১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে এমপি পদ থাকবে?

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না।

মঈনুল হক চৌধুরী

ইমরান হোসাইন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 01:10 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী হতে যাচ্ছে; ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিরোধী দল জামায়াত প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

নিয়ম হল, একাধিক প্রার্থী হলে ভোট হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে। জাতীয় সংসদের সদস্যরা ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন এবং সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে। 

এখন প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশ্যে ভোট হওয়ায় কেউ কি দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন? কেউ দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে তার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে?

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দুই ধরনের মতামত পেয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য শরীফ ভূইয়া বলছেন, কোনো এমপি তার দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সদস্য পদ বাতিল হবে।

তবে ১৯৯১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন না। 

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।

১৯৭৪ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনাভোটে দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের তখনকার স্পিকার মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ।

এরপর রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ১৯৭৮, ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা ফেরে। এরপর রাষ্ট্রপতি আইন, ১৯৯১ জারি হয়। 

পঞ্চম সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবার ভোটাভুটি হলেও বাকি সময় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থীই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। 

‘ফ্লোর ক্রসিং’ হবে?

জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাকে বলা হয় ‘ফ্লোর ক্রসিং’। অগ্রসর গণতন্ত্রের অনেক দেশেই এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও সেই সুযোগ আটকে আছে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে।   

ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্য সব নির্বাচনে গোপন ভোটের নিয়ম থাকলেও ১৯৯১ সালে বিশেষ একটি প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট চালু হয়। ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে সে সময় তুমুল তর্কবিতর্ক হয়।  

তিনি বলেন, দলীয় সব ভোট যেন দলের প্রার্থী পান, সবাই যেন বাধ্য থাকে, সেজন্য একটা অধ্যাদেশ [দ্য ইলেকশন অব প্রেসিডেন্ট (এ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিনেন্স, ১৯৯১]  জারি করা হয় সে সময়। সেখানে বলা হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের ক্ষেত্রেও ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, কেউ দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তা ফ্লোর ক্রসিং হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তার সদস্য পদ বাতিল হবে। 

“তখন সরকারি দলের এমপিদের মধ্যে এবং বিরোধী দলের মধ্যে বড় মাত্রায় হৈ চৈ হয়। ক্ষোভ প্রশমনে এরপর আরেক অর্ডিনেন্স (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) করে তা বাতিল করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বলা যায়, ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ভোটে কার্যকর হবে না। এরপর আর কোনো আইন হয়েছে বলে জানা নেই।” 

নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকাশ্যে ভোটের বিরোধিতা করে তখন অনেকে আদালতেও গিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ প্রকাশ্যে নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে করা একটি রিট পিটিশন খারিজ করে দেয়। ফলে বিষয়টি ভিত্তি পেয়ে যায়। 

একই মত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জেসমিন টুলীর। ইসির সাবেক এ অতিরিক্ত সচিব বলেন, “আমার মনে হচ্ছে এখানে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না। কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন রয়েছে আর ৭০ অনুচ্ছেদ উল্লেখ ছিল যে অর্ডিনেন্সটা যেহেতু হয়নি। আর দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার ব্যাপারটা বিল, নীতির বিষয় ছাড়া এটা প্রযোজ্য হবে না বলে মনে করি।”

তবে ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত নন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল। তার ভাষায়, পার্লামেন্টের ভেতরে অন্য কোনো আইন সচল না; সেখানে সবকিছু হবে সংবিধান মেনে। ফলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

জাহেদ ইকবাল বলেন, “আর্টিকেল সেভেন্টিতে বলা আছে–একদম প্লেইন রিডিংটা হল, আপনি যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ওই দলের বিপক্ষে সংসদে যদি ভোট দেন, তাহলে আপনার সংসদ সদস্যপদ চলে যাবে। একদম পরিষ্কার সাদা আলাপ। এটার অন্য কোনো ইন্টারপ্রিটেশনের দরকার নেই।”

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য, সুপ্রিস কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূইয়াও বলছেন, "বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদই তো কার্যকর হওয়ার কথা।”

৭০ অনুচ্ছেদ থাকলে সংসদে যথাযথভাবে গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব কি না, সেই সমালোচনা বহুবার হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনও এই বিধানে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল, অর্থবিল ছাড়া অন্য যে কোনো বিষয়ে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্যদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। 

বিএনপির নির্বাচনি ইশতোহারেও এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা রয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে ‘দুয়েকটি বিষয় ছাড়া’ ফ্লোর ক্রসিংয়ের সুযোগ উন্মুক্ত করে দিতে চায় দলটি। তবে সংবিধান সংস্কারের অন্যান্য উদ্যোগের মত এ বিষয়টিও ঝুলে আছে।  

ভোটাভুটির সর্বশেষ অভিজ্ঞতা

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে; জামায়াত ছিল তাদের জোটে। বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। সেবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকায় ৮ অক্টোবর প্রথমবারের মত সংসদ কক্ষে ভোট হয়।

বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০ আসন, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল ৫, সিপিবি ৫, ইসলামী ঐক্যজোট ১, ন্যাপ (মোজাফফর) ১, গণতন্ত্রী পার্টি ১, এনডিপি ১, জাসদ (শাহজাহান সিরাজ) ১ ও ওয়ার্কার্স পার্টি ১ আসন পেয়েছিল।

সেবার ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসন ছিল ৩০টি। সব মিলিয়ে ৩৩০ জনের মধ্যে সেসময় ৬৬ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। এরমধ্যে জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সদস্যরা ছিলেন বলে জানান সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ।

১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন যুগ্মসচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ইসির কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। ৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সেবারই প্রথম প্রকাশ্য ভোট হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। 

“যিনি ভোট দিচ্ছেন তিনিও প্রকাশ্যে দিচ্ছেন; ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে তা দেখছেন। দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখছেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিল তা নোটও নিচ্ছেন নিজ দলের এজেন্টরা।”

ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়–জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেযনি; আব্দুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।

আট কলামের এ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং দলীয় প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিনও তাকে ভোট দেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি। 

জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করেন। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ সেদিন সংসদে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন।

সংসদ কক্ষের ভেতরে চারটি কক্ষে একযোগে ভোট শুরু হয় দুপুর ২টায়। বিরতি ছাড়াই ৫টা পর্যন্ত চলে।

বিএনপির চেয়ারপারসন ও তখনকা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকাল ৫টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি। 

৫টা ৫ মিনিটে ভোট গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আব্দুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছেন ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ইসির অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী ২০০১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন।

তিনি জানান, বিএনপির প্রার্থী বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিপরীতে সেবার আরেকজন প্রার্থী হয়েছিলেন, তিনি কোনো দলীয় প্রার্থী ছিলেন না। নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করলেও পরে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভোটাভুটির আর দরকার হয়নি।

এবার ভোটার কত

সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। 

এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন।

এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে। 

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ১৬ অগাস্ট আর ১৮ অগাস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। ভোট হবে ২০ অগাস্ট।

কীভাবে ভোট দিতে হয়

রাষ্ট্রপতি আইনের ১০ ধারায় বলা হয়েছে, সংসদ-সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন৷ প্রত্যেক সংসদ-সদস্যের একটি মাত্র ভোট থাকবে৷

 >> প্রত্যেকটি ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে৷ কাউন্টার ফয়েলে প্রত্যেক ভোটারের নাম ও বিভক্তি সংখ্যা মুদ্রিত থাকবে এবং ভোটারের স্বাক্ষরের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকবে৷

>> ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে প্রত্যেক ভোটারের বিভক্তি সংখ্যা এবং রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থীদের নাম আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে সরল রেখার মধ্যে পৃথকভাবে মুদ্রিত থাকবে এবং প্রত্যেক নামের বিপরীতে ভোটারের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার নির্দিষ্ট স্থান থাকবে৷

>> প্রত্যেক ভোটার তার জন্য নির্দ্দিষ্ট ব্যালটের কাউন্টার ফয়েলে নিজের নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করবেন৷ তারপর আউটার ফয়েলে তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তার নামের বিপরীতে নির্দ্দিষ্ট স্থানে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন এবং তা সংরক্ষিত ব্যালট বাক্সে রাখবেন৷

 >> নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে সংসদ কক্ষের ভেতরে একাধিক ভোট কাউন্টার বসাতে পারবে৷

‘বিভক্তি সংখ্যা’ বলতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী প্রত্যেক সংসদ-সদস্যকে বরাদ্দকৃত বিভক্তি সংখ্যা বোঝাবে। ‘আউটার ফয়েল’ বলতে ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়ি ছাড়া বাকি অংশ বোঝাবে৷

পুরনো খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে? সংসদ অধিবেশন ডাকতে হয়?

অলি আহমদকে জামায়াতজোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির ইশতেহার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি পাল্টে কী হবে? একমত হতে পারেনি দলগুলো