১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে? সংসদ অধিবেশন ডাকতে হয়?

নির্বাচন কমিশন ২০ অগাস্ট ভোটের দিন রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে।

মঈনুল হক চৌধুরী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 08:27 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে সংসদ কক্ষে, সে জন্য সংসদ অধিবেশ ডাকা রদরকার আছে কি নেই, এ আলোচনা সামনে এসেছে।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার জন্য কী সংসদ অধিবেশন ডাকতে হয়েছিল? এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও বিশেষ প্রেক্ষাপটেই হচ্ছে, সেক্ষেত্রে কী অধিবেশন ডাকা হবে?

একজন নির্বাচন কমিশনার বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন নেই।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বিশেষ অধিবেশন’ হতে পারে, এমন আভাস দিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

সংসদ বিষয়ক গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ অধিবেশন বাধ্যতামূলক নয়। সংসদ সদস্যরা তাকে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চাইলে ডাকতে পারেন; সাধারণ অধিবেশন হতে হবে কথা নেই। অধিবেশনেই নির্বাচিত হতে হবে, এমন কথা কোথাও উল্লেখ নেই।”

২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিকভাবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করেছেন ২০ অগাস্ট।

এ নির্বাচনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন হচ্ছেন ‘নির্বাচনি কর্তা’।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমার দিনই জানা যাবে কে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এবার।

১৬ অগাস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই হবে। বৈধ প্রার্থী একজন হলে ১৮ অগাস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় বিকাল ৪টা পার হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবে।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপি হওয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সমর্থিত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন; এখন শুধু আইন মেনে আনুষ্ঠানিকতা বাকি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরাই। সেক্ষেত্রে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটের ব্যবস্থা হবে।

ত্রয়োদশ সংসদের সবশেষ অধিবেশন শেষ হয়েছে ১৫ জুলাই। সেক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে (১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে) পরবর্তী অধিবেশন হবে।

১৯৯১ সালে কীভাবে ভোট হয়েছিল?

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর বিদায় নিতে হয় টানা নয় বছর ক্ষমতায় থাকা হুসেইন এরশাদ সরকারকে। ১৯৯১ সালে হয় পঞ্চম সংসদ নির্বাচন। তারপর সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি।

সে সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়া নূরুল ইসলাম মনি এখন চিফ হুইপ।

বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার পর নূরুল ইসলাম মনি বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হতে পারে। 

তিনি বলেন, “ওই নির্বাচনের ঠিক দুই-একদিন আগে অধিবেশন আহবান করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। তবে এই অধিবেশনটি কি নিয়মিত কার্যক্রমের দিকে যাবে, নাকি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই মূলতবি ঘোষণা করা হবে—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের। ভারতে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সময় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ভোটের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।

১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। 

এবার অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে কিনা, জানতে চাইলে শুক্রবার চিফ হুইপ মনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবারও সংসদের অধিবেশন ডাকা হবে। ১৯৯১ সালে অধিবেশন ডেকে তো আমরা ভোট দিয়েছি। এরপর তো হয়নি।”

সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পরের সেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। আর বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও সমমনারা বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করে। সেসময়ও সংসদে ভোটের আয়োজন করা হয়।

সংসদ অধিবেশন কক্ষে এ নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ, যিনি পরবর্তীতে যুগ্মসচিব পদমাযাদায় অবসরে যান।

মিহির সারওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ হওয়ার পর প্রকাশ্য ভোটের ব্যবস্থা হল। সে সময় তফসিল ঘোষণার সময় অধিবেশন চলমান ছিল না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অধিবেশন ডাকা হয়।”

নির্বাচন কমিশনের সাবেক এ কর্মকর্তা বলেন, সেসময় দুজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন- একজন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। স্বতন্ত্র ভোটার হয়ে রাষ্ট্রপতির ভোট দিয়েছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পোলিং এজেন্ট ছিলেন তোফায়েল আহমেদ ও বিএনপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন নাজমুল হুদা।

ওই নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বাইরে আরেকজন সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে প্রত্যাহার করেন তিনি। তৎকালীন সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ ছিলেন নির্বাচনি কর্তা, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদের অধিবেশনের কক্ষে স্পিকারের আসনের নিচে আরেকটি চেয়ারে বসেছিলেন।

বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা আইনে কোথাও বলা নেই।

তিনি বলছেন, সংখ্যাগরিষ্ট দল সংসদে বিএনপি; বিরোধী দল প্রার্থী দেবে না বলেছে সংবাদমাধ্যমে; প্রার্থী তো একজন হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হবে ১৮ অগাস্ট; কাজেই সংসদ অধিবেশন ডাকারও হয়ত প্রয়োজন নেই। একাধিক প্রার্থী হলে লাগবে অধিবেশন।

তবে একাধিক প্রার্থী হলেও অধিবেশনের দরকার নেই বলেছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

শুক্রবার জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অধিবেশন যে করতেই হবে, এটার বাধ্যবাধকতা নেই। সংসদ সদস্যদের আহ্বান জানিয়ে তফসিলে কোথায় ভোট হবে তাও বলা হয়েছে। কাজেই এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার জন্য সংসদ অধিবেশন হতেই হবে এরকম কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু যদি রাষ্ট্রপতি সেশন ডাকে অসুবিধা নেই।”

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “রাষ্ট্রপতি যদি সংসদের অধিবেশন ডাকেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে, যেকোন সময় উনি আহ্বান করতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনের জন্য (অধিবেশন) ডাকার কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ অধিবেশন যদি চালুও থাকে, চলমান থাকে তা-ও নির্বাচনের কোনো অসুবিধা নেই। চলমান না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো অসুবিধা নেই।”

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

ভোটারদের (সংসদ সদস্যদের) আহ্বান জানিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় বলা হয়েছে, ২০ অগাস্ট বিকাল ২টা থেকে ৫টা সংসদ কক্ষে ভোট হবে।

এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা তফসিলের প্রজ্ঞাপনে সংসদ সদস্য, ভোটারদেরকে আহ্বান করেছি- এত তারিখে নমিনেশন পেপার দিতে হবে, এত তারিখে বাছাই হবে, এত তারিখের মধ্যে প্রত্যাহার হবে, এত তারিখে ভোট হবে। ভোটটা কোথায় হবে লিখে দিয়েছি, সংসদ কক্ষ বা অধিবেশন কক্ষ।”

তিনি বলেন, “অধিবেশন কক্ষে ভোটের জন্য অধিবেশন ডাকার আইনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সরকার যদি ডাকে তাতেও কোনো অসুবিধা নেই।”

প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা কী?

আশির দশকে ‘ছক্কা’ ছয়ফুর, ‘কৃষক’ সাদেক এর মতো অনেকে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটে লড়েছিলেন, যারা ছিলেন স্বতন্ত্র।

সামরিক শাসন আমল ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ১৯৭৮ সালে ছিলেন ১০ জন, ১৯৮১ সালে ছিলেন ৩২ জন আর ১৯৮৬ সালে ছিলেন ১২ জন।

সংসদ বিষয়ক গবেষক নিজাম উদ্দিন বলেন, তিনবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি জনগণ ভোট দিয়েছিল। একসময় ছয়ফুর, কৃষক সাদেক এরাও প্রার্থী হয়ে আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে আইনের পর আর দলের বাইরে প্রার্থী হতে পারেনি কেউ। 

“প্রস্তাবক-সমর্থক পাবেন কোথায়, সংসদ সদস্য তো লাগবে নিজের পক্ষে।”

নব্বইয়ের দশকে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার পর কয়েকটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শৈলেশ, জগদীশসহ কিছু লোকের দৌঁড়ঝাপ দেখা গেছে।

গেল আটবার সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাতবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী। এরমধ্যে ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় ভোটাভুটি হয়।

১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে মনোনয়নপত্রে রাষ্ট্রপতি হতে প্রস্তাবক-সমর্থক হিসেবে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর-এর প্রয়োজন হওয়ায় আর ঘেঁষতে পারেননি অত্যুৎসাহী প্রার্থীরা।

এর আগে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৭৪ সালে সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল।

১৯৭৪ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র সংসদীয় পদ্ধতির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাভোটে দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, “প্রার্থী হতে হলে সংসদ সদস্য হতে হবে এমন নয়; সংবিধান ও আইন-বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করা রযেছে কারা প্রার্থী হতে পারবেন। সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হতে ওই আসন শূন্য হবে।”

১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনি কর্মকর্তা নির্ধারিত দিন, সময় ও স্থানে মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। প্রার্থী একজন হলে এবং যাচাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বিবেচিত হলে কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। 

তবে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলে নির্বাচনের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করবে কমিশন।

>> রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীকে অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকলে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

>> প্রার্থীকে বর্তমান সংসদ সদস্য হতে হবে না। সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।

>> কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে।

>> বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাকে ভোট ছাড়াই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোট নেওয়া হবে।

>> রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গোপন নয়, প্রকাশ্য। প্রত্যেক সংসদ সদস্যের একটি ভোট থাকে। ভোটার ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে স্বাক্ষর করে সেটি সংগ্রহ করেন। এরপর যাকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করেন।

>> সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী নির্বাচিত হন। দুই বা ততোধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে ফল নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন-

এবার নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পালা

২০ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মনোনয়নপত্র জমা ১৩ অগাস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ভোটার তালিকা পেল ইসি

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করবেন তারেক রহমান: ফখরুল

ছক্কা ছয়ফুর নেই, শৈলেশ আছে

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে ঢাকা এসেছি: 'ভোটপ্রেমী' জগদীশ

কক্সবাজারে ‘ভোটপ্রেমী’ জগদীশ গ্রেপ্তার