Published : 19 Oct 2025, 06:32 PM
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ‘আদেশ’ জারি এবং নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ ৫ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের চতুর্থ পর্বে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি রাজনৈতিক দল।
রোববার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আটটি দলের পক্ষে খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর অংশ হিসেবে ২০ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায়, ২৫ অক্টোবর সকল বিভাগীয় শহরে, ২৭ অক্টোবর জেলা শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করবে দলগুলো।
কর্মসূচি ঘোষণা করে আবদুল কাদের বলেন, “আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে দাবি না মানা হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ৫ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছে।
# জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং ওই আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে গণভোট আয়োজন করা
# আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা
# অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
# ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সব জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা
# ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা
জুলাই সনদ সইয়ের পর ফের কেন কর্মসূচি?
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা ১৭ তারিখে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। এখন প্রশ্ন আসছে যে, স্বাক্ষর করার পরে আবার আন্দোলনের কর্মসূচি কেন দিলেন? প্রশ্নটা আপনারা অনেকেই করেন, একটা জিজ্ঞাসা থাকে।
“সেক্ষেত্রে আমাদের এই দলগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে, আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, জুলাই চার্টারে যে সমস্ত সংস্কারমূলক প্রস্তাব আছে, আমরা সবাই একমত হয়েছি, স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেই সংস্কার প্রস্তাবের ব্যাপারে আমরা একমত প্রকাশ করেছি।
“কিন্তু এখন কাজ বাকি থাকল। একটা ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করতে হবে আর এটাকে আইনি ভিত্তি দিতে একটা গণভোট করতে হবে। তারপর জাতীয় নির্বাচন।”
নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “এখন এই দুইটা কাজ তো জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত নেই যে গণভোট কখন হবে আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশটা কখন হবে। এ দুইটা জায়গা জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত করে লিখিত নেই বলে অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে, ‘আপনারা যে করলেন এটা যে বাস্তবায়ন হবে, কবে আদেশ জারি হবে, কবে গণভোট হবে এটা নিষ্পত্তি তো এখনো হয়নি’। এই প্রশ্নের জবাবে আমি এ কথাগুলো বললাম।”
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ঐকমত্য কমিশনের প্রধান এবং সরকারের প্রধান উনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ঐকমত্য কমিশন একমত হয়েছে এই দুইটা প্রশ্নে যে, আমরা এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে সন্নিবেশিত করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করব।
“আমরা চাই, এটা অবিলম্বে করতে হবে এবং নভেম্বরের মধ্যে গণভোট দিয়ে এটার আইনি ভিত্তি দিতে হবে তারপর জাতীয় নির্বাচন করতে হবে।”
বিএনপি সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ধারণার বিরোধিতা করে আসছে। গণভোট আর জাতীয় নির্বাচন একই দিনে করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছে তারা।
সে প্রসঙ্গ ধরে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা এটার সাথে দ্বিমত করেছি। অনেক জটিলতা আছে। একই দিনে দুইটা ভোট হলে অল্প সময়ের মধ্যে একজন ভোটার দুই জায়গায় ভোট দেবে। একটা সনদের ব্যাপারে, হ্যাঁ-না ভোট, আবার তার প্রতীকে ভোট দেবে। টাইমে ভোট কাস্টিং কভার করতে পারবে না। অনেক ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বাইরে থেকে যেতে পারে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।