Published : 16 Jun 2026, 07:08 PM
কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক (পোর্ট অ্যাক্সেস রোড) প্রকল্পে বালু উত্তোলন এবং এর দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় রাজস্ব ক্ষতির সুযোগ রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে রিট করা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহানা শারমিন এ রিট আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, মহেশখালীর উপকূলীয় এলাকা থেকে কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই প্রায় ছয় কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বালুর দাম নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রিটটি গ্রহণ করে হাই কোর্ট ২১ জুন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।
রিটে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে প্রতি ঘনফুট বালুর দাম ছয় টাকা ৯৪ পয়সা। কিন্তু ড্রেজিং খরচ চার টাকা ৫৭ পয়সা বাদ দেওয়ার পর প্রতি ঘনফুট বালুর দাম ধরা হয়েছে দুই টাকা ৩৭ পয়সা।
রিটকারীর দাবি, এর ফলে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তোকিউ-এমআইএল-জেভি’ আর্থিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে এবং সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বলা হয়েছে, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে বালু সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখানে কোনো দরপত্র ছাড়া একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বালু উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রিটে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেন। তবে অনুমোদনের আগে কোনো বিকল্প প্রস্তাব মূল্যায়ন বা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

রিটে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া বালু উত্তোলন করা হলে সামুদ্রিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় এলাকার ক্ষতি হতে পারে।
রিটকারী আইনজীবী সোহানা শারমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও ন্যায্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা সংবিধান ও আইনের দাবি। তবে এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে, যা জনস্বার্থবিরোধী।
তিনি বলেন, রিটে বালু উত্তোলনের, মূল্য নির্ধারণ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মোবাইলে ফোন করা হলে কেউ ধরেননি। পরে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানকেও মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।