Published : 24 Jul 2025, 03:47 PM
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তারের জন্য অন্তবর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সাবেক এই বিচারপতির ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ শাস্তি দাবি করে তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে বিচারকাজকে কেউ যাতে আর ব্যবহার করতে না পারে সেটি দেখতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “বিলম্বে হলেও যে এতদিন পরে তার (এবিএম খায়রুল হক) বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সরকার (অন্তবর্তী সরকার) সেজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
‘‘সঠিকভাবে তার তদন্ত হবে সব বিষয়গুলোর এবং সঠিকভাবে তার বিচার কার্য সম্পন্ন হবে সেটাই আমরা আশা করি।”
তিনি বলেন, “তবে এটা তো (শাস্তির বিষয়টা) আমার বলা ঠিক হবে না আইনগতভাবে যে বিধানগুলো আছে সেই বিধানগুলো দেখে তাকে প্রসিকিউট করে সেই বিধান নিশ্চিত করতে হবে। তবে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ ওই জায়গাটাতে বসে সেই জায়গা ব্যবহার করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে না পারে।”
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে দেশের ঊনবিংশতম প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অন্তত দুটি মামলা রয়েছে।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়।
এই গ্রেপ্তার নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাতে চাই যে, বাংলাদেশের একজন বড় শত্রু যিনি বাংলাদেশের একটা বিশাল ক্ষতি করেছেন একটা বিরাট পদে থেকে এবং সেই পদ থেকে তিনি বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করার ব্যাপারে দায়িত্বে ছিলেন, সেখানে তিনি সেই জায়গায় প্রতারণা আশ্রয় নিয়েছেন।
“তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে শর্ট যে রায় দিয়েছিলেন সেটা এবং পরবর্তীকালে পূর্নাঙ্গ যে রায় যাতে আকাশ ও পাতাল তফাৎ ছিল এবং যে রায়টা শর্ট দিয়েছিলেন সেটাও আমরা মনে করি, এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গেছে।”
রাজনৈতিক সংকট তৈরিতে সাবেক এই বিচারপতিকে ‘একশত ভাগ দায়ী’ করেছেন ফখরুল।
তিনি বলেন, “উনার (এবিএম খায়রুল হক) এর রায়ের পরে পরেই যে হয়েছে যে, আমাদের তত্ত্বাবধায়ক বিধানটা বাতিল হল এবং যেটা বাংলাদেশে পরবর্তীকালে যতরকমের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে জাতি তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
বিচার বিভাগ জনগণের অন্যতম আস্থা বর্ণনা করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা থেকে এবিএম খায়রুল হক দেশের মানুষের আস্থার জায়গা ‘ধ্বংস করেছেন’।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, “আরও যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।”
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা পত্রিকা পড়ে জানতে পেরেছি যে, শিশু একাডেমি যে ভবনটি কার্জন হলের উল্টো দিকে হাই কোর্টের পাশে সেই ভবনটিকে ভেঙে ফেলার জন্য কথাবার্তা চলছে বা এই ধরণের প্রক্রিয়া বা প্রস্তাব নেয়া হচ্ছে। আমরা এটার বিরোধিতা করি।”
মির্জা ফখরুল বলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই শিশু একাডেমির ভবন নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তিনিই প্রথম শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
“এটা সারাদেশে শাখা রয়েছে। সুতরাং এই প্রতিষ্ঠাকে এখান থেকে সরানোটা আমি মনে করি একেবারেই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না এবং এই ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য যে, আমরা চাই না যে, শিশু একাডেমি ভবনটি সেই জায়গা থেকে স্থানান্তরিত করা হোক বা অন্য জায়গা দেয়া হোক। এটা আমার মনে হয় জাতি গঠনের ব্যাপারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”
এই সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
‘উত্তরায় তিন শিশুর কবর জিয়ারত’
দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে এদিন সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি মহাসচিব।
বেলা ১১টায় তিনি উত্তরার দিয়াবাড়ির তারারটেকের কাছে একটি পারিবারিক কবরস্থানে যান। সেখানে এক পরিবারের তিন শিক্ষার্থীকে দাফন করা হয়।
মাইলস্টোন স্কুলের তিন শিক্ষার্থী আরিয়ান, হুমায়ূরা ও বাপ্পির পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। এরপর সেখানে আরও দুই শহীদ জুনায়েদ ও শারিয়ার করবও জিয়ারত করেন ফখরুল।
বিএনপি মহাসচিব নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথাবার্তাও বলেন।
এই সময়ে মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর সদস্য সচিব কফিল উদ্দিন, আফাজ উদ্দিন ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।