Published : 06 Dec 2025, 05:33 PM
গুম, খুন, হত্যার বিচারের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনও সরকারের হাতে এসেছে। আশা করা যায় দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়বে না। জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েও রাষ্ট্র সংস্কার ও সুবিচারের যে রাজনৈতিক প্রত্যয় পাওয়া গেছে তাও এসব বিচারিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। রাষ্ট্র সংস্কারে খাতভিত্তিক সংস্কারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটা দেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। গত দুই দশকে এই খাতে ঘটে গেছে এক ভয়ংকর ঘটনা। দায়মুক্তির কালো আইন বানিয়ে এই খাতে সংঘটিত হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিজনিত জ্বালানি অপরাধ। এখন দরকার এই জ্বালানি অপরাধের তদন্ত ও জ্বালানি অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
পলাতক শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার পথ তৈরি করে কিছু কালো আইন। ফ্যাসিবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি দাঁড়িয়ে ছিল এসব কালো আইনের পাটাতনের ওপর। এই কালো আইনগুলোই তাকে বাধাহীন দুর্নীতি করার সুযোগ দেয়। অবারিত করে সামগ্রিক দুর্বৃত্তায়ন-সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার। এসব কালো আইনের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে রাজনীতিবিদ-আমলা-ব্যবসায়ী-মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের এক দুর্বৃত্ত সিন্ডিকেট।
আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত তৈরি হয়। আবার ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৫৪ নং আইন)’ নামের কালো আইন ফ্যাসিস্ট শাসনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মূল কাঠামো তৈরি করে দেয়। ২০১০ সালে দুই বছরের জন্য এই আইন প্রণীত হলেও পরে চার দফায় ১৬ বছর এই আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়। এই কালো আইনই শেখ হাসিনার সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার অন্যতম মালমসলা যোগানদারী উপাদান। দায়মুক্তির এই কালো আইনকে প্রতিষ্ঠা ও বারবার তার মেয়াদ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদ শক্তিমান হয়ে ওঠে।
এই আইনটি শুধু সংবিধানের মূলনীতির পরিপন্থী নয় বরং এটি জনস্বার্থক্ষুণ্নকারী এবং দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিনাশকারী। কারণ, এই আইনের বিধান অনুসারে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার বা দরপত্রের বাইরে গিয়ে সীমিতসংখ্যক বা একক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও দরকষাকষির মাধ্যমে মন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে কাজ দেওয়া নিশ্চিত করা হয়। এই আইনের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জ্বালানি খাতে একক দুর্বৃত্তায়ন নিশ্চিত করে অপরাধ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে। ফলে শক্তিশালী জ্বালানি অপরাধীদের লাগামছাড়া অপরাধ ও দুর্বৃত্তপনা বৃদ্ধি পায়, যার চাপ পড়ে দেশের জনগণ, অর্থনীতি ও ভোক্তাদের ওপর।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন বর্তমান সরকার এই আইন বাতিল করলেও বাতিলকৃত অধ্যাদেশে দুটি আপত্তিকর অনুচ্ছেদ যুক্ত করে অতীতের সকল অপকর্মকে বৈধতা দিয়েছে। রহিতকরণ অধ্যাদেশে বলা হয়েছে: ক) ‘উক্তরূপ রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তি বা সম্পাদিত চুক্তির অধীন গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বৈধভাবে সম্পাদিত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; (খ) উক্ত আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তির অধীন চলমান কোনো কার্যক্রম এমনভাবে অব্যাহত থাকিবে অথবা নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই’।
চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি এবং অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন
মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জ্বালানি খাত সংস্কারে কোনো কমিশন গঠন করেনি। তবে, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন’-এর অধীনে গত সরকারের চুক্তিগুলো পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির আহ্বায়ক হন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। সদস্যরা হলেন: বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও সহ-প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশের সাবেক সিইও আলী আশফাক, বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের ইকোনমিক্স অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক।
চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে কমিটি গত ২ নভেম্বর একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কমিটির সদস্যরা বলেন, গত সরকারের আমলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একের পর এক একতরফা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তিগুলোতে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সকল সুবিধা দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা বিবেচনা করা হয়নি। একটি চুক্তি যেন অন্যটির প্রতিলিপি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো এতে জড়িত ছিল।
চুক্তি ও চুক্তির আগের পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখে সংঘবদ্ধ দুর্নীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের নমুনা পায় চুক্তিগুলো পর্যালোচনা এই কমিটি। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খোদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সংঘবদ্ধ দুর্নীতিতে আবুল কালাম আজাদ ও আহমদ কায়কাউস নামের সাবেক দুই বিদ্যুৎসচিব, যারা পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ছিলেন; তাদেরও সংশ্লিষ্টতা পায় কমিটি।
কমিটির পর্যবেক্ষণ:
ক) গত সরকারের দেড় দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন চারগুণ বেড়েছে, কিন্তু খরচ ১১ গুণ বেড়েছে। এই আইনটিই দুর্নীতির জন্য তৈরি হয়েছে, যেখানে সংঘবদ্ধ দুর্নীতি ঘটেছে।
খ) বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো ভাড়া আদায়ের নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেরাই জ্বালানি আমদানি করেছে, কিন্তু তাতেও দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ক্রয়ের নামে কোম্পানিগুলো সরকার থেকে ভাড়া বাবদ অর্থ নিয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেয়ে দুর্নীতিই ছিল মুখ্য।
গ) দুর্নীতির কারণে বিদ্যুতের দাম ২৫ শতাংশ বেশি হয়ে গেছে। ভর্তুকি না থাকলে বিদ্যুতের দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে যেত। একেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে একেক দাম ধরা হয়েছে। সমঝোতার মাধ্যমে কাউকে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। দরপত্র ছাড়া বিশেষ বিধান আইনে এভাবে চুক্তি করার সুযোগ নিয়েছে গত আওয়ামী লীগ সরকার।
জ্বালানি অপরাধ এবং…
এই কালো আইন জ্বালানি খাতে জন্ম দিয়েছে এক ব্যাপক জ্বালানি অপরাধের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দায়মুক্তির আইন ব্যবহার করে ক্ষমতাশালী আমলা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের এক অলিগার্ক শ্রেণির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে যারা বছরের পর বছর ধরে অপরাধ সংগঠিত করতে থাকে। এবং রাষ্ট্রীয় আইনি সুরক্ষা পেতে থাকে।
বাংলাদেশে ‘জ্বালানি অপরাধ’ বলতে বোঝায় জ্বালানি খাতের ওইসব দুর্নীতিপূর্ণ ও অনৈতিক কার্যকলাপ যা ভোক্তা, পরিবেশ এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে: ১) জ্বালানি আমদানিতে অতিমূল্যায়ন (ওভার ইনভয়েসিং), ২) অলস বা অকার্যকর ব্যক্তিখাত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ধারাবাহিক ক্ষমতা মূল্য পরিশোধ, ৩) ভোক্তাস্বার্থ বিরোধী অস্বচ্ছ মূল্যহার নির্ধারণ পদ্ধতি, ৪) রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট টেন্ডার ও ক্রনি ক্যাপিটালিজম এবং ৫) নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এসব অপরাধ অনেকক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত—এগুলি গোপনে নয় বরং সরকারি নীতিমালার আওতায় ঘটে। এগুলোকে প্রায়ই উন্নয়ন বা জ্বালানি নিরাপত্তার প্রয়োজনে ‘ন্যায্য ও যৌক্তিক’ বলে উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু এর পেছনে থেকে যায় এক দীর্ঘস্থায়ী অবিচার, বৈষম্য ও পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস।
অন্যদিকে জ্বালানি অপরাধী বলতে ওই সকল ব্যক্তি, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা তাদের কর্মকর্তা-প্রতিনিধিকে বোঝাবে, যারা জ্বালানি খাতসংক্রান্ত কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রতারণা, দুর্নীতি, ঘুষ, স্বার্থের সংঘাত, বেআইনি সুবিধা অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার, কারসাজি, অবৈধ প্রভাব বিস্তার, অসদাচরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ বা লুন্ঠনসহ যে কোনো অবৈধ, অনৈতিক বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত; যার ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, সম্পদ, জনস্বার্থ বা জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষতি সাধিত হয়।
এই অপরাধ ও অপরাধের কথা কিছুটা এসেছে সরকারের চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে। খোদ প্রধানমন্ত্রী যিনি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তার নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্ষমতাধর আমলাদের সংশ্লিষ্টতার কথা এসেছে।
বিচার ও জ্বালানি সুবিচার
বেসরকারি খাতকে উৎসাহী করা, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে টাকা দেওয়া, এলএনজি আমদানি, বিদ্যুতের দাম ১৪ বার বাড়ানো, উৎপাদন না করেও কেন্দ্র ভাড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে গত ১৫ বছরে। তৎকালীন সরকার ঋণনির্ভর প্রকল্প নিয়েছে। এসব চালিয়ে যেতে জনস্বার্থবিরোধী আইন করেছে।
‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক আলোচনায় জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ এবং তাদের সহযোগী ব্যবসায়ীরা আমাদের আজকের এই সংকটে নিয়ে এসেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অপ্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ওই সক্ষমতা পূরণে প্রয়োজনীয় গ্যাস সংগ্রহের কথা ভাবা হয়নি। বেসরকারি খাতেও অনেক শিল্পকে গ্যাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গ্যাস নেই জেনেও লাইন দেওয়া হয়েছে... এগুলো অন্যায়ভাবে, দুর্নীতির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই আজ আমরা এই সংকটে পড়েছি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সকল পর্যায়ের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। তারা বলেছে, গত সরকারের মন্ত্রী, সচিব, পরামর্শক, উপদেষ্টাসহ সব ‘জ্বালানি অপরাধীর’ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত: বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শিরোনামে এক গোলটেবিল বৈঠক তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক–ই–ইলাহী চৌধুরী, সাবেক বিদ্যুৎ–সচিব আহমদ কায়কাউস, আবুল কালাম আজাদ ও মনোয়ার হোসেন গংকে জ্বালানি অপরাধী বলে অভিযোগ উত্থাপন করে তাদের বিচারের দাবি জানান।
বছরের পর বছর ধরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দায়মুক্তির কালো আইন বানিয়ে তার ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সবার চোখের সামনে। এই দুর্বত্তায়ন গোটা রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক চরিত্র বদলে ফেলেছে। দুর্বৃত্তায়নমত্ত এই অর্থনীতির জোরে স্বাভাবিক নির্বাচনব্যবস্থা পর্যন্ত উঠে গেছে। দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন হয়েছে। সরকার শুধু স্বৈরাচারীই হয়ে ওঠে নাই ফ্যাসিবাদীও হয়েছে।
তাই এই জ্বালানি অপরাধীরা শুধু টাকার অঙ্কে দুর্নীতিই করেনি, এরা রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামোগত নেতিবাচক রূপান্তরেও ভূমিকা রেখেছে। তাই এখন আইনগতভাবে এইসকল জ্বালানি অপরাধ উদ্ঘাটন ও জ্বালানি অপরাধীদের চিহ্নিত করা দরকার। নিশ্চিত করা প্রয়োজন জ্বালানি অপরাধীদের বিচার। চলমান জ্বালানি রূপান্তরে জ্বালানি সুবিচার নিশ্চিত করতে হলে জ্বালানি অপরাধীদের বিচার দ্রুত নিস্পন্ন করা ছাড়া গত্যন্তর নাই। সরকারকে এদিকে মনোযোগ হতে হবে এখন।