নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি
“সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্ব ইসির; শপথ ও পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার সংসদের।”
দুই মাস আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলাম বহিষ্কার করলেও তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বিতর্কিত এ সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ প্রসঙ্গ ফের সামনে এসেছে। ইসি বলছে, এ বিষয়ে স্পিকারের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।
পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল; কিন্তু আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ইসির নাই।
“সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদের জানানোর বিধান রয়েছে। এখনও চিঠি আসে নি, অপেক্ষা করতে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্ব ইসির। শপথ ও পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার সংসদের।
গত ২৩ জুলাই জামায়াতের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছিলেন, দল বহিষ্কার করলেও ইসির কিছু করার সুযোগ নেই। তবে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়। গাজী নজরুল ইসলামের পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘রেফারেন্স’ বা চিঠি পেলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। এ মামলায় সোমবার নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
