Published : 18 Oct 2025, 09:29 PM
নাচোলের সেই রানি—যিনি রাজদণ্ড নয়, বিদ্রোহকে বেছে নিয়েছিলেন, ইলা মিত্রের জন্ম শতবর্ষের দিনটি চলে নীরবে-নিভৃতে। শ্রেণি, লিঙ্গ ও শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ইলা মিত্রের সংগ্রাম কেবল ইতিহাস নয়, আমাদের দায়বোধেরও পুনরালোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
তার জীবনের বেদনাভারাতুর অধ্যায়গুলো, ভাষাসংগ্রামী, লেখক ও গবেষক আহমদ রফিকের ডায়েরি থেকে উঠে আসে সময়ের ধুলো পেরিয়ে। আমার সৌভাগ্য যে ইলা-রমেন দম্পত্তির অনন্য কাহিনি শুধু ডায়রি নয়, রফিক ভাইয়ের কাছ থেকেও শুনতে পেয়েছিলাম।
ইলা মিত্র গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রমেন মিত্র আত্মগোপনে—তার মাথার ওপর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গোপনে ঢাকা এসেছেন ইলা মিত্রের নামে দায়ের করা মামলা পরিচালনা এবং সুযোগ পেলে হাসপাতালে তার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে। সেই সময় মেডিকেল ছাত্র আহমদ রফিককে একাজে সহযোগিতার দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে।
২০১৬ সাল, সম্ভবত নভেম্বর মাসের কোনো একদিন, আহমদ রফিকের সঙ্গে তেভাগা আন্দোলন নিয়ে কথা হচ্ছিল। কথোপকথনে চলে এল ইলা-রমেন দম্পত্তির প্রসঙ্গ।
রফিক ভাই মনে করতে থাকেন ১৯৫৩ সালের কথা। আমি কথাগুলো কাগজে টুকতে শুরু করি। রফিক ভাই উল্লেখ করেন, তিনি তখন একটি ডায়েরি লিখেন, যেখানে ইলা মিত্র ও রমেন মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনা এবং তৎকালীন রাজনীতির নানা প্রসঙ্গ রয়েছে। হঠাৎ রফিক ভাই আমাকে বললেন, ‘‘একটু বস’’। তারপর তিনি তার ব্যক্তিগত পাঠাগারে চলে গেলেন।
আমি ভাবতে লাগলাম, এই ডায়েরিটি কিভাবে তার কাছ থেকে পাওয়া যায়। নানা বুদ্ধি করছি, আবার ভাবছি—তিনি যদি না দেন। শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম, একবার বলে দেখব। কিছুক্ষণ পর, তিনি ডায়েরিটা নিয়ে এসে বসলেন। তারপর আমাকে ধীরে ধীরে ডায়েরিটি খুলে দেখালেন।
আমি বললাম, “ভাই, এটা আমাকে দিন, আমি প্রকাশের ব্যবস্থা করব।” তিনি হেসে বললেন, “না, আগে দেখ।” ডায়েরির পৃষ্ঠার ওপর আঙুল বুলিয়ে তিনি দেখালেন লেখাগুলো এবং বললেন, “এখানে অনেক লেখা অস্পষ্ট, কিছু ঘটনার সাংকেতিক চিহ্ন আছে। এটা তুমি বুঝবে না।” বুঝতে পারলাম, ডায়েরিটা নিয়ে লাভ নেই; বরং রফিক ভাই নিজেই যদি লিখে দেন, তবে কিছু হতে পারে।
এরপর তিনি ডায়েরির পৃষ্ঠা এক এক করে উল্টাতে উল্টাতে স্মরণ করছিলেন, প্যারোলে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অসুস্থ ইলা মিত্রের কিভাবে দেখাশুনা করতেন এবং তার সহধর্মী রমেন মিত্রকে কীভাবে গোপনে তার সঙ্গে দেখা করাতেন। সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন রাজনীতির নানা ঘটনাপ্রবাহ ও প্রেক্ষাপট নিয়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে বলতে শুরু করেন।
“ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ২০ নম্বর ব্যারাকের ৬ নম্বর ঘরে আমি থাকতাম। প্রায়ই সেখানে আসতেন আত্মগোপনে থাকা কমিউনিস্ট নেতা, রাজশাহীর নাচোলের কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রমেন মিত্র। তিনি নিয়মিতই আসতেন ভীষণ ঝুঁকি নিয়ে—গুরুতর অসুস্থ স্ত্রী ইলা মিত্রকে দেখার জন্য। তার বিরুদ্ধেও ছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ধরা পড়লে নিশ্চিত বিপদ। কারণ পার্টির নেতৃত্বের বিশ্বাস ছিল—তাদের স্বল্প সময়ের দেখা-সাক্ষাৎ হয়তো ইলা মিত্রের মানসিক শক্তি ও সুস্থতার জন্য সহায়ক হবে।

“সমস্যা ছিল অনেক। ইলা মিত্র ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামি, ফ্যাসিবাদী মুসলিম লীগ সরকারের হাতে নির্যাতিত, হাসপাতালের বেডে শুয়ে সারাক্ষণ পুলিশের পাহারায়। অধ্যাপক কে. এম. আলমের অধীনে তার চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছিল, কিন্তু অবস্থার তেমন উন্নতি হচ্ছিল না। ডাক্তার আলম ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ—স্বভাবে স্বল্পভাষী, কিন্তু মানবিক। জানা ছিল, গোপনে কমিউনিস্ট পার্টিকে অর্থসাহায্যও করতেন তিনি।”
“প্রথম সাক্ষাতের দিন ছিল ৩ অগ্রহায়ণ, ১৩৬০ বঙ্গাব্দ (১১ নভেম্বর ১৯৫৩)। সেই দিনের কথা আজও আমার মনে আছে। ইলাদি মৃদুকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আপনার জন্য কদিন ধরে অপেক্ষা করছি... আপনাকে কানুর মতো লাগছে।’ আমি অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম তার মুখের দিকে। পরে বুঝেছিলাম, কানু তার ছোট ভাই। আশ্বাস দিয়েছিলাম,‘কিছু ভাববেন না, এখানে সবাই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী। আপনি ভালো হয়ে উঠবেন।’ সেদিন রাতে ফিরে আমি ডায়েরিতে লেখা শুরু করি—দিনপঞ্জি, যা আজও ঝাপসা অক্ষরে বেঁচে আছে।”
পাখিদি, ইলা মিত্রের একটা ছদ্মনাম দিয়েছিলেন আহমদ রফিক, তার ডায়রিতে লেখার জন্য, পাখিদি সম্পর্কে লিখেছিলেন, তিনি এক বীরাঙ্গনা, বরেন্দ্রভূমির রোদে পুড়ে যাওয়া বাদামি চামড়ার তরুণী, তবু তার মুখে আশ্চর্য এক শান্তির আভা।
ইলা মিত্রের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহতা রমেন মিত্রের অজানা ছিল না। তাই সাক্ষাতের আগে তার মনে নিশ্চয়ই ভীষণ টানাপোড়েন চলছিল—লজ্জা, ব্যথা, অপরাধবোধ ও ভালোবাসার মিশ্র অনুভূতি।
রাত আটটার পর রমেন মিত্রকে নিয়ে ইলা মিত্রের কাছে যান আহমদ রফিক। তিনি ডায়রিতে লিখে রেখেছিলেন, এই সাক্ষাৎ সম্ভব হয়েছিল ওয়ার্ডবয় সোবহানের কৌশল ও মানবিক সহায়তায়, যিনি দায়িত্বে থাকা পুলিশ পাহারাদারকে গরম চা-বিস্কুট খাওয়ানোর কথা বলে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে বিপদের দিনেও একটু নিরাপদ সুযোগ তৈরি হয়—রমেন ও ইলা বহুদিন পর পরস্পরের মুখোমুখি হন।
“এরপর রমেন মিত্র, যাকে আমরা টেকনামে ‘রমজান ভাই’বলতাম, প্রতিদিন রাতের আঁধারে আসতে শুরু করলেন। হাতে থাকত একগুচ্ছ রজনীগন্ধা। স্ত্রীর শয্যার পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তারপর ধীরে ধীরে গুনগুন করে কবিতা আবৃত্তি করতেন—সুকান্ত ভট্টাচার্য, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুভাষ মুখোপাধ্যায় কিংবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার সেই কণ্ঠে যখন শোনা যেত—‘ধরণী চাহিছে শুধু হৃদয়, হৃদয়’ তখন মনে হত, এমন কবিরসিক রোমান্টিক মানুষ কীভাবে তেভাগা আন্দোলনের কৃষকনেতা হয়ে উঠলেন!
“একদিন মজা করে বলেছিলেন,‘তুই তো দেখিসনি বেথুনের ছাত্রী ইলা সেনকে! কী স্মার্ট, কী অ্যাথলেট! আর সে বিয়ে করল এই ঢ্যাঙা রমেন মিত্রকে!’ বলে একচিলতে হাসি দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়ায় মুখ ঢেকে ফেলেছিলেন।”
দিন কেটে যাচ্ছিল। আহমদ রফিক দেখছিলেন খাঁচায় আটকে থাকা পাখির মতো হাসপাতালে বন্দি ইলা মিত্র শুকিয়ে যাচ্ছিলেন। ডাক্তার-নার্সদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক উন্নতি হচ্ছিল না। পার্টির সিদ্ধান্তে তাদের একমাত্র সন্তান মোহনকে ঢাকায় আনা হয়।
আহমদ রফিক ডায়েরিতে লিখেছিলেন,“মোহন এসেছিল। সুন্দর, ফুটফুটে, চঞ্চল এক বালক। মায়ের বুক ফেটে যেতে চাইছে, সারাক্ষণ কাছে না পেয়ে।
“হাসপাতালের সেই সাক্ষাৎ ছিল এক আবেগঘন ও ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে মা-ছেলে একে অপরকে দেখে নির্বাকভাবে অনেক না-বলা কথা বিনিময় করেছিল। সেই সাক্ষাতে ইলা মিত্র কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন।
“বাংলা নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ ১৩৬১-এ, সেদিনের নববর্ষ উদযাপনও আনন্দঘন ও মধুর ছিল। রমজানভাই হোস্টেল ও হাসপাতালে ফুল হাতে হাজির হয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং রজনীগন্ধা, নাগকেশর, গোলাপ ও বেলির সুবাসে সেই সহজ, সরল এবং হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তকে ভক্তিপূর্ণ স্মৃতিতে পরিণত করে।
“এরমধ্যে একদিন মওলানা ভাসানী হাসপাতালে ইলাদিকে দেখতে এলেন। ওয়ার্ডে ঢুকেই তার বজ্রকণ্ঠে হাঁকডাক—‘কোথায় ডাক্তার? কোথায় নার্স? আমার মেয়ের চিকিৎসায় যেন গাফিলতি না হয়।’
“রমজান ভাই তখনও নিয়মিত আসতেন। তার মুখে আনন্দের ছাপ দেখা দিত, বিশেষ করে যখন শুনেছিলেন মওলানা ভাসানী ঘোষণা দিয়েছেন এক সপ্তাহের মধ্যে ইলা মিত্রকে মুক্তি না দিলে, প্রদেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হবে।”
আহমদ রফিক আমাকে বলেছিলেন, আলম তাঁকে আশ্বস্ত করেন। ভাসানী ঘুরে যাওয়ার পর ইলা মিত্রের চিকিৎসা ও যত্ন আরও জোরদার হয়। পুলিশ পাহারাদাররাও শিথিল হয়, ফলে রমেন মিত্রের গোপনে দেখা করতে তেমন অসুবিধা হয়নি। সাধারণত রাত আটটার পর, ডাক্তারদের রাউন্ড শেষে, আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম।
কমিউনিস্ট পার্টি গোপনে ইলা মিত্রের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে ২৭ মে ১৯৫৪, ইলা মিত্রকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়।
ভাগ্যক্রমে ইলা মিত্র শেষ মুহূর্তে সীমান্ত পার হতে পেরেছিলেন। তা না হলে ভয়ংকর বিপদের আশঙ্কা ছিল, কারণ অল্পদিন পরই পাকিস্তান সরকার ১৯২-ক ধারা জারি করে ব্যাপক দমননীতি শুরু করে।
আহমদ রফিক তার মন খারাপের কথা বলছিলেন— এতদিনের সান্নিধ্যের পর বিদায়ের আগে ইলা মিত্রে সঙ্গে দেখা করতে পারার কষ্ট, একটা কাজে আটকে গিয়েছিলেন তিনি। ডায়েরিতে লিখেছিলেন: “পাখিদির সঙ্গে দেখা হলো না, তাঁরা উড়ে গেলেন সকাল সাতটায়। ভীষণ খারাপ লাগছে।”
তারপর স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসার পর ইলা-রমেনের সঙ্গে পুনরায় আহমদ রফিকের যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে উঠে। যা আমৃত্যু ছিল।
এই ঘটনা শুনে আমি রফিক ভাইকে বললাম, “ইলাদিকে নিয়ে তেমন কোনো কাজ হয়নি। মেসবাহ কামাল ও ঈশাণী চক্রবর্তী যৌথভাবে একটি বই করেছেন, মালেকা আপাও একটি বই করেছেন, আর আমি নিজে একটি সংকলন করেছি। এর বাইরে আর কোনো প্রকাশনা হয়নি। আপনি যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে একটি বই দেন।”

কয়েক মাসের পর তিনি আমাকে ‘ইলা-রমেন কথা: প্রাসঙ্গিক রাজনীতি’নামে একটি পাণ্ডুলিপি দেন। যা ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে কেবল ইলাদি এবং রমেন মিত্রের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা নয়, বরং তৎকালীন রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের জীবনের সঙ্গে তাদের সংযোগক ও সম্পর্ক ফুটে উঠেছে।
ইলা সেনের জন্ম ১৮ অক্টোবর ১৯২৫ সালে কলকাতায়। কমিউনিস্ট নেতা রমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি পরিচিত হন ইলা মিত্র নামে। তার বাবা নগেন্দ্রনাথ সেন ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের বাংলার একাউনটেন্ট জেনারেল। শৈশব ও কৈশোর কলকাতায় কেটেছে, শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বেথুন স্কুল ও কলেজ থেকে, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন।
কলেজজীবনে নারীর অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে রমেন্দ্র মিত্রের সঙ্গে বিবাহের পর নাচোল এলাকায় শিক্ষাকর্ম ও কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৬-৫০ সালে তেভাগা আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকদের জমিদার ও জোতদারদের শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। নাচোলের বাঙালি-আদিবাসী নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি পরিচয় হয়েছিল ‘রানি মা’ বলে। ১৯৫০ সালের পুলিশের অভিযান প্রতিরোধের নেতৃত্ব দেন সবার রানি মা ইলা মিত্র। যেকারণে জেল ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয় তার।
১৯৫৪ সালে মুক্তির পর ইলা ও রমেন মিত্র কলকাতা চলে যান। সেখানে সিটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন ইলা। কমিউনিস্ট পার্টি ও মহিলা ফেডারেশনসহ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকেন। তিনি চারবার বিধানসভায় নির্বাচিত হন, কমিউনিস্ট ডেপুটি লিডার ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। তবে কলকাতা ছিল তার কর্মস্থল। ১৩ অক্টোবর ২০০২ সালে সেখানেই প্রয়াত হন ইলা মিত্র।