Published : 24 Jan 2026, 05:25 PM
ক্ষমতা যখন আত্মপ্রতিষ্ঠার তাগিদে অন্ধ হয়ে ওঠে, তখন সে আর যুক্তির আশ্রয় নেয় না, কোনো ধরনের নৈতিকতার ধার ধারে না, এমনকি ভবিষ্যৎ কীভাবে তাকে মূল্যায়ন করবে ওই ভাবনাও তখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। ক্ষমতার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় দৃশ্যমান হওয়া, নিজের উপস্থিতিকে অন্যদের সামনে অনিবার্য করে তোলা। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মুখের ভাষা, দেহের ভাষা ও অবিরাম আক্রমণাত্মক আত্মপ্রদর্শনকে নিছক তার ব্যক্তিগত চরিত্রের বিচ্যুতি হিসেবে দেখার চেয়ে, সময়ের ক্ষমতা-মনস্তত্ত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখাই অর্থবহ। কারণ ব্যক্তিগত নার্সিসিজম যখন বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হয়, তখন তা আর ব্যক্তিগত আচরণের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকে না; তা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক অবস্থান এবং শেষপর্যন্ত বৈশ্বিক বাস্তবতাকেই নিজের মতো রূপ দিতে শুরু করে। এভাবেই জাতীয় জনমত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বলয়, মানবাধিকার সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর আপত্তি উপেক্ষিত হয়ে ক্ষমতার ইচ্ছাই বাস্তবতার রূপ নিচ্ছে। এই বাস্তবতাই মানুষের অগ্রগতির ধারণা ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাকে অত্যন্ত অস্বস্তির মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
এই জায়গাতেই সময়ের সূক্ষ্ম ভণ্ডামিগুলো তার এতদিনকার আপাত ভদ্রতার মুখোশ খুলে এখন আসল চেহারায় ধরা দিচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় মানুষ প্রকাশ্যে ক্ষমতার সমালোচনা করছে, নৈতিকতার কথা বলছে, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে; আবার দৈনন্দিন জীবনে ঠিকই ওই ক্ষমতার নিয়মকে নিগড় ধরে নিজের স্বার্থ ও নিরাপত্তা খুঁজে নিচ্ছে। কেননা, আধুনিক ক্ষমতা আগের মতো সরাসরি ভয় দেখায় না, বন্দুক বা লাঠির ভাষায় কথা বলে না। আরও পরিশীলিত, আরও কৌশলী।
ক্ষমতা এখন নিয়মের ভাষায় কথা বলে, শৃঙ্খলার যুক্তি হাজির করে এবং বাস্তবতার নামে সীমারেখা টেনে দেয় মানুষের স্বাধীনতার। বলা হয়, এর বাইরে কিছু নেই; যা আছে সেটাই সম্ভব, বাকিটা অবাস্তব। আর, এই প্রক্রিয়ায় মানুষকে এমনভাবে মানিয়ে নেওয়ানো হয় যে, বাধ্য হওয়াটাকে তখন আর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বলে মনে হয় না। বরং দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণ সাব্যস্ত করে নিজেই নিজের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। এখানেই ক্ষমতার সবচেয়ে কার্যকর সাফল্য নিহিত। মানুষ যখন নিজের অনিচ্ছা ও অসন্তোষকে বাস্তবতার নামে মেনে নিতে শেখে, তখন তাকে আর আলাদা করে দমন-পীড়ন করার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, মানুষ নিজেই নিজের ভেতরে ক্ষমতার প্রহরী হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিরোধ জন্ম নেয়ার আগেই তার আবেগ নিস্তব্ধ হয়ে যায় অন্তর্গত অস্বস্তির স্তরে।
এই বাস্তবতা শুধু রাষ্ট্রীয় রাজনীতির পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, সংস্কৃতি কিংবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও এই একই ক্ষমতা-সূত্র কার্যকর। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ঘিরে ভারত-প্রভাবিত আইসিসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে যে কারণে স্রেফ ক্রীড়ানীতির নিরপেক্ষ প্রয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ থাকে না। যেমন, এখানে কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং কার স্বার্থে ঘটেছে টাইপের জিজ্ঞাসা ও জবাবের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহল কমবেশি অবগত। তবুও সিদ্ধান্তের মুহূর্তে মানুষের মনে হয়েছে, সবকিছু যেন আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। বাস্তবতার এই পর্যায়ে সত্য বা ন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের চূড়ান্ত মানদণ্ড নয় বরং ক্ষমতার সঙ্গে কার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ, সেটাই নির্ণায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
ক্ষমতার ধর্ম তখনই সবচেয়ে খারাপ রূপ ধারণ করে, যখন সে ধর্মকে নিজের ভাষায় পরিণত করে। তখন ক্ষমতা রাজনৈতিক সীমা অতিক্রম করে নিজেকে পবিত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। ক্ষমতা যখন এরকম করে ধর্মের আড়ালে আত্মগোপন করে, তখন প্রশ্ন তোলা হয় পাপ, সংশয় প্রকাশ গণ্য হয় অবাধ্যতায়।
এই উপলব্ধি অবশ্যই হতাশাজনক, কিন্তু এটা ঘটমান বাস্তবেরই একটা রূপ। ইতিহাসের সুদীর্ঘসব অধ্যায়জুড়েও দেখা যাবে, কীভাবে একের পর এক আদর্শ নিজেকে মানবমুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে হাজির করে প্রতিবারই ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে নিজেই নিজের ছায়াকে শত্রু বানিয়েছে। যে দর্শনের জন্ম ঘটেছে মানুষের মুক্তির ভাবনায়, আশ্রয় নিয়েছে মুক্তির ভাষায়—ক্ষমতার সংস্পর্শে এসে সেটাই নিয়ন্ত্রণ, দমন ও ভয় উৎপাদনের যন্ত্র হয়ে উঠেছে। সমাজতন্ত্র মানুষের সমতার কথা বলে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রে রূপ নিয়েছে, জাতীয়তাবাদ আত্মপরিচয়ের অহমিকায় অন্যকে বর্জন করেছে, ধর্মীয় মতবাদ নৈতিকতার কথা বলে সহিংসতার বৈধতা দিয়েছে, এমনকি উদার গণতন্ত্রও স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুঁজির স্বার্থে মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করেছে। অর্থাৎ কোনো আদর্শবাদই প্রয়োগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। উপরন্তু কোনো আদর্শ যত নিজেকে বিশুদ্ধ দাবি করেছে, ক্ষমতার হাতে পড়ে তত দ্রুত সে বিক্রিত ও বিকৃত হয়েছে। এখন সময়ের মানুষকে এ জন্যে প্রথাগত প্রচলিত ক্ষমতা-কাঠামো ছাড়াও, এইসব আদর্শিক প্রতারণার বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
না, এই প্রতিরোধ গড়ে উঠতে কোনো রাজনৈতিক দর্শনের পাঠক্রম অধ্যয়ন আবশ্যক নয়; এটা একেবারেই জাগতিক, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি আর অস্তিত্বের গভীর থেকে উঠে আসা এক তাগিদ। মানুষ অপমান সহ্য করতে পারে, অভাব সহ্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে নিজেকে আত্মমর্যাদাহীন মানতে পারে না। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায়, ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে—কোথাও শান্ত মিছিল, কোথাও বিদ্রোহ, কোথাও অভ্যুত্থানের অংশ হয়ে মানুষকে তাই দমনমূলক ক্ষমতা ও মানবেতর আচরণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে। একই প্রতিবাদী সত্তার একেকরকম রূপ এটা। মানুষ শুধু খেয়েপরে বেঁচে থাকার জন্যে স্বপ্ন দেখে না, স্বপ্ন দেখে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানবিক এক জীবন লাভের। সে নিজের কথা বলার অধিকার চায়, নিজের অস্তিত্বের স্বীকৃতি চায়। আর বিনামূল্যে এসব অর্জন হয় না বিধায় মানুষ তার শ্রম, ঘাম, রক্ত এবং জীবনও সঁপে দেয়।
অন্যদিকে, ঠিক এইখানেই আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্যটার উন্মোচন ঘটে। গণমানুষের প্রতিটি প্রতিরোধের প্রাক্কালে যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও সম্মিলিত শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, তা অধিকাংশ সময়ই ক্ষণস্থায়ী হয়ে থাকে। আগুন জ্বলে ওঠে, আলো দেয়, উত্তাপ ছড়ায়—কিন্তু নিয়ম মেনেই নিভে যায়। আত্মত্যাগে ইতিহাস ভরপুর হলেও, ওই ত্যাগ থেকে সহসা কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী ক্ষমতা-কাঠামো গড়ে উঠছে না। কারণ আবেগ, ঐক্য ও সাহস থাকলেও, অনুপস্থিত থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সংগঠিত কাঠামো ও দায়িত্ববোধের পরিণত বোঝাপড়া। ফলে যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ রাস্তায় নামে, তা শেষপর্যন্ত ক্ষমতার পুরোনো চক্রেই হারিয়ে যাচ্ছে। আর, এই ব্যর্থতাই মানুষকে আবারও এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, সমস্যা কি কেবল ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি যে আদর্শ ও বিশ্বাসের ভরসায় মানুষ ভয়কে জয় করে লড়াইয়ে নামে, ওগুলোর মধ্যেই কোথাও একটি মৌল সংকট লুকিয়ে আছে?
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিদারুণ এই সত্যকে অত্যন্ত নির্মমভাবে আরেকবার স্পষ্ট দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষ মাসের পর মাস বিশ্বাস করতে চেয়েছে ইতিহাস হয়তো এবার ইতিবাচক এক বাঁক নেবে, ক্ষমতার পুরোনো ব্যাকরণ ভাঙবে, নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ রাষ্ট্রের ভাষা হয়ে উঠবে। কিন্তু এই আশা দ্রুতই আবছা হতে হতে উধাও হয়ে গেছে। দেখা গেছে ক্ষমতা তার চরিত্র না বদলিয়ে শুধু মুখ, ভাষা আর প্রতীকের বদল ঘটিয়েছে। নতুন সময়ের নামে পুরোনো চর্চাই আরও চতুর, আরও সংগঠিত রূপে ফিরে এসেছে। নিপীড়িত নাগরিক আবারও ওই দায় ও দরদহীন চেনা চক্রে বন্দি হয়ে পড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, রিয়েল টাইম সামাজিক মাধ্যম, তাৎক্ষণিক তথ্যপ্রবাহ—সবকিছুই মানুষের হাতে থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার আচরণ সেই আদিম। মানে, সময়ের মাপে মানুষ আধুনিক হলেও ক্ষমতার মনস্তত্ত্ব আজও প্রাগৈতিহাসিক। এবং এভাবেই আমাদের যাবতীয় আন্দোলন, সংগ্রাম আর অভ্যুত্থান তাদের ব্যর্থতার দায়ভার বহন করতে থাকবে যতদিন না মানুষ ব্যক্তিক পর্যায়ে দায়, দরদ ও আত্মনির্ভরতার অনুসন্ধান করবে।
উদ্ভূত এই অবস্থাতে মানুষের প্রশ্ন রাজনৈতিক পরিসীমা পেরিয়ে খোদ অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সম্মিলিত মানুষ ব্যর্থ হয়েছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, এমনকি জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানও আজ প্রকাশ্যে নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। এর মানে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বাস্তবতা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে আমরা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারি না সামনে আমাদের জন্যে কী অপেক্ষা করছে। এই অনিশ্চয়তার ভেতরেই অস্তিত্ববাদী দর্শনের ‘অ্যাবসার্ড’ ধারণা তাত্ত্বিক আলোচনা ছাড়িয়ে জীবনের অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে। অর্থহীনতা, অযৌক্তিকতা, অনিশ্চয়তা—সবই এখন দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা।
অবশ্য, এই সম্মিলিত বিভ্রান্তি মানুষকে ফের প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে আনছে। সভ্যতার প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বিচারকাজে ব্যর্থ, তখন মানুষ প্রকৃতির আপাত নির্লিপ্ত ওই আদি আদালতের সামনে দাঁড়াচ্ছে। জলবায়ু সংকট, দুর্যোগ আর মহামারী মানুষের আধুনিক উন্নতির অহংকার ধূলিসাৎ করে জানান দিয়েছে—ক্ষমতা, প্রযুক্তি বা জ্ঞানের পাহাড় দিয়েও প্রকৃতিকে অতিক্রম করা যায় না। প্রকৃতি কোনো মতাদর্শের ভাষা বোঝে না, কোনো ক্ষমতার যুক্তিতে নড়ে না। সে চলে নিজের নিয়মে, দৃশ্যত নির্বিকার আর নির্মমভাবে সৎ। এই নিয়মের মুখোমুখি হয়ে মানুষ আজ নিজের সীমা চিনতে শিখছে। আর এই সীমাবোধই চিন্তার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে। কারণ, সংকটই প্রজ্ঞার সূতিকাগার। বুদ্ধের ভাষায়, সমস্ত নিশ্চিত ভরকেন্দ্র ভেঙে পড়ার পরেই মানুষের আকাঙ্ক্ষিত বোধের জাগরণ ঘটে। বর্তমান পৃথিবী ওই ভাঙনের মুহূর্তে অবস্থান করছে।
এই শূন্যতা একইসাথে আতঙ্কের, আবার সম্ভাবনারও। কারণ, নিশ্চিত উত্তরের অবসান মানেই নতুন প্রশ্নের শুরু, আর সওই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই নতুন অন্বেষণ, নতুন উপলব্ধির এবং নতুন প্রচেষ্টার সূচনা ঘটে। বৈশ্বিক এই অনিশ্চয়তা তাই মানুষকে ধীরে ধীরে প্রচলিত প্রযুক্ত ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবতে শেখাবে; সাহস যোগাবে নিজের অবস্থান, নিজের অন্তর্দৃষ্টি, নিজের ভেতরের দায়বোধের মুখোমুখি হতে। মানুষ জানবে নিরাপত্তা এবং ন্যায়ের নিশ্চয়তা কোনো বাহ্যিক শক্তি বা প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শের অনুগ্রহ নয়; এগুলোর প্রকৃত উৎস লুকিয়ে আছে ব্যক্তির অন্তর্গত বোধে এবং সেখান থেকে জন্ম নেওয়া এক নীরব বিপ্লবে। আর, ব্যক্তিগত এই বিপ্লব মানুষকে তার নিজের সীমা চেনাবে না শুধু, শূন্যতাকে প্রজ্ঞা, ন্যায়বোধ আর মানবিক বোঝাপড়ার পরিসরের সম্ভাবনাও রাখবে। মানুষ জানবে প্রকৃত স্বাধীনতার মানে নৈতিক বোধ, মানবিক দায়িত্ব আর জীবনের গভীরতর অর্থের সঙ্গে মিলেই কেবল পূর্ণ হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে মানুষের ভেতরের প্রজ্ঞা ও আত্মসম্মান বিনির্মাণের এক আধার, এক নতুন পৃথিবীর প্রতীক্ষিত প্রয়াস।