Published : 04 Mar 2026, 08:40 AM
মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলছে, কিন্তু বিশ্বের কূটনৈতিক মানচিত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে? আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। হামলার শিকার হওয়ার পর ইরান বিরামহীন আঘাত করে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, দুবাই, আবুধাবি, বাহারাইন, কাতার থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, তিনি ইরানে খামেনি রাজত্বের অবসান চান—সেজন্যই এই আক্রমণ। কিন্তু ইরান এখনও খামেনির উত্তরাধিকারীদের হাতে। এরই মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার খবর দিয়েছে ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ফলে ইরান যুদ্ধের দাবানল পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না। প্রত্যক্ষ না হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ আঁচ এখনই পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত হতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সব সময়ের মিত্র দেশগুলোর বেশির ভাগের অবস্থান ইউরোপে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের বাণিজ্যিক দরকষাকষি নিয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও, ইরান আক্রমণ প্রশ্নে তারা আবার একাট্টা হয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একমত হয়ে ইরান আক্রমণে সম্মতি দিয়েছে ইউরোপের প্রায় সব দেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাজ্য এ আক্রমণের সঙ্গে এখনও পুরোপুরি যুক্ত হয়নি। প্রথম দিকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহারে সরাসরি অসম্মতি জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বলেছেন, আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে তিনি বিশ্বাসী নন। ফলে ইরান আক্রমণে তার বাহিনী বা ঘাঁটি কিছুতেই ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন। ইরান আক্রমণ করার আগে এর আইনসম্মত ভিত্তি কতটুকু, তা ভেবে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন। শেষপর্যন্ত নিরাপত্তার খাতিরে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও আক্রমণের সঙ্গে নেই ব্রিটেন।
ডনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনের এই অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। ব্রিটেন ইদানিংকালে যুক্তরাষ্ট্রকে না বলতে শিখেছে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধেও সব বিষয়ে একমত হয়নি ব্রিটেন। দেশটি বিদেশ নীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। এ পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো ঘনিষ্ঠ দুই দেশের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছে। গত নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ব্রিটেন প্রসঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে ভিন্নতাও পরিলক্ষিত হয়েছে। বৃহৎ দুই দল কনজারভেটিভ ও লেবার পার্টিকে বাদ দিয়ে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকের দিকে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে খুব দ্রুত ব্রিটেনের রাজনীতিতে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তনও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনে সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ বর্ণবাদ ও ডানপন্থাকে উসকে দেওয়া। এসব বিষয় নিয়েও লেবার সরকার কিছুটা ত্যক্ত-বিরক্ত। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব মতের সঙ্গে ব্রিটেন আর আগের মতো সাড়া দিচ্ছে না।
তবে ইরান আক্রমণের প্রশ্নে ইউরোপের অধিকাংশ দেশ শেষপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পাশেই দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও সুইডেন—প্রায় সবাই ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন অবস্থানের সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছে। টানা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা হামলা–পাল্টা হামলার পর এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টরা বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়েছে—এই যুদ্ধের দায় তারা ইরানের কাঁধেই চাপাচ্ছেন।
ইউরোপীয় নেতাদের অনেকেই মনে করছেন, মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলা ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক ইরানের আক্রমণকে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছে এবং তাদের মতে এই পদক্ষেপ ন্যায্য নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টত প্রকাশ পেয়েছে যে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলাকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে ইরানকে প্রতিরোধে সমরাস্ত্র ও সৈন্য মোতায়েনের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। তবে সতর্ক করে এটাও বলেছেন—এই সংঘাত আন্তর্জাতিক শান্তিকে গুরুতরভাবে বিনষ্ট করবে, এতে সন্দেহ নেই।
আয়ারল্যান্ড ও জার্মানি আবার ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে অনাগ্রহের প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ইউরোপের প্রায় সব দেশই এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে খামেনি নিহত হওয়ার পর লন্ডনসহ ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত বহু ইরানি নাগরিককে উল্লাস করতে দেখা গেছে। তারা মূলত খামেনির শাসনব্যবস্থার বিরোধী—যারা নিজ দেশে নিগৃহীত হয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নিয়েছে। ২০২২ সালে কারাগারে ২২ বছর বয়সী তরুণী মাশা আমিনীর মৃত্যুর ঘটনা এখনো বিশ্ব ভুলে যায়নি। হিজাব পরতে বাধ্য করার বিরোধিতা করাই ছিল মাশার অপরাধ। তার মৃত্যুর পর পুরো ইরান উত্তাল হয়ে উঠেছিল এবং সেই আন্দোলনে প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিল খামেনি বাহিনীর হাতে। খামেনির মৃত্যুর পর লন্ডনের রাস্তায় সেই স্মৃতিগুলোই আবার সামনে এসেছে।
এ ধরনের বহু ঘটনার কারণে খামেনির শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত আগে থেকেই তৈরি ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই জনমতকেই এখন কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুর পাশাপাশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নটিকেও বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে কি না—এই প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনই দেওয়া কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালালেও সেসব দেশের নেতারা খুব বেশি কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাননি। যেমন কাতারের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক সব সময়ই তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।
আক্রমণ শুরুর আগে ইরান বলেছিল, তারা কেবল মার্কিন ঘাঁটিতেই হামলা জোরদার করবে। যদিও বাস্তবে ঘাঁটির বাইরেও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। পশ্চিম এশিয়ার উপসাগরীয় পথ, বিশেষ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি—যেটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ—সেখানে বর্তমানে কয়েকশ তেল ও জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজ উপসাগরের বিভিন্ন স্থানে আটকে আছে। ইরান সতর্ক করে বলেছে, এই জাহাজগুলো যেন ওই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা না করে। করলে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হবে।
পাল্টা হুমকি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও ভয়ংকর হামলা শুরু করবে। এখনো যুদ্ধ পুরোপুরি শুরু না হলেও হুমকি আরও জোরালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার বাহিনী আরও বৃহৎ পরিসরে হামলা চালাবে। ইতোমধ্যে এক হাজার ২৫০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
সবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরান আলোচনা করতে চায় বলে যে প্রচারণা ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথবাহিনী চালিয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে খোদ ইরান। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি বলেছে, তারা আরও বড় আকারে হামলার জন্য প্রস্তুত। তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবনে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা প্রায় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
নিজেদের ওপর আক্রমণ ঠেকাতে ইসরায়েল লেবাননের স্থলপথে সৈন্য পাঠাতে শুরু করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে ইরান। উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে; বিশেষ করে তেলের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
সে যাই হোক, এখন প্রশ্ন করা যেতে পারে—এই যুদ্ধে কার কী লাভ? খামেনি নিহত হওয়া, তার শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, পারমাণবিক অস্ত্র বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কতটুকু যুক্তিসঙ্গত—এসব প্রশ্নও আন্তর্জাতিক মহলে উঠেছে। ইরান কি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর মতো ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পেরেছে? উত্তর—না, পারেনি। ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে চায়, তাহলে তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে হবে। ইরানের হাতে এ ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নেই। খুব শিগগিরই কিংবা কখনো ইরান এমন শক্তিধর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে—তেমন কোনো প্রমাণ বা ঘোষণাও নেই।
মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট অবশ্য বলেছেন, একদিন হয়তো ইরান তেমন শক্তিধর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে। এমন অনুমাননির্ভর কথার কোনো যুক্তি নেই। পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসঙ্গে গেলে প্রথম প্রশ্নটি ডনাল্ড ট্রাম্পকেই করতে হবে। তিনিই তো জোর দিয়ে বলেছিলেন, গত বছর হামলার সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আবার আক্রমণ কেন? ইরান কি আবার দ্রুত পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে, যাতে তারা শিগগিরই শক্তিধর বোমা তৈরি করতে পারে?
তাহলে বিষয়টা এমন নয় যে, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত করতে যাচ্ছে। বিষয়টা এমনও নয় যে, ইরান ইউরেনিয়ামে এতটাই সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে যে, পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে। ডনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে বারবার দাবি করেছেন, ইরান যেন ঘোষণা করে যে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না। তার এমন দাবি অযৌক্তিক। ইরান বারবারই বলে এসেছে, তারা তেমন কোনো চেষ্টা করছে না। তাহলে হামলা কেন? খামেনি রাজত্বের অবসানই কি যুদ্ধের মূল কারণ?
ইরানের জনসংখ্যা নয় কোটির বেশি। এই বিপুল জনসংখ্যার দেশে খামেনি টিকে ছিলেন প্রায় ৪৫ বছর। সব জনগণ যদি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিত, তাহলে এত দীর্ঘ সময় নিজের রাজত্ব জারি রাখতে পারতেন না খামেনি। তিনি নিহত হওয়ার পর মনে হচ্ছে, তার বিরোধীরা উল্লাস করলেও, তার পক্ষে জনসমর্থন আরও বেড়েছে। ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খামেনি নিহত হওয়ার পর উল্লাস যেমন হয়েছে, তেমনি বিক্ষোভও হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মিশন কতটা সফল হবে, তা বলা মুশকিল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এ যুদ্ধে সম্মত হলেও নিজেদের লাভ-ক্ষতির হিসাবও কষছে। একই সঙ্গে ইউক্রেইন যুদ্ধে ক্ষতির মুখে পড়া বিভিন্ন দেশ নতুন সংকটে নিজেরা কোন অবস্থানে দাঁড়াবে, তা নিয়েও ভাবছে। দূরের দেশ আমেরিকা এ হামলায় তেমন কোনো ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলো আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।