Published : 06 Oct 2025, 08:10 AM
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ফল এর চেয়েও খারাপ। ডাকসুতে দ্বিতীয় হলেও জাকসুতে সার্বিকভাবে নেমে এসেছে চতুর্থ অবস্থানে ।
ডাকসু এবং জাকসুতে জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল বিজয় হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে ছাত্রশিবির এর আগে কখনোই এতটা মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন করতে পারেনি। প্রথমবার বাধাহীনভাবে নির্বাচন করেই ছাত্রশিবির অভাবনীয় ভালো ফল করেছে। শুধু নির্বাচন নয়, স্বাধীন বাংলাদেশে শিবির অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের আগে কখনো এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমও চালাতে পারেনি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৮৯ সালে ছাত্রদল নেতা কবিরের হত্যাকাণ্ডের পর সব ছাত্রসংগঠন সম্মিলিতভাবে শিবিরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়ন করে। সে সময় থেকে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগপর্যন্ত শিবিরের প্রকাশ্য কার্যক্রম ওই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিল।
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, শিবির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে অংশগ্রহণ করবে। তবে শিবির জিততে পারে বলে অনুমিত হচ্ছিল, কন্তু এত বিপুল ভোটের ব্যবধানে ছাত্রদলকে পরাজিত করে প্রায় সবগুলো আসনে ডাকসু এবং জাকসুতে বিজয়ী হবে–এটি শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতির যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে–সেটি সম্পর্কে যাদের ধারণা ছিল না, তাদেরকে বিস্মিত করেছে। অবশ্য ডাকসু নির্বাচনের কিছু অনিয়ম নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। জাকসুতে তো ভোট গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার আগেই ভোট মাঠ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে ছাত্রদল।
অগাস্ট পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন দুটি ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং দল হিসেবে বিএনপির প্রতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় সুষ্ঠু নির্বাচন না হবার ফলে আওয়ামী লীগ উত্তর সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের দক্ষতা–এ দুটো বিষয়ের প্রতি জনগণের আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। ফলে নির্বাচন দুটি ছিল বিএনপির জন্য টেস্ট কেসের মত। এটি অনস্বীকার্য যে, দুটো পরীক্ষাতেই বিএনপি চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্য কোন ছাত্র সংগঠন এমনকি শিবিরও যদি নির্বাচনে পরাজিত হত, সেটি তাদের রাজনীতির ওপরে তেমন প্রভাব ফেলত না। তবে শিবিরের বিজয় শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সব ঘরানার ইসলামবাদীদের বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছে।
ছাত্রদলের শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এটি আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতির ওপর কী কোন প্রভাব ফেলবে? ছাত্র সংসদের নির্বাচনের ফলাফল কি জাতীয় রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত?
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন জয়লাভ করেছিল। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্রসংসদগুলোতেও ইউনিয়ন জয়ী হয়েছিল। কিন্তু তাদের এ জয়লাভ তাদের ‘মাদার সংগঠন’ সিপিবিকে তেমন কোন সুবিধা দেয়নি। সত্তরের দশকের শেষের দিকে পরপর কয়েকটি ডাকসু নির্বাচনে বাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগ জয় লাভ করে। এসব বিজয় বাসদের রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেনি।
আশির দশকের শেষের দিকে এবং পরবর্তী সময়ে যে কয়টি ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচন হয়েছে তাতে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এ সমস্ত নির্বাচনে হাতেগোনা দু—একটি বাদে জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী দলের ছাত্র সংগঠনই বেশিরভাগ আসন পেয়ে জয়লাভ করেছে।
এ ধারাবাহিকতার আলোকে যদি চিন্তা করা হয়, তাহলে কি এটা অনুমান করা যায় যে– মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে রাজনীতির যে ল্যান্ডস্কেপ গড়ে উঠেছিল, ধীরে ধীরে তার একটি মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে? কোন দেশের জনগণের মন, মনন, মানসিকতা, চিন্তাধারা, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশ্বাস স্থির ফেনোমেনন নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, রাজনৈতিক এবং সামাজিক নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় এসব কিছুই পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সার্বিকভাবে রাজনীতির যে ল্যান্ডস্কেপ, তারও আমূল রূপান্তর ঘটে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই ল্যান্ডস্কেপকে মনে করা হয় উদার—সেকুলার। মোটা দাগে এ ধারার প্রতিনিধিত্ব করছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বামপন্থী দলগুলো। অবশ্য এর বাইরে ইসলামবাদী জনপরিসরের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকলেও প্রচলিত যে পাবলিক পারসেপশন, তাতে একে মূলধারা মনে করা হয় না।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আইনগতভাবে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিকে প্রধানতম রাজনৈতিক দল মনে করা হয়। ছাত্রসংসদসহ স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে–এরকম একটা ধারণা হাসিনা সরকারের পতনের পর গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ডাকসু ও জাকসুর নির্বাচন এ সমীকরণে একটা বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে: বিএনপির যে রাজনীতি, সেটা কি ইসলামবাদের রাজনীতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে যাচ্ছে? গত ১৬—১৭ বছরে ধীরে ধীরে ইসলামবাদের রাজনীতিই কি মূলধারা হয়ে উঠেছে?
ইসলামবাদের রাজনীতির বিকাশ গত এক বা ১৭ বছরে হয়নি। চার দশক ধরে আস্তে আস্তে ইসলামবাদী মতাদর্শের একটা শক্ত ভিত বাংলাদেশের জনসমাজে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সুষ্ঠু নির্বাচন না হবার ফলে ইসলামবাদের ভিত্তি রাষ্ট্র ও সমাজে আসলে কতটা শক্তিশালী হয়েছে, তা সঠিকভাবে বোঝা মুশকিল।
ইসলামবাদের বাইরে বাংলাদেশে অন্য যে দুটি বড় জনপরিসর রয়েছে তার একটি আওয়ামী লীগের এবং অপরটি বিএনপির। এখন ইসলামবাদের জনপরিসর এর যে কোনো একটির চেয়েও বড় কিনা, সেটা অন্তর্ভুক্তিমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বোঝা দুরূহ।
ইসলামবাদী মতাদর্শ বিশ্বব্যাপী তিনটি ধাপে বিকশিত হয়েছে। এর একটি হলো ১৯৭৯ সালের ইরানের শিয়া ইসলামবাদী বিপ্লব, দ্বিতীয়টি হল সোভিয়েত ইউনিয়ন পতন পরবর্তী মতাদর্শিক শূন্যতা, আর তৃতীয়টি হল ৯/১১ পরবর্তী পশ্চিমা দুনিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া।
বাংলাদেশে ইসলামবাদী জনপরিসরের বিকাশ হয়েছে, ইতালীয় মার্কসবাদী তাত্ত্বিক আন্তনীয় গ্রামসি যাকে বলেছেন ‘প্যাসিভ রেভুলিউশন,’ অনেকটা সে আদলে। অর্থাৎ, দৃশ্যত কোন শক্তিশালী রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন ব্যতিরেকে ইসলামবাদের রাজনীতি এবং এর সংস্কৃতি ধীরে ধীরে সমাজের গভীরে পৌঁছেছে নানাবিধ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, বুদ্ধিভিত্তিক এবং জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে।
ইসলামবাদী জনপরিসর গড়ে তুলবার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জামায়াতের পাইওনিয়ার ভূমিকা এ মতবাদের ভিত্তিকে দৃঢ়তা দিয়েছে। শহুরে মধ্য এবং উচ্চবিত্তের কাছে দলটি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ইসলামবাদের ধারণাকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ছাত্রসমাজের মাঝে ইসলামবাদের ধারণাকে জনপ্রিয় করতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছে শিবির। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আমলাসহ বুদ্ধিজীবী সমাজের কাছে ইসলামবাদী মতাদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে হিজবুত তাহরীর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মূলত দক্ষিণবঙ্গে এবং অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়া হেফাজতে ইসলাম, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার মাঝে ইসলামবাদকে পৌঁছে দিয়েছে ।
শুধু ধর্মভিত্তিক নয়, মোটা দাগে সেকুলার দল হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির নানাবিধ কার্যক্রমও ইসলামবাদের রাজনীতি ও এর সাংস্কৃতিক মতাদর্শ প্রসারে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। গত সাড়ে ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনামলে বিএনপি ইসলামবাদী মতাদর্শের পক্ষে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নৈতিক এবং আইনি সহায়তাসহ নানাভাবে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে জামায়াতসহ কিছু ইসলামবাদী দলের যে প্রতিরোধ, তার ফলে রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে বিএনপি ইসলামবাদের রাজনীতির পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়। বিএনপির এ অবস্থান ইসলামবাদের রাজনীতির সামাজিক এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ওয়াজ মাহফিল এবং ফেইসবুক ও ইউটিউবে সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকাও উল্লেখযোগ্য । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেইসবুককেন্দ্রিক কিছু বুদ্ধিজীবীর অ্যাক্টিভিজম, ইসলামবাদের মতাদর্শ এবং এর সংস্কৃতিকে তরুণ সমাজের মাঝে আধুনিক এবং পশ্চিমাবিরোধী র্যাডিকাল মতাদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছে ।
এ বুদ্ধিজীবীরা দুটো বর্গে বিভক্ত। এর একটি হচ্ছে উদার বা লিবারেল ধারার। আরেকটি বর্গ বামপন্থী ধারার, যারা সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ, পোস্টমডার্নিজম এবং পোস্টকলোনিয়াল স্টাডিজ দ্বারা প্রভাবিত।
ইসলামবাদকে বাম ধারার বুদ্ধিজীবীরা শেখ হাসিনার শাসন এবং এর পাশাপাশি নয়া ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসাবে প্রাচ্যজাত র্যাডিক্যাল মতাদর্শ হিসেবে ক্রমাগত উপস্থাপনা করেছেন। অবশ্য তাদের আলোচনায় যে বিষয়টা অনুপস্থিত, সেটি হল: ইসলামবাদ কোন একক বা মনোলিথিক মতাদর্শ নয়।
বড় দাগে ইসলামবাদ সুন্নি ও শিয়া ইসলামবাদে বিভক্ত। পশ্চিমের সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নে শিয়া ইসলামবাদ সবসময়েই অনমনীয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে সুন্নি ইসলামবাদীদের অনেককে পশ্চিমের সঙ্গে নানাবিধ বিষয়ে সহযোগিতা করে চলতে দেখা গেছে, মুখে পশ্চিমবিরোধী অবস্থান নিলেও।
বাংলাদেশের লিবারেল এবং বাম ধারার বুদ্ধিজীবীদের ইসলামবাদের যে পাঠ, সে পাঠে পশ্চিমের সঙ্গে সুন্নি ইসলামবাদের যে সহযোগিতা, সে বিষয়টি সবসময় অনুপস্থিত থেকেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বামপন্থী মতাদর্শের দুর্বলতা এবং বিএনপির কোন কার্যকর বিকল্প মতাদর্শ উপস্থাপন করতে পারবার ব্যর্থতা, তরুণ সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের কাছে র্যাডিক্যাল মতাদর্শ হিসেবে ইসলামবাদের উপস্থাপন–তাদের মাঝে এ মতাদর্শের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।
সারা বিশ্বের তরুণদের মাঝেই র্যাডিক্যাল মতাদর্শের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নব্বইয়ের দশক থেকে বামপন্থী মতাদর্শ, র্যাডিক্যাল আদর্শ হিসেবে বিশ্বব্যাপী তরুণদের কাছে আগ্রহ হারাতে থাকে।
বামপন্থী মতাদর্শ আকর্ষণ হারাবার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোতে অতি ডানপন্থার রাজনীতির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম প্রধান দেশগুলোতেও বামপন্থী মতাদর্শের দুর্বলতার ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তার কারণে তরুণ সমাজ ডানপন্থী মতাদর্শ—ইসলামবাদকে বিকল্প হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে।
ইসলামবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত তরুণরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করেছে। তবে সমাজে এ মতাদর্শ এখনো বাহ্যত অতটা প্রভাবশালী না হবার কারণে, তাদেরকে এটা করতে হয়েছে উদারনৈতিক এবং বাম মতাদর্শের স্লোগান এবং রেটরিকের ছদ্মাবরণে—নিজেদের মতাদর্শিক অবস্থানকে গোপন রেখে।
এতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিল আন্ডারকাভারে থাকা ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব। ইসলামবাদী মতাদর্শে প্রভাবিত তরুণদের জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবার বিষয়টি ছাত্রশিবিরকে ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনে ভালো ফল করতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে । (চলবে)