১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সেকাল একাল

কেমন ছিল সেই সব নির্বাচন? ৩৫ বছর পর এবারও সরকারি দল ও বিরোধী দলের প্রার্থী থাকছে রাষ্ট্রপতি ভোটে, সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 10:47 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

দেশের তেইশতম রাষ্ট্রপতি বেছে নিতে আগামী ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা; সবশেষ এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল সাড়ে তিন দশক আগে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা। ইতোমধ্যে তিনি ২০ অগাস্ট দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ অগাস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ অগাস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা আইনের বিধান অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এ নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে। সে কারণেই এবার ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ছে।

ভোটের সমীকরণ

ত্রয়োদশ সংসদের মোট আসন ৩৫০টি। এর মধ্যে ৩০০টি সাধারণ এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন।

একটি সাধারণ আসনে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

তাদের মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন এবং জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩—এই আটটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যে শুধু ১৯৯১ সালেই ভোটাভুটি হয়েছিল। বাকি সাতবার ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত একক প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন দুজন। এবারও দুজন প্রার্থী ভোটে থাকছেন বলে এ পর্যন্ত তথ্য মিলেছে।

সামরিক শাসনামল ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৭৮ সালে ছিলেন ১০ জন, ১৯৮১ সালে ৩২ জন এবং ১৯৮৬ সালে ১২ জন প্রার্থী হয়েছিলেন।

১৯৭৪ সালে প্রথম নির্বাচন

প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৭৪ সালে সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল।

১৯৭৪ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদীয় পদ্ধতির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাভোটে দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি ভোট

স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় ১৯৭৮ সালের ৩ জুন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৭ জন; ভোট পড়ে ৫৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।

সেবার ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ১০ জন।

জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দেড় কোটির বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতকম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের প্রার্থী জেনারেল (অব.) আতাউল গণি ওসমানী।

প্রার্থী

দল

প্রতীক

প্রাপ্ত ভোট

ভোটের হার

জিয়াউর রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট

ধানের শীষ

১,৫৭,৩৩,৮০৭

৭৬.৬৩

মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী

গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট

নৌকা

৪৪,৫৫,২০০

২১.৬৯

ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাকিম মাওলনা খবীরুদ্দিন আহমেদ (জলন্ত মশাল), জাতীয় জনমুক্তি ইউনিয়নের আবুল বাশার (ছাতা), স্বতন্ত্র আজিজুল ইসলাম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র গোলাম মোরশেদ (গরুর গাড়ি), ইসলামী ডেমোক্রেটিক গ্রুপের মো. আব্দুর সামাদ (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় দলের সৈয়দ সিরাজুল হুদা (খেজুর গাছ), স্বতন্ত্র শেখ মো. আবু বকর সিদ্দিক (লণ্ঠন) ও জাতীয় জন মুক্তির অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ (বাই সাইকেল) প্রতীকে লড়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সর্বনিম্ন ২৪ হাজার; আরেকজন সর্বোচ্চ ৮১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি ভোট

১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫১ হাজার ১৪ জন। ভোট পড়ে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বিএনপির বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ১ কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল হোসেন।

প্রার্থী

দল

প্রাপ্ত ভোট

ভোটের হার

বিচারপতি আব্দুস সাত্তার

বিএনপি

১,৪২,০৩,৯৫৮

৬৫.৫২

কামাল হোসেন

আওয়ামী লীগ

৫৬,৩৬,১১৩

২৬

এ নির্বাচনে ৮৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত ৩১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে জাসদ, ন্যাপ, সমাজবাদী দলসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

১৯৮৬ সালের রাষ্ট্রপতি ভোট

তৃতীয়বারের মত জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর। মোট ভোটার ছিলেন ৪ কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ৪৩৩ জন; ভোট পড়ে ৫৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

সেবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর) ।

প্রার্থী

দল

প্রতীক

প্রাপ্ত ভোট

ভোটের হার

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ

জাতীয় পার্টি

লাঙ্গল

২,১৭,৯৫,৩৩৭

৮৪.১০

মাওলনা মুহাম্মদ উল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর)

স্বতন্ত্র

বটগাছ

১৫,১০,৪৫৬

৫.৮২

এ নির্বাচনে ১৬ জন মনোনয়নপত্র নিলেও শেষ পর্যন্ত ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এরশাদ ও হাফেজ্জী হুজুরের বাইরে ফারুক রহমান, জহির খান, মাওলানা খায়রুল ইসলাম যশোরী, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, অলিউল ইসলাম চৌধুরী, খলিলুর রহমান মজুমদার, আনার আলী, আব্দুস সামাদ, আফসার উদ্দিন ও সৈয়দ মনিরুল হুদা চৌধুরী নির্বাচনে ছিলেন।

১৯৯১ থেকে ২০২৩: সংসদে পরোক্ষ ভোট

সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। এ সময়ে আব্দুর রহমান বিশ্বাস, বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, আবদুল হামিদ (দুই মেয়াদ) এবং মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়। এরপর প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

শেষ ভোটের অভিজ্ঞতা

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে; জামায়াত ছিল তাদের জোটে। আর আওয়ামী লীগ ছিল প্রধান বিরোধী দল।

ওই বছর অগাস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন পাসের পর সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হন।

৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী।

৩৩০ সদস্যের সংসদে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। মোট ৬৬ জন ভোট দেননি।

তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ভোট হয় সংসদ কক্ষে।

সেই নির্বাচনে সহায়ক কর্মকর্তার (পোলিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করে ইসির তৎকালীন কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।

৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী কর্তার জন্য স্পিকারের আসনের পাশে আলাদা আসন রাখা হয়েছিল। সংসদ কক্ষে বিভাগভিত্তিক চারটি ভোট কাউন্টার ছিল এবং ইসি কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণে সহায়তা করেছিলেন। এমপিরা সই ও বিভক্তি নম্বর দিয়ে নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার রাখেন।

মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, সিইসি স্পিকারের চেয়ারে বসেছেন—এমন ধারণা থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সংসদ সদস্য শোরগোল করেছিলেন। পরে দেখা যায়, নির্বাচনী কর্তার জন্য স্পিকারের চেয়ারের পাটাতনের নিচে আলাদা চেয়ার রাখা হয়েছিল।

বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ছিলেন ওই সংসদের দুই স্বতন্ত্র সদস্য।

ওই নির্বাচনে বিএনপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তাদের কেউ এখন আর বেঁচে নেই।

সেবারই প্রথম প্রকাশ্যে ভোট হয়েছিল জানিয়ে মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, “ব্যালটে সই করে প্রকাশ্যে দেখানো হয়নি। কিন্তু ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে যেমন দেখছেন, দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখছেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিল তা নোটও নিয়েছেন নিজ দলের এজেন্টরা।”

১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে সহায়ক কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ জকরিয়াও। পরে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. জকরিয়া বলেন, “আমরা সহায়তা করেছিলাম। জাতীয় পার্টি ভোট বর্জন করেছিল।… দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর ছিল।”

সেদিন ভোট শুরু হয় দুপুর ২টায়; বিরতি ছাড়াই ৫টা পর্যন্ত চলে। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তখনকা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকাল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি।

৫টা ৫ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কেমন ছিল ফলাফল

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী।

প্রার্থী

দল

প্রাপ্ত ভোট

বর্জন/বিরত

আবদুর রহমান বিশ্বাস

বিএনপি

১৭২

 

প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী

আওয়ামী লীগ

৯২

 

পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০ আসন, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল ৫, সিপিবি ৫, ইসলামী ঐক্যজোট ১, ন্যাপ (মোজাফফর) ১, গণতন্ত্রী পার্টি ১, এনডিপি ১, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ) ১ ও ওয়ার্কার্স পার্টি ১ আসন পেয়েছিল।

সেবার ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। সব মিলিয়ে ৩৩০ জনের মধ্যে সেসময় ৬৬ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সদস্যরা ছিলেন বলে জানান সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ।

তিনি জানান, ১৪০ জন সংসদ সদস্য, সাথে সংরক্ষিত নারী আসনের ২৮টি ছিল, স্বতন্ত্র দুই জন এবং আর দুই জনকে নিয়ে ১৭২ ভোট নিশ্চিত হয় বিএনপি প্রার্থীর।

ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়–জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেয়নি।

আট কলামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং দলীয় প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিনও তাকে ভোট দেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি।

জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আব্দুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

এবারও দলীয় সিদ্ধান্তই শেষ কথা

আগামী ২০ অগাস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। ভোট সংসদ কক্ষেই অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ওই বিধান কার্যকর হবে জানিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। যদি কেউ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে।”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মঙ্গলবার সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে চিফ হুইপ বলেন, “এবার আমরা যে ভোট দেব, সংসদ সদস্যরা প্রার্থীর সামনে তার নাম লিখবেন প্রকাশ্য কিংবা গোপনে, বিভক্তি সংখ্যা লিখবেন। কাজেই আমি কাকে ভোট দিচ্ছি, তা সবাই জানবে।”

পুরনো খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ যেভাবে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্য পদ থাকবে না: চিফ হুইপ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে?

২০ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মনোনয়নপত্র জমা ১৩ অগাস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে? সংসদ অধিবেশন ডাকতে হয়?

১৮ রাষ্ট্রপ্রধানের ৭ জনের বিদায় পদত্যাগে