Published : 01 Aug 2026, 01:43 PM
সংবিধানের সংশোধন নাকি সংস্কার—এই তর্ক চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই। কেননা সরকারি দল বিএনপি বলছে সংবিধান ‘সংশোধন’। পক্ষান্তরে বিরোধী দল বলছে ‘সংস্কার’। যদিও সংশোধন ও সংস্কার—যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, আখেরে বিষয়টা পরিবর্তন। অর্থাৎ সংবিধান এখন যেভাবে আছে, সেখানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা—যে বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
বিদ্যমান সংবিধানের ভাষায় ‘সংশোধন’। আর জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে যেহেতু ‘সংস্কার’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত এবং উচ্চারিত হয়েছে, ফলে সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সংস্কার শব্দটি প্রয়োগের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই বিতর্ক এড়াতে ‘পরিবর্তন’ শব্দটা ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিন্তু যত সহজে নাগরিকরা সংশোধন, সংস্কার ও পরিবর্তন বলতে পারে এবং মেনে নিতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলো তত সহজে পারে না। প্রকৃতপক্ষে যারা সংশোধনের পক্ষে তারা ‘সংস্কার’ বলতে চায় না, আর যারা সংস্কারের পক্ষে তারা ‘সংশোধন’ মানবে না। যে কারণে বিরোধী দলের কাছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটিতে নাম চাওয়া হলেও তারা কারো নাম দেয়নি। কারণ কমিটির নাম নিয়েই তাদের আপত্তি আছে।
সংস্কার নাকি সংশোধন—এই প্রশ্নের মীমাংসা না করেই বা শব্দের এই মারপ্যাঁচ জিইয়ে রেখে গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। তবে গণভোটের রায় উপেক্ষা করে এই কমিটি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও বিশেষ কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এখনও কারো নাম দেয়নি। কারণ তারা এই কমিটির ভিত্তিই গ্রহণ করে না। এরকম বাস্তবতায় আগামী ৪ অগাস্ট সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত এই বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। কমিটির সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, আগামী ৪ অগাস্ট সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক হবে বলে জানানো হয়েছে (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ৩০ জুলাই ২০২৬)।
যেহেতু বিরোধী দল এই কমিটিতে নাম দেয়নি এবং দেবে বলেও আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না, তার মানে সংবিধান সংশোধন অথবা সংস্কারের এই তর্কই আগামী দিনের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কেননা সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের এরকম বিপরীতমুখী অবস্থান ২০১০-১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময়েও দেখা গিয়েছিল। তখন সরকারে ছিল আওয়ামী লীগ এবং বিরোধী দলে বিএনপি—যারা এবার সরকারি দল। ২০১০-১১ সালে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি যা করেছিল, এবার বিএনপির সঙ্গে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি একই কাজ করবে কি না, সেই প্রশ্নও জনমনে আছে।
যেমন ২০১০ সালের জুলাই মাসে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য জাতীয় সংসদ তৎকালীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়াপারসন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে যখন ১৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে, তখনও বিরোধী দলের কাছে নাম চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি কোনো নাম দেয়নি। উল্টো তারাও তখন কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন, ‘বাকশালে ফিরে যাওয়ার জন্যই সংবিধান সংশোধনের এই অপচেষ্টা হচ্ছে।’
বিএনপি এই কমিটিতে নিজেদের নাম না দিলেও ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল তাদেরকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয় সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি। কিন্তু ২৫ এপ্রিল কমিটিকে পাল্টা চিঠি দেন খালেদা জিয়া। সেখানে তিনি লেখেন, ‘সংবিধান সংশোধনের জন্য যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা দুরভিসন্ধিমূলক।’
বিশেষ কমিটি সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংসদে পেশ করে ২০১১ সালের ৮ জুন এবং ২০ জুন তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। এদিন বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সংবিধানের সংশোধনী অনুমোদন দিয়ে সরকার আলোচনার পথ রুদ্ধ করেছে। এটা সরকারের বাকশালি নীতির বহিঃপ্রকাশ।’
২০১১ সালের ৩০ জুন দুপুরে সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাসের পরে ওইদিন বিকালেই খালেদা জিয়া গুলশানে তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সব সম্ভাবনা তিরোহিত হলো। এই অপচেষ্টায় দেশে সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠলো। গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেলো।’
এবারের বাস্তবতাও কিছুটা সেরকমই মনে হচ্ছে। কেননা গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইস্যু নিয়ে এরই মধ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, সেটি সংসদে এবং সংসদের বাইরে তাদের বক্তৃতা, বিশেষ করে বিরোধী দলের হুঁশিয়ারির ভাষায় স্পষ্ট। এমনকি সরকার গঠনের ছয় মাস হওয়ার আগেই সরকার পতনের ডাক দেওয়ার হুমকিও এসেছে বিরোধীদের তরফে। অথচ এখন যারা সরকারে ও বিরোধী দলে—তাদের সবাই চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে একই প্ল্যাটফর্ম তথা অভিন্ন ছাতার নিচে ছিল। ফলে জনমনে এই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল যে, অন্তত একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ সরকারি ও বিরোধী দল মিলে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেবে। বিশেষ করে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনবান্ধব হয়ে উঠবে, ঘুষ-দুর্ণীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। গণমাধ্যম যুক্তিপূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগরিকদের কথা বলার স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র নাগরিকের বাকস্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেবে। আর এসব অর্জনে সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দেবে বিরোধী দল। কিন্তু গত পাঁচ মাসে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। যে কারণে প্রশ্ন উঠছে, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের তর্কটি কতদূর পর্যন্ত গড়াবে এবং সংবিধান পরিবর্তনের ২০১০-১১ সালের অভিজ্ঞতারই পুনরাবৃত্তি হবে কি না?
সংবিধান সংশোধন-সংস্কার তথা পরিবর্তনের এই ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের পার্থক্যটা তৈরি করে দিয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারই। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে যে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করলো এবং কিছু ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্টসহ যে সনদে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলো, অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করলো এবং তার আলোকে গণভোটের আয়োজন করলো। অর্থাৎ বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারই মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূত্রপাত ঘটায়—যার রেশ এখনও কাটেনি এবং এই বিরোধটিই সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে মুখ্য হয়ে দেখা দেবে বলে মনে হচ্ছে।
যদিও জুলাই সনদের আলোকেই যে সংবিধান সংশোধন করা হবে—বিএনপি সেই ঘোষণা এরই মধ্যে দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের তফাৎ হলো এই যে, বিএনপি জুলাই সনদের ততটুকুই মানবে, যতটুকুতে সে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আর যেসব বিষয়ে তারা আপত্তি বা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে—স্বভাবতই তারা সেগুলো মানতে বাধ্য নয়। তবে তারা নোট অব ডিসেন্ট-সম্বলিত প্রস্তাবগুলো যে মানবে না, সে কথা বলেনি। তারা বলতে চেয়েছে যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনার অবকাশ রয়েছে। সেখানে বিএনপির সংসদ সদস্য বেশি হওয়ায় কণ্ঠভোটে বিএনপির জিতে যাওয়ার সুযোগ বেশি এবং এটিই সংসদীয় গণতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য। এমনকি সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিগত সংসদ বা সরকার এমন কোনো বিধান করতে পারে না, যা পরবর্তী সংসদ মানতে বাধ্য। সুতরাং বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছে এবং ওই সরকারের আমলে যে জুলাই সনদ গৃহীত হয়েছে, আইনত বর্তমান সংসদ তা মানতে বাধ্য নয়। কিন্তু তারপরও বিএনপি বলছে যে, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে, যেহেতু এটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের দলিল।
কিন্তু বিরোধী দল যদি মনে করে বা দাবি জানায় যে, জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাব হুবহু মেনে নিতে হবে এবং সেই আলোকেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে, তাহলে আর সংসদের কোনো গুরুত্ব থাকে না। বাস্তবতা হলো, সংসদকে পাশ কাটিয়ে বা সাংবিধানিক নিয়মের বাইরে গিয়ে সংবিধানের সামান্যতম পরিবর্তনেরও সুযোগ নেই; যেহেতু এই সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে।
তবে কেউ কেউ এমনটিও মনে করেন যে, এবারের সংসদে যারা আছে, তারা সবাই যেহেতু জুলাই অভ্যুত্থানের শরিক, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি ও জামায়াত যেহেতু একসঙ্গেই ছিল, ফলে কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য থাকলেও সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে তাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত খুব বেশি বিরোধ হবে বলে মনে হয় না। কেননা, যদি শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে বাড়তে রাজনীতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে, তার দ্বারা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কেননা চব্বিশের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের ক্ষত এখনও শুকায়নি। সুতরাং এখনই রাজনীতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার দ্বারা বিরোধী দলই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এটুকু বোঝার মতো কাণ্ডজ্ঞান নিশ্চয়ই তাদের আছে।
ফলে সংবিধানের বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তনের যে সুপারিশ বিশেষ কমিটি করবে, তা নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে, কিছু পয়েন্টে একমত না হয়ে বিরোধী দল হয়তো ওয়াকআউটও করবে। কিন্তু এই ইস্যুতে তারা সংসদ বর্জন করবে বা সংসদ থেকে একযোগে পদত্যাগ করবে—এমন পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হবে না। এর চেয়ে কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে পরিবর্তনের প্রশ্নে হয়তো সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে শেষ পর্যন্ত একটা ঐক্য বা সমঝোতা হবে। যদি সেটি না হয় এবং যদি সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার এই তর্কে ঘুরপাক খেতে খেতে রাজনীতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটি দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না।
মনে রাখতে হবে, সংবিধানের যেকোনো বিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার সংসদের আছে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একমত হলে সংবিধানে যেকোনো পরিবর্তন করা সম্ভব। কিন্তু সেই ক্ষমতা আছে বলেই সংবিধানের খোলনলচে পাল্টে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের সংবিধানটি রচিত হয়েছে ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে। ১৯৭২ সালে যারা এই সংবিধান রচনা করেছেন, তারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। এই সংবিধান আসমান থেকে নাজিল হয়নি বা কেউ একজন তার খেয়াল-খুশিমতো কিছু একটা লিখে নিয়ে এসেছেন, আর সেখানে সবাই চোখ বুজে স্বাক্ষর করেছেন—সংবিধানের ইতিহাস তা বলে না।
১৯৭২ সালে গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় যেসব তর্ক-বিতর্ক হয়েছে, আলোচনা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ গণপরিষদের কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। জাতীয় সংসদের লাইব্রেরিতে গিয়ে আগ্রহী পাঠক ও গবেষকরা সেগুলো পড়তে পারেন। গণপরিষদের তর্ক-বিতর্ক নিয়ে কিছু বইপত্রও বাজারে পাওয়া যায়। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে যেসব অবমাননাকর কথা বলা হয়েছে, এই সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ আখ্যা দিয়ে তার ‘কবর রচনা’র কথা বলা হয়েছে—সেখানে প্রথমত আছে জানাবোঝার সীমাবদ্ধতা, দ্বিতীয়ত রাজনীতি; যে রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। সুতরাং যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেই দল বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলবে বা তার কবর রচনা করবে এবং সংশোধনের নামে এখানে যেমন খুশি তেমন পরিবর্তন আনবে—সেটি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। সেই সঙ্গে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধানের যুক্তিপূর্ণ জায়গায় যে পরিবর্তন আনতে হবে, তারও কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু যা কিছুই হোক না কেন, সেটি হতে হবে সংসদে আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে। কিন্তু জুলাই সনদে যা আছে হুবহু সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে, এজন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে—এমন অবস্থানে অনড় থাকার কোনো সুযোগ নেই, অন্তত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদ গঠিত হয়ে যাওয়ার পরে।
আমীন আল রশীদ সাংবাদিক ও লেখক। ই-মেইল: aminalrasheed@gmail.com