Published : 11 Jun 2023, 08:12 PM
এক দশক পর রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশ করতে দেখে ‘বিস্মিত’ হয়েছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।
এর পেছনে ‘রাজনীতিক সমীকরণ’ দেখছেন বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা এই মোর্চার নেতারা।
জামায়াতকে বিএনপিই মাঠে নামিয়েছে- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যকেও সরকারের ‘রাজনৈতিক কূটকৌশল’ মনে করছেন তারা।
রোববার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পুরানা পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার পর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে এসব প্রতিক্রিয়া আসে।
আগের দিন ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সমাবেশ করে জামায়াত। ২০১৩ সালের ৪ মার্চের পর এই প্রথম রাজধানীতে কোনো জমায়েত করতে পারল দলটি। সমাবেশ স্থল ও আশেপাশে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন হলেও তারা কোনো বাধা দেয়নি।
জামায়াতকে এক দশক পর সমাবেশ করতে দেওয়া নিয়ে রাজনীতিতে নতুন আলোচনার মধ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস করার উসকানি দিয়ে জামায়াতকে মাঠে নামিয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার পর বিএনপির মিত্র হয়ে আসা গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘‘সরকার একটা রাজনৈতিক সমীকরণের জায়গা থেকে পুরো বিষয়টা করছে.. এ রকম অনুমান করার যথেষ্ট কারণ আছে।”
কী সেই সমীকরণ, সেটি স্পষ্ট না করে তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামীকে তো সরকার নিষিদ্ধ করেনি। বিরোধী দল তারা। রাজপথে দাঁড়িয়ে সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যার যার জায়গা থেকে কথা বলার… সেখানে তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।”
এক দশক পর ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশ, সরকার ও বিরোধীদের নিয়ে ঐক্যের ডাক
বাম এই নেতা পরক্ষণেই বলেন, “১০ বছর তাদেরকে (জামায়াত) সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। আবার হঠাৎ করে অনুমতি দিয়ে আবার দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপির উপরে। এটাই হল সরকারের রাজনৈতিক কূটকৌশল.. এটা সর্বশেষ আরেকটা নজির।
“সরকার যে অসংলগ্ন আচরণ করছে, তাদের নানা বিষয় যে নার্ভাসনেস …. এগু্লো হচ্ছে তার একটা বহিঃপ্রকাশ।”
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “জামায়াতের ব্যাপারটা কিন্তু বিস্ময়কর। … এতদিন তারা দেয়নি কেন? ব্যান্ড করল কেন? নতুন করে আবার পারমিশন দিল কেন? এই ব্যাখ্যা আমরা তাদের কাছে চাই।”
তার মতে, সরকার দ্বিধান্বিত ও দ্বিধাগ্রস্ত, বুঝতে পারছে না কী করবে?
“কারণ, জামায়াতের লোকজন যখন পারমিশন চাইতে গেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে, আবার দেড় ঘণ্টার মধ্যে ছেড়েও দিয়েছে। পরে পারমিশনও দিয়েছে। এর চাইতে বেশি অস্থিরতা কী দেখবেন।”
‘জামায়াতি ব্রান্ডিং’
মঞ্চের নেতা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমরা গত ১৪ বছর ধরে সরকারের একটা রাজনৈতিক অবস্থান দেখতে পাচ্ছি। সেটা হচ্ছে, তারা জামায়াতে ইসলামীকে তাদের প্রতিপক্ষ বলেন, শত্রু বলেন… এভাবে তারা চিহ্নিত করে এসছে। যে কোনো আন্দোলনকে ‘জামায়াতি’ নাম দিয়ে তারা ব্রান্ডিং করেছে।
“বর্তমানে আন্দোলনটা হচ্ছে ভোটারধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আন্দোলন, তার জন্যে সংবিধান সংস্কার করার আন্দোলন…. সেই জায়গায় আবার আন্দোলনটাকে জামায়াতি ব্রান্ডিং দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে।”
বাম এই নেতা বলেন, “পুরো আন্দোলনকে আবার জামায়াতি ব্র্যান্ডিং করে, অগ্নি সন্ত্রাসের ব্র্যান্ডিং দিয়ে সরকার আসলে বিদেশ এবং দেশি পক্ষগুলোকে নানাভাবে তুষ্ট করতে চাইছে বলে যথেষ্ট সন্দেহ করার সুযোগ আছে।
“এসব জামায়াতি ব্রান্ডিং করে আন্দোলনকে জনদৃষ্টি ফেরানো যাবে না।”
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, কাজী মো. নজরুল, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, মাহবুব জামান কাদেরী, জেএসডির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারি, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, সাকিব আনোয়ার, শাহনাজ রানু, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুঁইয়া, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বহ্ণিশিখা জামালী ও আকবর খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।