Published : 02 Jan 2026, 04:51 PM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নব্বইয়ের ছাত্র ঐক্যের নেতারা।
শুক্রবার বেলা ১২টায় নব্বইয়ের ডাকসুর ভিপি ও সেই সময়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এ সময় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব, জহির উদ্দিন স্বপন, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, খন্দকার লুৎফর রহমান, নাজমুল হক প্রধান, মীর সরাফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।
পরে আমান উল্লাহ আমান বলেন, “আমরা নব্বইয়ের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা আজকে এখানে দেশনেত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। তার কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেছি। তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেছি।
“স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার যে আন্তরিকতা, সেটা আজকে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৬ বছর শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, প্রহসনের বিচারের তাকে জেলে পাঠিয়েছে, জেলে নির্যাতন করা হয়েছে, ন্যূনতম চিকিৎসা তাকে দেওয়া হয়নি।
“তাকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছিল; সেই নির্যাতনের দায় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কখনো এড়াতে পারবে না। অবশ্যই শেখ হাসিনাকে জবাব দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “আজকে কী প্রমাণ হয়েছে? তার জানাজায় যে কোটি মানুষের উপস্থিতি, এটাই প্রমাণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন ঐক্যের প্রতীক, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মাদার অব ডেমোক্রেসি, গণতন্ত্রের মা।
“তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ঠিকানা বাংলাদেশ, আমি বিদেশে যাব না। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই’। যার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমানকে কীভাবে নির্যাতন করেছে, তা আপনারা জানেন। তাকে নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে।”
হাসপাতালে চল্লিশ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে মারা যান দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরদিন জাতীয় সংসদের সামনে জনসমুদ্রের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক চলছে। শেষ দিন শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া কর্মসূচি রয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও তার আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে দলটি সাতদিনের শোক করছে। নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণের পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তালন করা হয়েছে।