Published : 14 Aug 2025, 09:28 PM
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সুযোগ না পেলেও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে ডাক পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জাতীয় পার্টি।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকের পর এ আশার কথা শোনান দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, “সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে৷ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
“আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি। আমরা একটা অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। ইসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। আশা করি, কমিশন তার শপথ বজায় রেখে নিরপেক্ষতার সঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে।”
জাপা মহাসচিব বলেন, “সিইসির কাছে আমাদের উদ্বেগগুলো জানিয়েছি, উনি নোট দিয়েছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা আছে, কমিশন সুষ্ঠু ভোটের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সীমাবদ্ধতা থাকলেও কমিশন চেষ্টার ত্রুটি রাখবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে না।”
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘নিরপেক্ষ’ না হলেও নির্বাচন কমিশন ‘নিরপেক্ষ’ থেকে জাপাসহ সব দলকে ডাকবে বলে আশা করেন তিনি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “আমরা সরকারকে পুরোপুরি নিরপেক্ষ মনে করি না। তবে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ দেখতে চাই।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “ইসি সব নিবন্ধিত দলকে ডাকবে; কথা বলবে। আমরা ইসির ক্লায়েন্ট; আমরা জনগণের প্রতিনিধি।
“ইসির দায়িত্ব সব নিবন্ধিত দলকে ডাকা, তাদের কনসার্ন শোনা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। এটি খুব দুরূহ কাজ। এটি ইসিকেই করতে হবে। আর ইসিকে সরকার ও দলগুলোকে সহায়তা করতে হবে।”
শামীম হায়দার বলেন, “সিইসি কথা বলেছেন, আমরা পুলকিত। সিইসি আশ্বাস দিয়েছেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।”
আনিসুল-হাওলাদার কমিটি বৈধ নয়
জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বাইরে রেখে সম্প্রতি কাউন্সিল করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান ও রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব নির্বাচিত হন। ইতোমধ্যে এ অংশটি নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে।
এ বিষয়ে শামীম পাটোয়ারী বলেন, গত ২৮ জুন কাউন্সিল করাকে কেন্দ্র করে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জ্যেষ্ঠ কিছু নেতা জিএম কাদেরকে ছাড়াই কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাদের রেজ্যুলুশনের মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়। ওই চিঠি চ্যালেঞ্জ করে তারা মামলা করেন। তবে সেটা এখনও বহিষ্কার কার্যকর আছে।
“চেয়ারম্যান ছাড়া কোনো কাউন্সিল হতে পারে না, এটা গঠনতন্ত্রে রয়েছে। একটি কাউন্সিল তথাকথিভাবে করা হয়, এটা বৈধ কাউন্সিল হতে পারে না, এগুলো বিব্রতকর। জিএম কাদের ছাড়া অন্য কারো লাঙ্গল পাওয়ার সুযোগ নেই; চেয়ারম্যান অন্য কারো হওয়ার সুযোগ নেই গঠনতন্ত্রে।”
ভোটে বিএনপি-জামায়াত-ইসলামী আন্দোলনও অংশ নেয়
আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে গত তিন নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টিকে অযোগ্য ঘোষণার দাবি এসেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলে জাপা মহাসচিব বলেন, “অযোগ্য ঘোষণা মতো আরপিওর কোনো বিধিতে জাতীয় পার্টি পড়ে না। নিষিদ্ধ করার দাবি দুঃখজনক।
“বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলামী অংশ নিয়েছিল ওইসব ভোটে। স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতের নেতারা অংশগ্রহণ করেন এবং এখনও জনপ্রতিনিধি আছেন; পরে তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেননি।”