Published : 26 Aug 2025, 12:31 AM
মার্চ মাসে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে লাখো শরণার্থীর সামনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন রোহিঙ্গারা আগামী রোজার ঈদ তাদের নিজ দেশে অর্থাৎ মিয়ানমারে পালন করবে। কিন্তু সেই মুহূর্তেই এই আশার বাস্তবতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, জাতিসংঘ বা অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে কি এমন কোনো ‘জাদু’ আছে, যা দিয়ে এক বছরের মধ্যে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব?
গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকেই রোহিঙ্গারা কমবেশি করে বাংলাদেশে এলেও সবচেয়ে বড় ঢল নামে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট। ওই ঘটনার ৮ বছরপূর্তি উপলক্ষে সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম: ‘প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত, নতুন এসেছে সোয়া লাখ রোহিঙ্গা। অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্তের ওপারে ২৫-৩০ হাজার।’ তার মানে গত মার্চের ওই ঘোষণার পরে গত পাঁচ মাসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। উল্টো সোয়া লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে ঢুকেছে।
এরকম বাস্তবতায় সোমবার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে কক্সবাজারে আয়োজিত ‘স্টেকহোল্ডারস’ ডায়ালগে যোগ দিয়ে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করা; আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও মানবিক অংশীদারদের সহায়তা অব্যাহত রাখা; আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তৎপরতা বাড়ানো ইত্যাদি। মুহাম্মদ ইউনূস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি বলেছেন তা হলো, রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমারে, তাই সমাধানও হতে হবে সেখানেই।
২০১৭ সালে যখন জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করল, সেই বছর থেকেই শোনা যাচ্ছে মিয়ানমার সরকার ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। কিন্তু যে প্রশ্নটি একজন সাধারণ মানুষের মনেও ছিল বা এখনও আছে সেটি হলো, যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিকই মনে করে না এবং যাদেরকে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো বীভৎস নারকীয়তার মধ্য দিয়ে বাস্তুচ্যুত করেছে—তারা কেন সেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে?
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করেছিল মিয়ানমার। চুক্তি সইয়ের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরুর কথা ছিল। বাংলাদেশ ২০১৮-২০ সালে ছয় ধাপে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের তালিকাও দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে ১ হাজার ১০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর জন্য একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। সেটিও সফল হয়নি। প্রতি বছর বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং চীন বা আসিয়ানভুক্ত দেশের মধ্যস্থতার আশ্বাস মিললেও কোনো রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি।
তবে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাইলেও সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে না। কেননা, নাগরিকত্ব এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা ছাড়া রোহিঙ্গারা কেন রাখাইনে যাবে—এটি আরেকটি বড় প্রশ্ন। তাদের শঙ্কা, সেখানে গিয়ে আবারও যদি হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হতে হয়, তাহলে তারা সেখানে কেন ফিরবে? তাছাড়া জাতিগত সহিংসতা এবং গণতন্ত্রহীনতার কারণে যুগের পর যুগ ধরে মিয়ানমার যে ধরনের সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ও এ মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানোকে নিরাপদ ও মানবিক মনে করে না।
আগামী ডিসেম্বরে মিয়ানমারে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচন হলেই যে সেখানে শান্তি আসবে আর সেই শান্তির সুবাতাস রাখাইন রাজ্যেও বইবে, এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা রোহিঙ্গাদের শেকড় এই রাখাইনের প্রায় পুরো অংশ এখন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে। সেখানে মিয়ানমার জান্তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর বলছে। আবার এই আরাকান আর্মি যেহেতু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বৈরি এবং মিয়ানমার সরকার এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করতে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে বলে শোনা যাচ্ছে—তার ফলে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের দূরত্ব আরও বাড়বে। তাতে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
একটা ধারণার কথা শোনা যাচ্ছিল যে, রাখাইনে আরাকান আর্মির স্বায়ত্তশাসনের লড়াইয়ে সমর্থন দেয়ার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর একটা অনানুষ্ঠানিক চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার করছে—যার নেপথ্যে জাতিসংঘ ভূমিকা রাখছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পরামর্শও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রাখাইনে ‘মানবিক করিডোরের’ আলোচনাটিও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কিন্তু এখানে বিপত্তি বেঁধেছে রাখাইনে এই অঞ্চলের দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ। রাখাইনের রাজধানী সিত্তেকে ঘিরে কালাদান প্রজেক্টে ভারতের কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে। আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল চকপিউয়ে রয়েছে চায়নার মাল্টি মিলিয়ন ডলারের তেল গ্যাস ও বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্প।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের শতভাগ দখলে নিতে আক্রমণ শুরু করছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মূলত গত বছরের শেষদিকে রাখাইন রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তসহ রাখাইনের ১৭টি টাউনশিপের ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নেয় বাহিনীটি। তবে রাজধানী সিত্তে ও চকপিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো ধরে রাখে জান্তা সরকার। সুতরাং রাখাইনের এই অঞ্চলগুলোর দখল নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি মিয়ানমারের ভূরাজনীতি ও গৃহযুদ্ধের ধরনই পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আল জাজিরার এই খবরে বলা হয়, চকপিউ ধরে রাখতে মিয়ানমারের তিন হাজার সেনা যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌশক্তি মোতায়েন রয়েছে। আর তা ফাঁকি দিতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের বর্ষা মৌসুমকেই বেছে নিতে পারে আরাকান আর্মি। সমুদ্র বন্দরগুলো পুরোপুরি আরাকান আর্মির দখলে চলে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত ও চায়নাকে নতুন সংকটে পড়তে হবে। অর্থাৎ রাখাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে আরাকান আর্মির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে চীন ও ভারতকে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষার আলোচনা ও সমঝোতা করতে হবে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে নয়। এটি এই দুই বৃহৎ শক্তির জন্যই একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। কেননা একটি আনুষ্ঠানিক সরকারের সঙ্গে আরেকটি দেশের সরকারের আলোচনা ও সমঝোতা যত সহজ, কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা তত সহজ নয়।
তার মানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সংকটের একটি বড় চক্র জড়িয়ে আছে। শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফোকাস করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, মিয়ানমারে ভারত ও চীনের যেমন ব্যবসায়িক ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বার্থ রয়েছে, তেমনি এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও স্বার্থ রয়েছে। মিয়ানমারের ব্যাপারে আমেরিকা এত বেশি সচেতন যে, এই দেশটির জন্য তারা ‘বার্মা অ্যাক্ট’নামে একটি আইন পর্যন্ত করেছে।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন এবং রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘুর ওপর নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি গৃহীত হয়। মূলত মিয়ানমারের সেনাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ; মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত সামরিক ও ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ককে টার্গেট করা; মিয়ানমারের সামরিক মালিকানাধীন কোম্পানি, খনন, জ্বালানি, রত্নপাথর শিল্পে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সীমিত করা; যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বা নাগরিকদের এসব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে নিরুৎসাহিত করাসহ নানা উদ্দেশ্যে আইনটি গ্রহণ করে মার্কিন কংগ্রেস।
এটি হচ্ছে মুদ্রার একপিঠ। অন্যপিঠ হলো, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এই অঞ্চলে ভারত ও চীনের আধিপত্য মোকাবিলা এবং নিজেদের নানাবিধ স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনে রাখাইন অঞ্চলে মার্কিন নজরদারির কথা বেশ পুরোনো। সুতরাং রাখাইনের রোহিঙ্গা সংকটকে শুধুমাত্র একটি জাতিগোষ্ঠীর মানবিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। বরং এই অঞ্চল ঘিরে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর স্বার্থ এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বও বিবেচনায় রাখা জরুরি। সেইসঙ্গে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো কখন কী বলে এবং তাদের সেই কথা ও কাজের সঙ্গে মিল-অমিলের বিষয়গুলোও মাথায় রাখতে হয়।
যেমন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের আট বছরপূর্তিতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলোর সমাধান প্রয়োজন, যার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল মিয়ানমার আবশ্যক। প্রয়োজন প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি। প্রশ্ন হলো, এই পরিবেশ কে তৈরি করবে এবং কীভাবে তৈরি হবে? বিশ্ব সম্প্রদায় তো বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করছে বলেই দাবি করছে।
এই বিবৃতিতে আরও বলা হয়: ‘আমরা রোহিঙ্গাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরছি, যাতে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষমতাবান হতে পারে এবং বাংলাদেশে অবস্থানকালে নিরাপদ, সম্মানজনক ও গঠনমূলক জীবন-যাপন করতে পারে।’
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছে। রোববার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির শিকার রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের অন্যান্য জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তার মানে আন্তর্জাতিক বিশ্ব মনেই করে যে, রাখাইনে সামরিক জান্তা ও আরাকান আর্মির দ্বারা নিগৃহীত হয়ে রোহিঙ্গারা জান নিয়ে পালিয়ে আসবে আর বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিতে থাকবে! মানবিকতা দেখাতে দেখাতে বাংলাদেশে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। আশ্রয় অব্যাহত রাখলে এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো না গেলে বাংলাদেশে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে—সেটি বিরাট চিন্তার বিষয়।
কেননা ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই কোনো ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে না। উপরন্তু জাতিগত নিধনের শিকার হওয়ার কারণে ভবিষ্যৎ বংশধর বৃদ্ধির বিষয়টিও তাদের বিবেচনায় থাকে। ফলে তাদের জন্মহার অতি উচ্চ। স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টার তথ্যই বলছে, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক জন্ম নিচ্ছে। সুতরাং আগামী ২০ বছরেও যদি বাংলাদেশ থেকে সব রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো না যায় এবং রাখাইন থেকে তাদের আসা অব্যাহত থাকে, তাহলে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—তার চেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিশাল জনগোষ্ঠী কক্সবাজার অঞ্চলের জন্য কী ধরনের মানবিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক এমনকি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে?