১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শাপলার জন্য সিইসির কাছে নাগরিক ঐক্যের ধর্না

“আমাদের কনসার্নের জায়গা হচ্ছে, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে তথ্য দেখেছি যেন কমিশন তাদেরকে (এনসিপি) শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছে।”

শাপলার জন্য সিইসির কাছে নাগরিক ঐক্যের ধর্না
নির্বাচন কমিশনে নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি দল।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jul 2025, 09:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলাকে নাগরিক ঐক্যের জন্য সংরক্ষণের দাবি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছে একটি প্রতিনিধি দল।

নতুন প্রতীক তালিকাভুক্ত হলে আগে আবেদন করায় শাপলা প্রতীক অবশ্যই নাগরিক ঐক্যের প্রাপ্য বলে দাবি করেছে দলটি।

নাগরিক ঐক্যের পর নতুন দল জাতীয় নাগরিক কমিটিও তাদের নিবন্ধন আবেদনের সময় শাপলা চাওয়ায় নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে নাগরিক ঐক্য।

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ওই প্রতিনিধি দল বুধবার বিকালে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

সাকিব আনোয়ার পরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের একটা কনসার্নের জায়গা ছিল, প্রতীক পরিবর্তনের জন্য আমাদের আবেদন ছিল সেটা নিয়ে কথা বলতে এসেছি। ১৭ জুন আমাদের নাগরিক ঐক্যের দলীয় প্রতীক কেটলি পরিবর্তন করে পছন্দের ক্রমানুসারে শাপলা ও দোয়েল দিয়েছিলাম।”

এখনও নতুন দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত হয়নি। নতুন প্রতীক বিধিমালায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক ঐক্যের দাবি পর্যালোচনার ‘আশ্বাস’ পাওয়ার কথা বলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার।

তিনি বলেন, “কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত কে নিবন্ধন পাবে, কে নিবন্ধন পাবে না-সেটা নির্ধারিত হয়নি। যদি নতুন প্রতীক শাপলা গেজেটভুক্ত হয়, সেখানে আমরা যেহেতু আগে আবেদন করেছি আমাদের সেক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আমরা অবশ্যই বঞ্চিত হব না, সেটা আমরা যেমন প্রত্যাশা করি, তেমনি কমিশনও নিশ্চিত করেছে।”

সিইসির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকের সময় নির্বাচন কমিশন সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ফেরদৌসী আক্তার ও দপ্তর সম্পাদক মহিদুজ্জামান মহিদ।

২০১৮, ২০২৪ সালের ভোটের আগে নাগরিক ঐক্য নিবন্ধন আবেদন করেছিল। তখন নিবন্ধন না পাওয়ায় পছন্দের প্রতীকও পায়নি। ওই সময় অন্য দলগুলো নিবন্ধন পেয়ে তাদের পছন্দের প্রতীক পেয়ে যায়। 

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সেপ্টেম্বরে নিবন্ধন পায় নাগরিক ঐক্য। তাদের দেওয়া হয় কেটলি। 

সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারের বলেন, “আমরা যখন নিবন্ধন পাই, তখন আর আমরা পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক পাইনি। এ বিবেচনায় আমরা গত ১৭ জুন প্রতীক পরিবর্তনের জন্য আবেদন করি এবং পছন্দের ক্রম শাপলা ও দোয়েল চাই।”

এখন নতুন করে ১৪৪টি দলের ১৪৭টি আবেদন এসেছে। এরমধ্যে নিবন্ধন আবেদনের শেষ দিন ২২ জুন জাতীয় নাগরিক কমিটি-এনসিপি দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা চেয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের সাকিব বলেন, “আমাদের কনসার্নের জায়গা হচ্ছে, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনভাবে তথ্য দেখেছি যেন কমিশন তাদেরকে শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছে। কনসার্নটা আমরা সিইসিকে জানাতে এসেছি। নিবন্ধনের কাজ শেষ না করে এ ধরনের বিষয় আসাটা যৌক্তিক নয়।”

তিনি বলেন, নিবন্ধন শর্ত পূরণ যাচাইয়ের আগে বিধিমালায় সব মিলিয়ে শতাধিক প্রতীক যুক্ত হচ্ছে বলে কমিশন তাদের জানিয়েছে। 

“সিইসি ও সচিবকে আমরা জানিয়েছি, নতুন প্রতীক শাপলা যদি গেজেটভুক্ত হয় কিংবা দোয়েল যদি যুক্ত হয়; সেক্ষেত্রে ১৭ জুন যেহেতু আমরা আবেদন করেছি এবং পরবর্তী সময়ে একই মার্কা নিয়ে আরেকটা আবেদন হলেও শাপলা নাগরিক ঐক্যেরই প্রাপ্য। সেটার যেন ব্যত্যয় না ঘটে।”

সাকিব বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে’ আওয়ামী লীগ আমলের মত সরকারি দল বেশি সুযোগ সুবিধা পাবে– তেমন পরিস্থিতি নেই। সে কথা তারা সিইসিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

“কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আমাদেরকে আগে নিবন্ধিত দল হিসেবে প্রতীকটি বরাদ্ধ দেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করি। প্রতীক তালিকা থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে অন্য দল যেটা পাবে তাদের সেটা বরাদ্দ দিতে হবে।”

কমিশন কী বলেছে জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, “বলেছে ‘অবশ্যই, আপনারা আগে আবেদন করেছেন। এখন পর্যন্ত যারা আবেদন করেছে, আমরা চাই দল নিবন্ধন পাক। যে দলের বিষয়ে আলোচনা চলছে, সামনে দিনে তারা রাজনীতিতে, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নিবন্ধন পাক সেটা আমরা চাই। নিবন্ধন হয়ে গেছে এমন নয়, রিকোয়ারমেন্ট ফুলফিল করার পরেই সেটা হবে’।”

সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ভোটের প্রস্তুতির বিষয়েও আলোচনা করার কথা বলেন নাগরিক ঐক্যের এ নেতা।

তিনি বলেন, “সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছি আমরা। কমিশন ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে-এটাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

“আমরা প্রত্যাশা করি, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে–প্রধান উপদেষ্টা যেভাবে বলেছেন, সেভাবে আমরাও চাই।” 

পুরনো খবর

কেটলি বদলে শাপলা-দোয়েল চায় নাগরিক ঐক্য, ইসির 'না'

'শাপলা' পেতে বাধা দেখছেন না এনসিপি আহ্বায়ক 

বিধিমালায় যুক্ত হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা, নৌকাও থাকছে, শাপলার কী হবে

শাপলার রাজনীতি, বন্দুকের ভয়