Published : 25 Mar 2026, 10:06 AM
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি মনে রাখার ক্ষেত্রে ইরানিরা অতুলনীয়। তারা যেভাবে পারস্যে খ্রিস্টপূর্ব ৩৪৪ সালে আলেকজান্ডারের আক্রমণের কথা স্মরণ করে, মনে হয় যেন তা গত সপ্তাহের মঙ্গলবারে ঘটেছে। সপ্তম শতাব্দীর আরব বিজয় এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর মঙ্গোল আক্রমণ তাদের কাছে এতই জীবন্ত, যেন তা সাম্প্রতিক ঘটনা।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলের উস্কানিতে ও আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতায় ইরানের ওপর যে আক্রমণ শুরু হয়েছে, তার অংশ হিসেবে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ ও নৃশংস ধ্বংসযজ্ঞ চলছে; আর এর মধ্য দিয়েই দেশটি তার দীর্ঘস্থায়ী ও প্রলম্বিত ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ে আবার প্রবেশ করছে। ইরান এখন এমন এক সংঘাতে লিপ্ত; যেখানে তাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে আঞ্চলিক দখলদার ইসরায়েল এবং অকার্যকর মার্কিন সাম্রাজ্যের সম্মিলিত ও চরম বিদ্বেষপূর্ণ ঔপনিবেশিক-সাম্রাজ্যবাদী গুণ্ডামি—যে সাম্রাজ্যকে ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে স্রেফ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত নৃশংসভাবে ব্যবহার করে আসছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছত্রাকের মতো হঠাৎ করে গজিয়ে উঠেননি, তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নন। তার নীতি ও চিন্তার পেছনে রয়েছে বসতি-উপনিবেশের চারপাশের রাষ্ট্রগুলোর প্রতি চরমপন্থী জায়নবাদের শয়তানিময় প্রভাব, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরে প্রোথিত। ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং এই মুহূর্তে ইরান—সবখানেই ব্যাপক ধ্বংস ও হতাশা দেখা যাচ্ছে। ইরানের ওপর এই আক্রমণ জায়নবাদীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের অংশ, ঠিক যেমনটা তারা চেয়েছে।
তাই ইরান যখন আবার তার ঐতিহাসিক স্মৃতির বুকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ফিরে আসে, তার তাৎপর্য যতই বলা হোক, কমই বলা হবে।
জাতীয় সার্বভৌমত্ব
ইরান বহুবার বাইরের আক্রমণের শিকার হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে আলেকজান্ডারের আক্রমণে একমেনিড সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। সপ্তম শতাব্দীতে আরব বিজয় সাসানীয় সাম্রাজ্যকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। এরপর তুর্কি ও মঙ্গোল আক্রমণ আসে, যার প্রতিটি আক্রমণই উত্থান-পতনে পূর্ণ। এভাবে ইতিহাস যেন দ্রুতগতিতে উন্মোচিত হতে থাকে।
১৭২২ সালের আফগান আক্রমণে সাফাভিদ সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। অষ্টাদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত রাশিয়ার অনুপ্রবেশ চলতে থাকে। এরপর ১৯৪১ সালে ইঙ্গ-সোভিয়েত অভিযান এবং ১৯৮০-১৯৮৮ সালে ইরাকি আক্রমণ সংঘটিত হয়। এই দীর্ঘ ইতিহাস ও স্মৃতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে।
এগুলো সেই মাইলফলক যা দেখায় কিভাবে ইরান সুদীর্ঘ ইতিহাসে বিশ্বজয়ী শক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী দখলদারিত্বের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এখন দেশটি এক ইউরোপীয় বসতি-উপনিবেশ দ্বারা দুঃসাহসী ও নির্লজ্জ আক্রমণের লক্ষ্য। যা লেজ হয়ে কুকুর নাড়ানোর মতোই মার্কিন সাম্রাজ্যকে পরিচালিত করছে।
এই ধারাবাহিক আগ্রাসনের দীর্ঘ ইতিহাস ও অবিচ্ছিন্ন স্থায়িত্ব ইরানকে একটি সভ্যতাগত ঐক্যে রূপ দিয়েছে। শুধু নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত প্রবাহই নয়, বরং সময়ে সময়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া আক্রমণও দেশটির ধারাবাহিকতা ও ঐক্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিটি বিজয়ের পর, ইরান এবং তার মহান পারস্য শহর আরও শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেছে। কোনো রাষ্ট্র কখনো দেশের সার্বভৌমত্বে স্থায়ী অধিকার স্থাপন করতে পারেনি; তারা সবাই অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি। আসে এবং চলে যায়। সত্যিকারের সার্বভৌমত্ব ও মাতৃভূমির মালিকানা সম্পূর্ণরূপে বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে মোড়া ইরানি জনগণের হাতে, যারা আজ শাসন করছে এবং আগামীকাল চলে যাবে, তাদের নয়। ইউরোপিয়ানরা ইসরায়েল নামের বিষাক্ত ছুরি ও গণহত্যামূলক বন্দীখানা ফিলিস্তিনের বুকে স্থাপন করেছে। কিন্তু এ জঘন্য বসতি-উপনিবেশকারীরা সে সহজ সত্য বোঝার ক্ষমতা রাখে না। ইহুদি ইতিহাস এবং ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করার পর তারা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জমি দখল, গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও নাগরিক হত্যা, নারী ও শিশুদের জীবন্ত পোড়ানো, তেলক্ষেত্র ধ্বংস এবং ভূ-সম্পদ লুটপাট—এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে এতটাই মগ্ন যে অন্য কোনো সত্য বোঝার সময়ই তাদের থাকে না।
সহিষ্ণু সভ্যতা
ইরানিরা হতাশাকে শক্তিতে রূপান্তর করেছে। তারা লেবুর তিক্ত রসকে ঈর্ষণীয় সভ্যতার মিষ্টি পানীয়ে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে। আলেকজান্ডারের আক্রমণ ফেরদৌসী, নেজামী ও জামীর মতো মহাকবিদদের হাতে আলেকজান্ডার রোমান্সের চমৎকার ক্যানভাস উপহার দিয়েছিল। আরব আক্রমণ ইসলামকে ইরানী ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম মহিমান্বিত ইসলামি সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। মঙ্গোল আক্রমণের পর ইরানি আত্মার বিদ্রোহ শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্থাপত্য, সাহিত্য ও কাব্যে দারুণ উচ্চতায় পৌঁছায়।
রুশ, ব্রিটিশ ও ফরাসি উপনিবেশবাদ পরবর্তী সময়ে, ইরানিরা দস্তয়েভস্কি, শেক্সপিয়র, মন্টেস্কু ও রুসোকে ফারসিতে অনুবাদ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আজ নেতানিয়াহু ও ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানি স্কুলছাত্রীদের হত্যা করতে যুদ্ধবিমান উড়াচ্ছে এবং নাগরিক জীবনের ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে—এ যেন এপস্টেইনের গোপন নথির মতো। এটাই ইরানি ও বিশ্বের সকলের কাছে ইসরায়েল ও ট্রাম্পের প্রকৃত চরিত্র।
এই আক্রমণ চিহ্নিত করেছে এক নৈতিকভাবে পতিত বসতি-উপনিবেশের ষড়যন্ত্রকে, যার ইতিহাস মাত্র ৭০ বছরের বেশি গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণায় দগ্ধ। যারা সাহস করে পাঁচ হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইরানি সভ্যতাকে মুছে দিতে চায়। কিন্তু তাদের পরাজিত ও ধ্বংস হবে ইসলামপন্থী সরকারের খামখেয়ালিপনার মাধ্যমে নয়, বরং ইরানি জনগণের ইস্পাত-কঠিন ইচ্ছাশক্তির জোরে।
ইসরায়েলিরা জানে না তারা কী শক্তির সঙ্গে খেলা করছে। তারা এখনও কঠিন পাথরে আঘাত হেনে দেখেনি, যেমন এক উৎকৃষ্ট পারস্য প্রবাদ বলে। প্রতি আক্রমণ ও বিজয়ের চক্রে ইরানিরা মৃত্যু ও ধ্বংসের নির্মম আঘাত সহ্য করেছে। তারপর পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে নতুন করে বিকশিত করেছে। একসময় তারা তাদের বিজেতাদেরও সভ্য করেছে, কিন্তু ইসরায়েল ও আমেরিকার এই বর্বরতায় সভ্যতা বিকশিত করার মতো কিছুই নেই। কেননা বিশ্ব আজ এপস্টেইনের নথিতে ইসরায়েলকে পাঠ করছে।
ইউরোপীয় বসতি-উপনিবেশকারীরা ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করেছে এবং বিশ্বধর্ম হিসেবে ইহুদিধর্মের ওপর মিথ্যা দাবি প্রতিষ্ঠা করেছে। নিজেদের নামে রেখেছে শুধু বিশ্বাসঘাতকতার কলঙ্কিত ইতিহাস। তাই আজকের ইসরায়েল যেন ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক বর্বরতার জীবন্ত জাদুঘর।
মূল উদ্দেশ্য
এই আক্রমণের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইসরায়েলের উদ্যোগে শুরু হয়েছে। ইরানকে আক্রমণ ও ধ্বংস করার আকাঙ্ক্ষা ইসরায়েলের বহু দশকের। সম্ভবত ১৯৭৭-১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সময়, যখন তারা ঘনিষ্ঠ মিত্র শাহকে হারায়।
ইরানের বিরুদ্ধে এই পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছিল যাতে সহজেই ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে ফাঁদে ফেলা যায়। ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উভয়ই জায়োনিস্ট প্রভাবকদের অনুপস্থিতিতে অসতর্ক মুহূর্তে স্বীকার করেছিলেন। পরে অবশ্য তারা প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি থেকে সরে এসেছিলেন, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
ইরানে ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্য একটাই: ইরানের ওপর বোমাবর্ষণ করে সমগ্র নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা এবং শিল্প ও স্থাপত্যের পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসের প্রতিটি চিহ্ন মুছে ফেলা। তাদের উদ্দেশ্য ইরানের সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সম্পূর্ণভাবে নাশ করা, যেন তা শেকড়হীন, বর্বরতার এক শূন্য ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
ইরানের প্রতি তাদের ঘৃণা শুধু শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তা ছড়িয়ে আছে সমগ্র ইরানি সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিনি বলে কিছু নেই—দীর্ঘ ও সুপ্রমাণিত ইতিহাসকে অস্বীকার করে তারা দাবি করে, ঠিক যেমন তারা চায় যেন ‘ইরানি’ নামে কোনো সত্তা অবশিষ্ট না থাকে।
ইরানিদের স্মৃতি দীর্ঘ ও গভীর। ইউরোপ, আমেরিকা ও কানাডার রাস্তায় যারা রাজতান্ত্রিক সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে, বা যারা রেজা পাহলভির পক্ষে কথা বলছে, তাদের প্রত্যেককে তারা জীবনের শেষ পর্যন্ত জবাবদিহির আওতায় রাখবে।
আমেরিকানরা ও ইসরায়েলিরা
এ যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের, আমেরিকার নয়। আমেরিকানদের বিপুল অংশ এ যুদ্ধের বিরোধী, অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থীরা ইরানের বিরুদ্ধে সমর্থন দিচ্ছে।
ইসরায়েলপন্থী নিউইয়র্ক টাইমস এই যুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়তে আমেরিকান হলুদ সাংবাদিকতার প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। মার্ক লেভিন, বেন শ্যাপিরো ও বারি ওয়েইসের মতো ‘ইসরায়েল প্রথম’ মনোভাবাপন্ন কট্টর জায়োনিস্টরা আমেরিকার জনমতের ময়দানে ক্রমেই জমি হারাচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের কলামনিস্ট মিশেল গোল্ডবার্গ লিখেছেন, “কিছুদিন ধরেই স্পষ্ট ছিল, আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলের প্রতি ক্রমে শীতল হয়ে উঠছে। কিন্তু গ্যালাপের জরিপ এক নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে—২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার, আমেরিকানদের মধ্যে ইসরায়েলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি বেশি।”
আমেরিকানরাও মানুষ। তারা দু’বছরের বেশি সময় ধরে একটি জাতির ওপর চলমান গণহত্যা দেখলেও গণহত্যামুখী জায়োনিজমের প্রতি অটল থাকতে পারে না। টাকার কার্লসন, নিক ফুয়েন্তেস ও ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখন প্রকাশ্যে এসে ইসরায়েলকে উন্মোচিত করছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস তাদের ‘ডানপন্থী’ বলে আখ্যা দিয়ে এ ব্যাপারে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করছে। তারা যদি আতিলা দ্য হানের চেয়েও ডানদিকে অবস্থান করত, তবুও নির্দিষ্ট প্রশ্নে তারা সত্যই বলছে। একটি ভাঙা ঘড়িও দিনে দু’বার ঠিক সময় দেখায়।
এই আগ্রাসনের দ্বিতীয় পরাজিত পক্ষ হলো পাহলভি-ঘরানার নব্য-ফ্যাসিস্ট এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। তারা ইরানকে দানবায়িত করতে এবং গণহত্যামুখী ইসরায়েল ও তার আমেরিকান পৃষ্ঠপোষকদের আড়াল করতে নিউইয়র্ক টাইমসের মাধ্যমে অবিরাম সুযোগ পাচ্ছে। একজন সম্প্রতি একটি লেখা প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনি নিহত আলি খামেনির দৃষ্টির আতঙ্ক নিয়ে লিখেছেন। এই লেখকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ক্যালিফোর্নিয়ায়। একজন আমেরিকান হলেও ট্রাম্পের মতো এক পেডোফিলিয়াক স্বৈরাচারের দৃষ্টির কথা বলার মতো শব্দ তার নেই। অথচ মৃত ইরানি শাসকের দৃষ্টি নিয়ে লেখার সময় তিনি ঠিকই তা খুঁজে পেয়েছেন।
এই বিপর্যয়ের তৃতীয় দিক হলো ইরানের সরকারের কাঠামোগত দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক বৈধতা সৃষ্টি ও ধরে রাখার অক্ষমতা। এমন অবস্থায় রেজা পাহলভি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতো উন্মাদ গোষ্ঠীও তাদের জবাবদিহিতার মুখে দাঁড় করাতে পারে।
ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রতি আমার বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই। লক্ষ লক্ষ ইরানের মতো আমিও আমার মাতৃভূমির ইতিহাসের উত্তরাধিকার অধিকার দাবি করছি এবং সার্বভৌম জাতির সভ্যতাগত ভিত্তি ধ্বংসের প্রচেষ্টার জন্য ইসরায়েল ও তার আমেরিকান সহযোগীদের দায়ী করছি।
লেখাটি মিডল ইস্ট আই থেকে অনূদিত। এর লেখক হামিদ দাবাশি একজন বিখ্যাত ইরানি-মার্কিন লেখক, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্ব এবং ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। তিনি বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটির কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইরানিয়ান স্টাডিজ ও তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার কাজের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানি সংস্কৃতি, মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস, ইসলামি দর্শন ও ইরানি সিনেমা।