Published : 06 Jan 2026, 08:08 PM
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার ‘শঙ্কা’ কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন অংশ একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে ‘ঝুঁকে যাওয়ার’ পাশাপাশি ‘সামান্য কারণে, সংশোধনযোগ্য মনোনয়ন বাতিল করে’ রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থীদের ভাবমূর্তি ‘নষ্ট করেছেন’।
মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসির সঙ্গে বৈঠক থেকে বের হয়ে এ কথা বলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র রোববার বাছাই শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা; আর বাতিল হয়েছে ৭২৩ জনের।
নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার ‘শঙ্কা’ থাকার কথা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আতাউর রহমান বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে এবং তাদের প্রধানরা ‘ভিভিআইপি প্রটোকল’ ভোগ করছেন, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির পথে বড় বাধা।
“সুষ্ঠু নির্বাচনে নিয়ে আমাদের শঙ্কা আছে, তারপরও আশাবাদী, আমরা একটা ভালো নির্বাচন চাই।
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে বাড়াবাড়ি করছে। শোকের নামে মাসব্যাপী স্কুলে পোস্টার লাগিয়ে রাখা হয়েছে।”
আপিলে মনোনয়ন ফিরে পাবেন, এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে দাবি করে আতাউর রহমান বলেন, “আমাদের প্রার্থীদের মধ্যে একজনের মাত্র এক হাজার টাকার কম বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আরেকজনের ক্ষেত্রে ব্যাংকে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে স্টেটমেন্ট দিলেও শুধু ‘ওপেনিং ডেট’ উল্লেখ না থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি।
“সাত-আট জায়গায় স্বাক্ষরের মধ্যে এক-দুই জায়গায় ভুলবশত স্বাক্ষর না থাকা বা ছোটখাটো ‘ক্লারিক্যাল মিস্টেকের’ কারণেও অনেকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
“ঋণ খেলাপি, তথ্য গোপন বা মামলার মতো গুরুতর ও যৌক্তিক কারণ থাকলে বাতিল করা মানা যায়। কিন্তু যেসব বিষয় সমাধানযোগ্য বা সংশোধনযোগ্য, সেগুলো নিয়ে অতীতে ছাড় দেওয়া হলেও এবার কড়াকড়ি করা হয়েছে। এর ফলে প্রার্থীরা ইমেজ সংকটে পড়ছেন এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কিছু প্রার্থীর ক্ষেত্রে এসব ছোটখাটো ত্রুটি ক্ষমা করা হলেও আমাদের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এটি স্পষ্ট বৈষম্য।”
২৮ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র।
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে আতাউর বলেন, “এখনো পর্যন্ত লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। কমিশন আমাদের জানিয়েছে, ৭০ শতাংশের মতো উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক অবৈধ অস্ত্র রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে অস্ত্র উদ্ধারের যে গতি থাকা উচিত, এবার আমরা তার চেয়ে কিছুটা কম লক্ষ্য করছি।”
নির্বাচন কমিশন গণভোটের বিষয়ে তৎপর না দাবি করে এই নেতা বলেন, “গণভোটের বিষয় নির্বাচন কমিশন তৎপর না। গণভোটে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয় দেশ আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ফিরে যাবে।”
২৬৮ আসনে নিজেদের প্রার্থী আছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াতের সাথে আসন সমোঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।”
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউর রহমানের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের যুগ্মমহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতা।