Published : 15 May 2025, 09:19 AM
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না কেন, তা নিয়ে অনেকে হা-হুতাশ করেন। বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতি তো অনেকদিন ধরেই খারাপ। হালে এটা আরও খারাপ হয়েছে। সেটা হওয়ারই কথা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির। কবে নাগাদ সুস্থির হবে, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এর চিরাচরিত বাধাগুলোও রয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অবশ্য কাজ করে চলেছে। বর্ণাঢ্য বিনিয়োগ সম্মেলন হয়েছে দেশে। তাতে কত টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, সেটা বড় নয়। বিনিয়োগকারীদের কাছে নতুন কী বার্তা পৌঁছানো গেল, সেটাই বড়।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও খুঁজে বেড়ান এর উপযুক্ত ক্ষেত্র। তারা প্রথম চান বিনিয়োগের নিরাপত্তা। তারপর দেখেন, কতখানি মুনাফা করা যাবে। মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ আছে কিনা, সেটাও। আর বিদেশিরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বিশ্বাসী। এ অবস্থায় তারা চান ‘নীতির ধারাবাহিকতা’। কোনো দেশের কর্তৃপক্ষ ঘন ঘন নীতি বদলালে তারা আস্থা হারান। এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ কেবল বিডার নয়। সরকারকে এ লক্ষ্যে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
আমরা এখন একটা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আছি। এ ধরনের সরকারের অভিজ্ঞতা বিদেশিদের জন্যও নতুন। এর আগে এক-এগারোয় আরেকটি অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য পেয়েছিলাম। সেটার চেয়েও বর্তমান সরকার ভিন্ন প্রকৃতির। প্রেক্ষাপটও ভিন্ন। দেশে একটা নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। সাড়ে ১৫ বছর একনাগাড়ে দেশ চালানো রাজনৈতিক দলটি মাঠে অনুপস্থিত। হালে তাদের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্বাচন কবে হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট রোডম্যাপ এখনও মেলেনি। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন হলেও তাতে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকের মনে। অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার জল্পনাও কম ভেসে বেড়াচ্ছে না। তার মানে, রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এটা হয়তো কাটবে সরকার রোডম্যাপ সুস্পষ্ট করলে। এ অবস্থায় অনেকে বলছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে হয়ে যাওয়াই ভালো। এতে নির্বাচনপ্রত্যাশী দলগুলোই কেবল আশ্বস্ত হবে না। আশ্বস্ত হবেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে দেশি বিনিয়োগকারীরাও আছেন। অর্থনীতিতে এসব বিনিয়োগকারীর ভূমিকা তো গুরুত্বপূর্ণ।
দেশি বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ‘আমরা বিনিয়োগে উৎসাহী না হলে বিদেশিরা আসবেন কেন’? দেশি, বিদেশি উভয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্তগুলোও প্রায় অভিন্ন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এর মধ্যে প্রধান বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া না থাকলে বিনিয়োগ হবেই না, তা নয়। বিনিয়োগকারীরা আসলে দেখতে চান, বর্তমান সরকারটি কতদিন থাকবে আর নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে কিনা। অন্তর্বর্তী সরকার যদি একটা গণভোট দিয়ে চার-পাঁচ বছরের জন্য মেয়াদ স্থির করে নেয় এবং অর্থনৈতিক সংস্কারে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করে, তাহলেও হয়তো দেখা যাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনপ্রত্যাশী দলগুলো অবশ্য গণভোটের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবে না। বিশেষত যারা মনে করে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই ক্ষমতায় যাবে। রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যেতে চাইবে, সেটাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে না পারলে তার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে কীভাবে? রাজনৈতিক দল তার ‘আদর্শ’ বাস্তবায়নেও ক্ষমতায় যেতে চাইবে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা অবশ্য সব দলই বলছে। তবে কোনো কোনো দল ক্ষমতায় এলে নারীর কর্মসংস্থানে জটিলতা সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। যে দেশে নারী ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে শ্রমবাজারে উপস্থিত, সেখানে সংশ্লিষ্ট দলকেও ব্যাখ্যা করে বলতে হবে– নারী কর্মীর বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী।
বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনার শুরুতেই দেখা দরকার, দেশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন কিনা। চিত্রটি হতাশাজনক। গেল বছরের তুলনায় বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবাহ বাড়লো কিনা, তা দিয়েও বিচার করা হয় বিনিয়োগ পরিস্থিতি। এক্ষেত্রে ক’বছর ধরেই পরিস্থিতি নেতিবাচক। চলতি অর্থবছরে এর আরও অবনতি হয়েছে। এদেশে বিনিয়োগ প্রধানত আসে ব্যাংক থেকে; শেয়ারবাজার থেকে নয়। হালে শেয়ারবাজারের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতও এতে প্রভাব ফেলেছিল। তবে ঋণের সুদের হার চড়ে যাওয়াটাই এজন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে হয়। বেশি সুদ মিলছে বলে শেয়ারবাজার থেকেও অর্থকড়ি চলে যাচ্ছে ব্যাংকে।
চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ব্যাংক থেকে টাকাপয়সা তুলে ব্যক্তিগত ভোগে ব্যয়ের প্রবণতাও বেড়েছে। ব্যাংকের ওপর আস্থা কমায় আমানত রাখার প্রবণতাও কম। এতে অনেক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা কমেছে। যেসব ব্যাংকের হাতে প্রচুর অর্থ, তারাও সেভাবে ঋণ বিতরণ বাড়াতে পারছে না। অধিক সুদে বিনিয়োগকারীরা ঋণ নিতে অনিচ্ছুক। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা অপেক্ষাকৃত কম সুদে আন্তর্জাতিক ঋণ নিচ্ছেন ডলারে। ডলারের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল বলে অবশ্য আশা করা হচ্ছিল, এতে বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা বাড়বে। সেটা হয়নি– বিনিয়োগ বাড়ার অন্যান্য কারণ আকর্ষণীয় হয়নি বলে। বিনিয়োগ সম্মেলন চলাকালেই কিন্তু একাধিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দেশীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা হয় গাজা ইস্যুতে। এতে দেশিরাও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহী হওয়ার কথা নয়। যেটুকু বিনিয়োগ তাদের রয়েছে, সেটুকু রক্ষাতেই তারা বরং ব্যগ্র হবেন। নিজ যোগাযোগে থাকা বিদেশিদেরও তারা হয়তো বলবেন, কিছুদিন অপেক্ষা করাই ভালো।
এর মধ্যে সুখবর অবশ্য– রপ্তানি আয় বাড়ছে। ডলারে পাওয়া যায় বলে এটা ডলার বাজার ও রিজার্ভকে শক্তিশালী করে। রিজার্ভকে অবশ্য বেশি শক্তিশালী করে চলেছে প্রবাসী আয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রবাসীরা তাদের আয় পাঠানো বন্ধ করেছিলেন প্রতিবাদ হিসেবে। সৌদি আরবের মতো কোথাও কোথাও স্থানীয় আইন ভেঙে বিক্ষোভে নেমে জেলে যান। অন্তর্বতী সরকার তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করেছে। তবে শুধু এ কারণেই প্রবাসী আয় বাড়ছে না; এটা বাড়ছে মূলত ডলারের মোটামুটি একটি দাম কার্যকর হয়েছে বলে। অর্থ পাচার এবং এ কাজে হুন্ডির ব্যবহার অনেক কমেছে বলেও সরকারের দাবি। কোরবানি ঈদের কারণে চলতি মাসেও বড় প্রবাসী আয় আসবে বলে ধারণা। এ অবস্থায় দু’মাস পরপর ‘আকু পেমেন্ট’ পরিশোধের পরও দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ মোটামুটি স্বস্তিকর।
বিদেশি ঋণ পরিস্থিতি যখন খারাপ, তখন প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহকে আশীর্বাদ বলা যায়। এ অবস্থায় অবশ্য আরেকটা সুখবর এসেছে আইএমএফ থেকে। অনেক দেন-দরবার শেষে এসেছে সুখবরটি। সংস্থাটি থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি বাবদ আমরা ১.৩ বিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছি। এটা সরাসরি যুক্ত হবে রিজার্ভে। তাতে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি বাড়বে। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি আগে থেকেই বিরাজ করছে এজন্য যে, বিনিয়োগ হচ্ছে কম। তাই আমদানির চাহিদাও সেভাবে বাড়ছে না। বিশেষত শিল্পের মেশিনারিজ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার খবর রয়েছে। কাঁচামাল আমদানির চিত্রও বেশি ভিন্ন হওয়ার কথা নয়। তার মানে, চলতি বিনিয়োগ রক্ষার চেষ্টা থাকলেও নতুন বিনিয়োগে উৎসাহ কম। নতুন বিনিয়োগ না হলে নতুন কর্মসংস্থান তো হবে না। এদিকে প্রতিবছর ২০ লাখেরও বেশি মানুষ শ্রমবাজারে এসে দাঁড়াচ্ছে। এর একাংশ অবশ্য চলে যাচ্ছে বিদেশে। এর মধ্যে নারীও একেবারে কম নেই। দেশে অর্থকড়ি পাঠিয়ে নিজ নিজ পরিবার ও সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে সজীব রাখায় এ জনগোষ্ঠীর ভূমিকা বিরাট।
দেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কাজের যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এদের অনেকেই অবশ্য বিদেশে যেতে মরিয়া হতেন না। তাদের ‘অভিবাসন ব্যয়’ কিন্তু এখনও কমাতে পারিনি আমরা। তারপরও যুব জনগোষ্ঠীর এক বড় অংশ বিদেশে কাজ খুঁজে নিচ্ছে– এমনকি ধারকর্জ করে। দেশে মজুরিটাও আকর্ষণীয় নয় এমনকি প্রধান রপ্তানি খাতে। দেশের সিংহভাগ খাত-উপখাতে ন্যূনতম মজুরি বলে কিছু নেই। এখনও হয়নি ‘জাতীয় ন্যূনতম মজুরি’র ব্যবস্থা। সরকার গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন অবশ্য এ ধরনের কিছু সুপারিশ করেছে, যা নিয়ে তেমন বিতর্ক নেই।
যে দেশের সিংহভাগ মানুষ কোনো না কোনোভাবে শ্রমবাজারে উপস্থিত, সেখানে এটা অর্থনীতির বড় শক্তি বলেই বিবেচিত। অপেক্ষাকৃত ভালো আয়ের জন্য দেশের ভেতরে ও বাইরে তাদের সচলতাও কম দেখা যাচ্ছে না। কৃষি থেকে অকৃষি এবং সেখান থেকে শিল্প ও সেবা খাতে মানুষ কাজ খুঁজে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় একটি বড় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তাহলে বিদেশে তো বটেই; দেশেও তারা প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা পূরণ করতে পারবে। মানুষ কিন্তু তার পরিচিত পরিবেশে আর পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চায়। সেটা সাশ্রয়ী হয়ে থাকে। এতে মন লাগিয়ে কাজ করার উৎসাহও বাড়ে। আমাদের উদ্যোক্তারাও এটা ভালো করে জানেন। শ্রমের এ ধরনের সরবরাহ তাদেরকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও তারা উৎসাহী না হলে বুঝতে হবে, অন্য কারণ রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শিল্প ও সেবা খাতে জ্বালানি নিরাপত্তার ঘাটতির ইস্যুটি বেশি আলোচিত। অনেক বেশি দাম দিয়েও উদ্যোক্তা গ্যাস না পেলে; বিদ্যুৎ না পেয়ে গ্যাস দিয়ে অধিক ব্যয়ে তা উৎপাদন করতে হলে লোকে বিনিয়োগ করবে কেন? অন্তর্বর্তী সরকার যে জ্বালানি খাত হাতে পেয়েছে, সেটা অদক্ষ ও দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত বৈকি। এ খাতে বিদেশি দায়দেনা কমাতে পারলেও তারা সরবরাহ বাড়াতে পারছেন না। না বাসাবাড়িতে, না শিল্পে। হালে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সেটা কার্যকর থাকবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। কেননা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের চাহিদাও বাড়ছে। কখনও কখনও গ্যাসের অভাবে সার কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। তাতে আবার কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শংকা।
জিডিপিতে অবদান কম হলেও কৃষি কিন্তু বাঁচিয়ে রাখছে আমাদের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিউৎপাদনের চাপে কৃষিপণের দাম কমে যাওয়ায় কমছে মূল্যস্ফীতি। তাতে শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন হচ্ছে কিছুটা হলেও সহজ। তবে প্রয়োজন এমন বাজার ব্যবস্থা, যাতে কৃষকও লাভবান হতে পারেন। সে লক্ষ্যে কোনো বড় পরিকল্পনা অবশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সময়ে সময়ে কিছু আলোচনা হয় কেবল। শ্রমের ব্যাপক সচলতার কারণে কৃষিকাজে শ্রমিকের ঘাটতিও এক বড় সমস্যা। ধান কাটায় অনেক সময় শ্রমিকের অভাব এবং তাদের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় হয় কৃষকের। এ কারণেও উৎপাদন করে অনেক ক্ষেত্রে পোষায় না। বাণিজ্যিক চাষাবাদের প্রবণতাও তাই বাড়ছে। বাড়ছে ফলের বাগানসহ কৃষিজমির অন্যান্য ব্যবহার। এতে মূল খাদ্যশস্য তথা চাল উৎপাদন হ্রাসের শংকাও হাজির হচ্ছে।
এ মুহূর্তে কৃষিজীবীরা ব্যস্ত বোরো উত্তোলনে। চালের বাজারেও এর সুপ্রভাব হচ্ছে পরিলক্ষিত। এক্ষেত্রেও একই কথা, কৃষককে ভালো দাম দিতে হবে। এ জায়গাতেই আসে সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকার প্রশ্ন। কৃষিও বেসরকারি খাত। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে বড় জনগোষ্ঠী। এর ওপর নির্ভরশীল আবার খাদ্য নিরাপত্তা। এজন্য কৃষিতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি কেমন, সে খোঁজও করা হয়ে থাকে। হালে এটিও কমেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ। শিল্পঋণের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। পাশাপাশি কৃষিতেও এটা কম হলে বলতে হবে, পরিস্থিতি খারাপ। পরিবহনসহ সেবা খাতে প্রবৃদ্ধিও উৎসাহব্যঞ্জক হওয়ার কারণ নেই।
এ অবস্থায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রাক্কলন স্বভাবতই হতাশাজনক। সামনে বাজেট ঘোষণা করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। এতেও তারা ব্যাপকভাবে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর আশাবাদ রাখতে পারবেন না। ‘উচ্চাভিলাষী বাজেট’ না দিয়ে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেই বেশি জোর দিতে হবে তাদের।
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হয়ে গেলে অবশ্য বাজেটের অর্ধেকটা বাস্তবায়ন করতে হবে নির্বাচিত সরকারকে। তাতে নতুন পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানোয় উৎসাহ মিললেও মিলতে পারে। চট করে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার অবশ্য কারণ নেই। তার প্রয়োজনও নেই। বেশি প্রয়োজন দেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ নিয়ে আসা। তৈরি পোশাকের বাইরেও অনেক বড় শিল্প রয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পও কম নই। রয়েছে অবিকশিত শিল্প। এর সবখানেই চাই নতুন উদ্দীপনা।