Published : 22 Feb 2026, 02:25 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে বাংলাদেশ প্রথমে ‘গোপনীয় ও প্রকাশযোগ্য নয়’ বললেও, সাক্ষরের পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে চুক্তির চূড়ান্ত কপি প্রকাশ করে দেয়। পড়া শুরু করার পর প্রথমে দুই দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য করা একটা মামুলি চুক্তি মনে হলেও ধীরে ধীরে এটা অনুধাবন হতে থাকবে যে, কেউ তার দেশকে কতটা ঘৃণা করলে, কতটা স্বার্থান্বেষী হলে—নিজ দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে এরকম একটা চুক্তি সম্পাদন করতে পারে!
বাংলাদেশ ও আমেরিকার বাণিজ্য
কোনো সন্দেহ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের বাৎসরিক বাণিজ্য ৮০০ কোটি ডলার, তবে বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশ সেখানে এগিয়ে। এর অর্থ হলো আমদানির তুলনায় বাংলাদেশ রপ্তানি বেশি করে। বছরে গড়ে ৬০০ ডলারের পণ্য রপ্তানির বিনিময়ে আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য।
গত বছরের এপ্রিলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন বাংলাদেশী পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন, তার পেছনের কারণ হিসেবে এই ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিকে দেখানো হয়েছিল। ফলে ঘাটতি কমানোর জন্য বাংলাদেশ ওয়াশিংটনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। নানা দেনদরবার শেষে অগাস্টের ১ তারিখে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন বাংলাদেশের জন্য শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বেশ তৃ্প্তির ঢেকুর শোনা গিয়েছিল, বলা হয়েছিল, দরকষাকষিতে মূলত বাংলাদেশের জয় হয়েছে। তবে বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি করা হবে, সেটি ‘তেমন বড় কিছু নয়’। সর্বশেষ এ মাসের ৯ তারিখে চুক্তি সাক্ষর হলো, বিনিময়ে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরও ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে নেমে আসল।
ছয়টা খণ্ডে ২৯টি ধারা ও ২০০-এর বেশি উপধারা আছে চুক্তিতে, সঙ্গে আছে তিনটি সংযুক্তি। ৩২ পৃষ্ঠার চুক্তিতে ‘আমেরিকার তুলা কিনলে গার্মেন্টস পণ্যে ছাড় পাওয়া যাবে, আর শুল্ক ১ শতাংশ কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে’–এই একটি লাইন ছাড়া আর একটি ধারাও নেই; যা কার্যত বাংলাদেশের পক্ষে গেছে।
কি আছে চুক্তিতে?
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ আমেরিকা থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে, ১৫ বছরে জ্বালানি কিনবে ১৫শ’ কোটি ডলারের, তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল হিসেবে তুলা কিনবে, বছরে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করবে। টাকার অঙ্কে বেশ বড়সড় শোনানো এসব সংখ্যা নিয়ে বেশ হইচই হলেও এই চুক্তির সমস্যা মূলত অন্য জায়গায়। আমেরিকার পণ্যেরে জন্য আমদানি শুল্ক শূন্য করা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাধ্যতামূলক পণ্য আমদানি করা, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুলে দেওয়া, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারা, দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করাসহ চুক্তির প্রায় প্রতিটি ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ঢুকবে বিনাশুল্কে কিন্তু বাংলাদেশকে দিতে হবে শুল্ক
চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আাসা প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের বেশি পণ্যের ওপর হয় শুল্ক কমাতে হবে বা সেটিকে শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ফলে দেশকে হারাতে হবে বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আয়! কিন্তু আমেরিকা যখন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করবে তখন সে সংখ্যা দেড় হাজার। শুল্ক কতটা ধার্য হবে, ওটা ওদের মর্জির ওপর নির্ভর করবে। ব্যাপারটা এরকম যে, বাংলাদেশ আমেরিকার জন্য তার দরজা পুরোটা খুলে দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র দরজা খোলা রাখবে কিনা, তা পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
যেসব পণ্য নিয়ে চুক্তি হয়েছে সেটা শুনলেও বিস্মিত হতে হয়। কৃষিজাত পণ্য থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য, ওষুধ, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, মাংস, চিজ–কি নেই সেই তালিকায়। ৫.১ নম্বর ধারার অংশবিশেষটা এরকম: যুক্তরাষ্ট্র খনিজ সম্পদ উত্তোলন থেকে শুরু করে অনুসন্ধান, পরিবহন, বিতরণে সরাসরি অংশ নেবে, সেখানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগ আমেরিকাকে দিতে হবে। ধরুন পেট্রোবাংলা দেশের অভ্যন্তরে খনিজ অনুসন্ধান করে। এখন আমেরিকার একটা কোম্পানি চলে আসলে পেট্রোবাংলার অস্তিত্ব থাকবে?
আমেরিকার পণ্যের মান যাচাই করা যাবে না
চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার পণ্য যখন ঢুকবে, বাংলাদেশ সেখানে কোনো ধরনের কোটা আরোপ করতে পারবে না, কোনো ধরনের পরীক্ষা বা মান নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে না। ধরুন, বিএসটিআইয়ের মত প্রতিষ্ঠান যদি মনে করে আমেরিকা থেকে আসা খাদ্যপণ্যে অতিরিক্ত রাসায়নিক আছে, বা আমেরিকার বীজ বাংলাদেশের তিনফসলি জমির জন্য উপযোগী নয়, কীটনাশক ব্যবহার করলে ক্ষতিকর আগাছা বাড়বে, দরকারি কীটপতঙ্গ সব মরে যাবে–সেসব গ্রহণযোগ্য হবে না। আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন, খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআইয়ের মত প্রতিষ্ঠানের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
একতরফা শ্রম আইন
বাংলাদেশে শ্রম আইন হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দমত। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্ট্যান্ডার্ড এখানে প্রযোজ্য হবে না। কোনো কারণে বাংলাদেশ যদি শ্রম আইন মানার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে একতরফা শাস্তি দিতে পারবে, মানে শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারবে। ধরুন যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে যে, বাংলাদেশের ইপিজেডগুলোতে শ্রম অধিকার বিষয়ক যেসব নীতিমালা আছে তা যথেষ্ট নয়, সেক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পোশাকের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারবে।
ডেটা লোকালাইজেশনের অধিকার হারাবে
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ডেটা লোকালাইজেশন করতে পারবে না, ডিজিটাল সার্ভিসের ওপর ট্যাক্স বসাতে পারবে না, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করতে হবে। তার মানে হল, যদি বাংলাদেশ ফেইসবুক বা গুগলকে স্থানীয়ভাবে সার্ভার স্থাপন করতে বলে সেটা তারা শুনতে বাধ্য নয়, আমাজান তার বিক্রি করা পণ্যের ওপর ট্যাক্স দেবে না। ডিজিটাল অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
একটা উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা আছে। এখন আমেরিকা চাইলে বাংলাদেশ অবশ্যই চীনের সব কোম্পানিকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য থাকবে, কারণ চুক্তিতে পরিস্কার বলা আছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাণিজ্য ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশকে একই ব্যবস্থা নিতে হবে, বাংলাদেশ তৃতীয় দেশের কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে, বাংলাদেশ আর কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি কিনতে পারবে না।’ দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা নীতি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর হয়ে পড়বে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বন্ধ, দেওয়া যাবে না ভর্তুকি
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের নিজস্ব একটি কোম্পানি বিনিয়োগ করার সময় যেসব সুবিধা পাবে, আমেরিকার একটা কোম্পানিকেও অনুরূপ সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু আমেরিকার কোম্পানি যদি পরিবেশ দূষণ করে, তার জন্য বাংলাদেশ তাকে শাস্তি দিতে পারবে না। এখন আমেরিকার একটা কোম্পানির সঙ্গে লাল-তীর কি আর দাঁড়াতে পারবে? লাল-তীর যদি কোনো কারণে বিপদে পড়ে তাকে আবার সরকার ভর্তুকি দিতে পারবে না–সেটাও পইপই করে বলা আছে চুক্তিতে।
আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন ওষুধ বাংলাদেশে বিকাশমান একটা শিল্প। এখন আমেরিকা থেকে ট্যাক্স ফ্রি ওষুধ দেশে আসতে শুরু করলে, বা ওখানকার কোম্পানি এখানে এসে ওষুধ বানানো শুরু করলে এখানকার একটা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে? আমেরিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পড়ে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প শেষ হয়ে যাবে না? তাও আবার আমেরিকার কোম্পানিকে দিতে হবে না কোনো ট্যাক্স!
অভিন্ন চুক্তি কিন্তু ভিন্ন শাস্তি
দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে সেটা যেই অমান্য করুক, শাস্তিও তো সমান হওয়ার কথা, তাই নয় কি? এটা একটা আন্তর্জাতিক চুক্তির বেসিক দিক। কিন্তু এই চুক্তিতে এসবের বালাই নেই। যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে বাংলাদেশ চুক্তি মানেনি, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে পারবে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভঙ্গ করলে বাংলাদেশ কোনো প্রতিকার তো পাবেই না, প্রতিকার চাওয়ার জন্য কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার কাছেও যেতে পারবে না। তবে দুই পক্ষই ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে বের হয়ে যেতে পারবে।
তুলা কিনলে তৈরি পোশাকের শুল্ক মাফ: শুভংকরের ফাঁকি?
বাংলাদেশ তুলা আমদানি করে মূলত ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, উজবেকিস্তান, পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে। এর মধ্যে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ বেশি, ২৫-৩০ শতাংশের মত, এর পেছনে কারণ আছে।
ভারতের তুলা দামে সস্তা, স্থল ও সমুদ্র দিয়ে আসতে পারে বলে পরিবহন খরচ কম, অর্ডার দেওয়ার ৭-১০ দিনের ভেতর চলে আসে, ফলে সেই তুলা মজুত করতে হয় না। ভারতীয় তুলার মান মাঝাারি, কিন্তু স্পিনিং মিলের জন্য ঠিক আছে।
আমেরিকার তুলার দাম বেশি, অর্ডার দিলে দেশে আসতে সময় লাগে ৩০-৪৫ দিন, পরিবহন খরচ বেশি, তবে তুলার মান ভারতের চেয়ে ভালো। এই তুলা সাধারণত খুব ব্যয়বহুল জামাকাপড়ের জন্য ব্যবহার হয়। তার মানে খরচ বাঁচে এরকম উৎস বিবেচনা করলে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী বাজার হলো ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ।
কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটি প্রচার করেছে যে, তুলা কিনলে বাংলাদেশে গার্মেন্টস পণ্য বিনাশুল্কে আমেরিকায় ঢুকতে পারবে, যা মূলত সত্য নয়। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত দিয়ে রেখেছে যে, বাংলাদেশ আমেরিকার কাছ থেকে তুলা কিনে পোশাক বানালে শুধু ওই পোশাকের ওপর শুল্ক বসবে না। বাংলাদেশ তার মোট পোশাকের মাত্র ১৮ থেকে ২০ শতাংশ আমেরিকায় রপ্তানি করে। এখন কি বাংলাদেশ এই ১৮ শতাংশ রপ্তানির জন্য ১০০ শতাংশ তুলা আমেরিকা থেকে কিনবে?
এই একটি কারণে বিরাট বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। আমেরিকার ওপর বাণিজ্য নির্ভরতা তৈরি হবে, তুলা কেনার শর্ত মানতে হবে! শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে বাংলাদেশ কম দামি পোশাক বানাবে কি করে, কারণ পোশাক উৎপাদনের খরচ বাড়বে। এর মানে হল পোশাকের বিরাট এক বাজার হারাবে বাংলাদেশ। যে দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্পিনিং মিল ভারতীয় বা আফ্রিকান তুলা দিয়ে চলে, সে হঠাৎ করে বেশি দামের তুলার ব্যবহার শুরু করলে তার সেই পোশাক কিনবে কে?
নতুন সরকারের জন্য সংকট
বিএনপি সরকার গঠন করেছে। কিন্তু এটা বলা যায় যে, এই চুক্তি কার্যকর থাকলে নতুন সরকারের পক্ষে দেশ চালাতে কঠিন হবে। বিশ্বজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার। সোমবার নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তবে আদালতের এই স্থগিতাদেশের রেশ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনের আশ্রয় নিয়েছে। প্রথমে বিভিন্ন দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা এলেও, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, চুক্তি বাতিল বা নতুন করে পর্যালোচনা করার মত পরিস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের আছে কিনা? আমার এক শিক্ষক সেদিন বলছিলেন, তুমি ব্রাসেলসে হাঁটার সময় রাস্তায় যত মানুষ দেখবে, জেনে রেখো যে, প্রতি ১০ জনের একজন লবিস্ট বা দালাল। এই চুক্তিটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, আমরা গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী যে সরকার পেয়েছিলাম সেটা আসলে মূলত লবিস্টদেরই সরকার, যারা বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে তুলে রীতিমত দর কষাকষি করে বিক্রি করে দিয়েছে।