আর ফখরুলরা মিথ্যাচার করে। বিষোদ্গার করে, কথায় কথায় মিথ্যাচার, এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি। বিষোদ্গার করা তাদের রাজনীতি। দিনের আলোতে তারা রাতের অন্ধকার দেখে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ‘বিএনপির গা জ্বালার কারণ’ মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, "শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখলে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে, অন্তরে জ্বালা ধরে। জ্বালায় জ্বালায় জ্বলছে ফখরুল। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, চারিদেক শুধু ফ্লাইওভার, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট হচ্ছে, উন্নয়ন কাকে বলে। আজকে ছয় লেইন চলে গেছে টাঙ্গাইলে, যাচ্ছে রংপুর, যাবে বুড়িমারী, যাবে পঞ্চগড়, ঢাকা-চট্রগ্রাম।… টানেল উদ্বোধন হবে কিছুদিন পর। এখন ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে।

“এতসব উন্নয়নে বিএনপি আজকে সর্ষে ফুল দেখছে চোখের সামনে। এই উন্নয়ন তারা দেখতে পায় না। তারা করতে পারনি। তারা কী দেখাবে? কথা মালার চাতুরি, মিথ্যা কথা আর বিষোদ্গার; এছাড়া আর বাংলার জনগণকে তাদের কী দেখানো আছে? একটা উন্নয়ন আছে, যা তারা দেখাতে পারবে?”

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, "আপনারা প্রস্তুত হয়ে যান। কাজ আছে সামনে। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে হবে। মানুষের জানমাল নিয়ে খেললে খেলা হবে। মানুষের জানমাল নিয়ে খেললে আমরা ললিপপ খাব? হবে না। দুর্নীতি করবেন, অর্থপাচার করবেন… খেলা হবে। তুমুল খেলা হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা হবে। আন্দোলনে হবে, নির্বাচনে হবে, ফাইনাল খেলা আগামী জানুয়ারিতে। লড়তে হবে একসাথে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।"

আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে মন্তব্য করে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, "ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। সরকার হটাতে গিয়ে নিজেরাই হটে গিয়ে গরুর হাটে। শেখ হাসিনাকে হটাতে গিয়ে গোলাপবাগ গরুর হাটে। হায়রে রাজনীতি। হটানো ফটানো বাদ দেন। আসেন ঠাণ্ডা মাথায়। নির্বাচন হবে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন।

“আমেরিকার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ডোনাল্ড লু) বলেছেন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। আমাদের দেশে আইন দিয়ে নির্বাচন কমিশন হয়েছে সর্বপ্রথম। ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনের জন্য। ত্রুটিমুক্ত, অংশগ্রহনমূলক, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নির্বাচন কমিশন করবে।

“শেখ হাসিনার সরকার অন্যান্য দেশের মত রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সবই কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকারের অধীনে নয়। ভয় পাচ্ছেন কেন? ভয় পাওয়ার কারণ নেই। জানি, শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনে দেশের মানুষ খুশি, আর বিএনপির মন খারাপ, কারণ নির্বাচনে হেরে যাবেন। এজন্য ফখরুল মাঝে মাঝে রেগে যান। হেরে গেলে রেগে যায়। হারার আগে হারছেন কেন? এতই জনপ্রিয়তা সক্ষমতা দেখাবেন বললেন, তাহলে নির্বাচনে আসেন।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সমাবেশে বলেন, "বিএনপি-জামায়াত জানা-অজানা, অখাদ্য-কুখাদ্য ৫৪ দল আর ৪১ দফা নিয়ে তারা এক হয়েছে। ৫০ কেন, একহাজার দল হলেও শেখ হাসিনার সরকারকে কিছু করতে পারবেন না। ষড়যন্ত্র, নালিশ– এগুলো করতে পারবেন, শেখ হাসিনার সরকারকে কিছু করতে পারবেন না।"

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, "জনগণ বিএনপির সাথে নেই, আওয়ামী লীগের সাথে আছে। আওয়ামী লীগ জানে আন্দোলন কাকে বলে, কতো প্রকার ও কী কী। সুতরাং আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আছে এবং থাকবে।"

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক