Published : 05 Oct 2023, 11:46 PM
‘তলে তলে আপস হয়ে যাওয়ার’ বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা জানতে চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এক পেশাজীবী কনভেনশনে তিনি প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা বলেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ও গণতান্ত্রিক পেশাজীবী ঐক্য পরিষদ নামে বিএনপিপন্থী দুটি সংগঠনের আয়োজনে এই কনভেনশন হয় ‘সরকারের পদত্যাগের এক দফা’ দাবিতে। সারা দেশ থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ দেড় সহাস্রাধিক প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল নেতা বলেন, ‘‘গতকাল ওদের (আওয়ামী লীগের) সাধারণ সম্পাদক সাহেব বললেন, দিল্লি আছে, আমরাও আছি, আমরা আছি, দিল্লি আছে। বাহ! প্রশ্নটা হচ্ছে কী বলতে চেয়েছেন?
‘‘দিল্লি কি আপনাদের অপকর্মগুলোতে ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে তোমার এবারও করতে থাক? বলছে যে দরকার নাই নির্বাচনের? দিল্লি কি বলেছে যে, বাংলাদেশে জোর করে নির্বাচন ঘোষণা কর? তাহলে পরিষ্কার করে বলেন।”
আগের দিন ঢাকার আমিনবাজারে আওয়ামী লীগের জনসভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, “কোথায় স্যাংশন, কোথায় ভিসা নীতি! তলে তলে আপস হয়ে গেছে, আপস হয়ে গেছে। দিল্লি আছে, আমেরিকারও দিল্লিকে দরকার। আমরা আছি, দিল্লিও আছে। দিল্লি আছে, আমরাও আছি। শত্রুতা কারও কাছে না, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব।”
ফখরুল বলেন, ‘‘আহহা, তাহলে স্বীকার করলেন যে, এখন পর্যন্ত ভয়ে ছিলেন! আপস হয়েছে কি হয়নি সেটা আপনারা স্বীকার করলেন, বললেন। আপনাদের মত মিথ্যা কথা পৃথিবীতে আর কেউ বলে না, পৃথিবীতে আর কোনো মিথ্যাবাদী খুঁজে পাবেন না।”
আঘাত এলে প্রত্যাখ্যাত
‘নির্বাচন নির্বাচন’ খেলায় কোনো লাভ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আগে পদত্যাগ কর, সংসদ বাতিল কর, নির্দলীয় সরকার গঠন কর, তারপরে নির্বাচন হবে। তার আগে নয়।”
বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, “তার মানে এই নয় যে, শান্তিপূর্ণ আঘাত করলে আমরা প্রত্যাঘাত করব না। এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য। সেটা হচ্ছে, আন্দোলন, আন্দোলন। আন্দোলনের মাধ্যমে এই ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার, জনগণের পার্লামেন্ট তৈরি করতে হবে।”
বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে খালেদা জিয়ার ‘বার্তা’
দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি ‘বার্তা’ও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।
ফখরুল বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের প্রশ্নের কোনো আপস নেই। ‘কোনো শর্তে মেনে নিয়ে আমি কোথাও যাব না’।
“তৎকালীন বেইআইনি সরকারের লোকেরা (সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার) বলেছিল বিদেশে চলে যাও। তিনি বলেছিলেন, ‘এই দেশ ছাড়া কোথাও আমার জায়গা নেই’। তখন কিন্তু অন্যরা (শেখ হাসিনা) বিদেশে চলে গিয়েছিলেন… তাই না?’।”
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা ব্যবহার করে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংবাদ সম্মেলনের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গেও কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (আইন মন্ত্রী) বলেছেন, আমি নাকি ভুল বলেছি, মিথ্যাচার করেছি। এ্খানে আইনজীবীরা আছেন… ৪০১ ধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, সরকার, সরকার, সরকার।
‘‘তার (সরকার) ক্ষমতা আছে শাস্তি মওকুফ করে দেওয়ার, মাফ করে দেওয়ার, তার ক্ষমতা আছে সাময়িকভাবে স্থগিত করার, তার ক্ষমতা আছে বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার। অথচ বেমালুম বলে যাচ্ছে…. কোনো সুযোগ নাই…. তাকে কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে। এই ধরনের কথা-বার্তা বলার মানে হচ্ছে, মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আপনারা হত্যা করতে চান।”
কনভেনশনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, জেএসডির আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমও বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে:
https://www.facebook.com/bdnews24/posts/pfbid0zDFfkknZBS9kuHpQFvMoFKu5KRg1BjFkBisSchdu4YhnK1q4odHnNpsFESSkFJBbl