Published : 13 Jun 2026, 10:51 AM
খালখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার কক্সবাজারের পাতিলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কার্যক্রমের সূচনা করেন। পরে খাল পাড়ে একটি কাঠ বাদামের চারা রোপণ করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে তখনকার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতলী খাল খনন কাজের সূচনা করেছিলেন। তখন এই খালের পানির আওতায় আসে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি। সেই সময়ে জিয়াউর রহমান খালপাড়ে একটি খেজুর গাছ রোপণ করেন, যা কালের সাক্ষী হয়ে এখনো বেঁচে আছে।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “পাতিলী খাল একটি ঐতিহাসিক খাল। এই খালটি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব উদ্বোধন করেছিলেন। প্রেসিডেন্টের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ ও বৈপ্লবিক কৃষি বিপ্লব দেখতে সে সময় বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র, ভুটানের রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক এবং শ্রীলঙ্কার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকে।
“তখন এই খালের পানির কল্যাণে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি চাষাবাদের আওতায় আসে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব সবুজ বিপ্লব ঘটেছিল। ৫-৬ বছর সচল থাকার পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি পলি জমে ভরাট হয়ে যায় এবং কিছু অংশ অবৈধ দখলের কবলে পড়ে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছিল।”
পাতিলী খালটির দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার। এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান সাংসদ কাজল।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে বৃষ্টির মধ্যে অপেক্ষা করছিলেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয় কৃষক জাহেদ আলী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন। এখন তার ছেলে এসেছেন সেই খাল পুনঃখনন করতে। আজকে আমরা তারেক রহমানকে স্বচক্ষে কাছ থেকে দেখতে পেয়েছি। এটা খুশি খবর।
“পাতিলী খাল ভরাট হয়ে গেছে। এই খাল পুনঃখনন হলে আমরা কৃষকরা উপকৃত হব, আমরা ফসল ফলাতে আর সেচের পানির জন্য চিন্তা করতে হবে না।”
প্রধানমন্ত্রী পাতলী খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করে খালের পাশে অস্থায়ী মঞ্চে উঠে গ্রামবাসীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করবেন সরকারপ্রধান।
কর্মসূচি: সকালে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর পেকুয়া উপজেলায় জুলাই শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত এবং শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তারপরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিকালে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় যোগদান করবেন সরকারপ্রধান।
এরপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন এবং সন্ধ্যায় লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ কর্মসূচি শেষে আকাশপথে ঢাকায় ফিরবেন তিনি।
দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডন থাকার পরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে তারেক রহমানের এটিই প্রথম কক্সবাজার সফর।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।