Published : 18 Dec 2025, 12:28 AM
শহরে রাস্তার কুকুর-বিড়াল মেরে ফেললে ড্রেন থেকে উপরে উঠে আসে ইঁদুর। ইঁদুরের বিপদ সামলাবে কে? ক্ষেতের ফসল বাঁচায় সাপ। শহুরে সাপাতঙ্ক কৃষকের নেই—বরং ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের সহাবস্থানে অভ্যস্ত তারা। সমাজ-রাজনীতিতেও কি এমনই ঘটে?
ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ২০২৫’ বা এনএসএস প্রকাশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দুনিয়ার কোন অঞ্চলে কেমন ভূমিকা রাখবে সেটির সাধারণ ধারণা বিবৃত হয়েছে এতে।
গুরুত্বের ক্রম অনুসারে সাজানো এই ডকুমেন্টে মার্কিনের প্রথম মাথা ব্যথা ‘পশ্চিম গোলার্ধ’ বা আমেরিকা নিয়ে। এরপরই এশিয়া— ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল — ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা বিশাল ভৌগোলিক এলাকা, যে এলাকায় রয়েছে ভারত, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ। বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার বাস এই অঞ্চলে। এটি এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মত পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র। বৈশ্বিক বাণিজ্য-অর্থনীতির বড় অংশী এই অঞ্চলের গুরুত্ব তাই ওয়াশিংটনের কাছে তার মিত্র শক্তি ইউরোপের চেয়েও বেশি।
ক্রয়-ক্ষমতার কল্যাণে, পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি), বিশ্ব জিডিপির অর্ধেক অর্জন করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। একবিংশ শতাব্দী জুড়ে বাড়তেই থাকবে এই সমৃদ্ধির ধারা। আর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রও এই অঞ্চল—এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে এই মার্কিন নথিতে।
অঞ্চলটি এত গুরুত্ব পেলেও ডকুমেন্টের কোথাও বাংলাদেশের নামটি নেই! ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বে বাংলদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওঠার দামামা বাজানো বয়ান এতে হোঁচট খায় বটে। তারপরও এই সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার জন্য কী কৌশল নেবে তা বাংলাদেশের ভাবা উচিত।
সরকার বদল হলে এনএসএস বদল হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন একটি এনএসএস প্রকাশ করেছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে কি কি বদলে যায়? এনএসএস মূলত সেদেশের সরকারি দলের দৃষ্টিভঙ্গি ও এস্টাবলিশমেন্টের কৌশলের মিশেল। যেমন প্রাজ্ঞ কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের কথার মধ্য দিয়ে মার্কিন এস্টাব্লিশমেন্টের মনোভাব পেতাম আমরা। তিনি স্থিতিশীলতার খাতিরে রাশিয়ার কাছে ইউক্রেইনের কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এমন কি এক সময় ইউক্রেইনকে নেটোতে অন্তর্ভুক্তির বিপক্ষেও মত ছিল তার। তাই যুদ্ধ থামাতে রাশিয়া-ইউক্রেইনের মধ্যে যা হতে যাচ্ছে তা মার্কিন এস্টাব্লিশমেন্টের আগেই ভেবে রাখা বিষয়ই মনে হচ্ছে। প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে এত রক্তক্ষয়, এত জল ঘোলা কেন? কারো উসকানি ছাড়া তো আর ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজে নিজে রাশিয়ার লেজ দিয়ে কান চুলকাতে যাননি।
আমাদের আলোচনা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশল নিয়ে। এই বিষয়ের নিয়ন্ত্রকও মার্কিন এস্টাব্লিশমেন্ট— প্রতিরক্ষা দপ্তর, পররাষ্ট্র দপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। এতে রিপাবলিকান বনাম ডেমোক্রেট দলীয় পলিটিক্সের প্রভাব কম। তাই বর্তমান এনএসএসের সুফল পাওয়া না-পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে কৌশলটির খোলনলচে।
বিশ্ব রাজনীতির উদ্দেশ্য ও পদক্ষেপের বেশিটাই গোপনীয়তায় মোড়া—তাই এনএসএস মোটেও সহজপাঠ্য নয়। বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়ায় চোখ রেখে বুঝে নিতে হবে এর ভূত ভবিষ্যৎ।
রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেইন যুদ্ধ এখনও থামেনি। তার আগেই অবস্থান বদলেছে আঙ্কেল স্যাম। তাদের কাছে রাশিয়া আর ‘হুমকি’ নয়। এতে চটেছে ইউরোপ; বিশেষ করে পোল্যান্ড, ইউক্রেইন ও বাল্টিক দেশগুলো। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিনের পুরো ফোকাসের ঘোর বিরোধী তারা। অন্য দিকে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে ক্রেমলিন। মোদ্দা কথা—মার্কিন ফোকাস এখন ইন্দো-প্যাসিফিকে—এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেল তাদের প্রতিক্রিয়ায়।
একটা মজার খবর দিই—এনএসএসের গোপন নথি ফাঁসের দাবি উঠেছে। ওই খবরের দাবি—যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইউরোপীয়দের নিয়ে গড়া জি-সেভেনকে পাশ কাটিয়ে ‘কোর-ফাইভ’ নামে নতুন জোট গড়তে চায়—যার অংশী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত আর জাপান। অবশ্য হোয়াইট হাউস বলছে, এটা ভুয়া খবর। তবে এনএসএসে ইউরোপ সম্পর্কে আশাব্যঞ্জক কথা নেই —ইউরোপ ভুল পথে চলছে উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়েছে—‘the continent will be unrecognizable in 20 years or less.’ মানে ২০ বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যে মহাদেশটি গুরুত্ব হারাবে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দেখে নেওয়া যাক। প্যাসিফিক মহাসাগরে চীনের প্রভাব রোধে রয়েছে জাপান, তাইওয়ান ও ফিলিপিন্স নিয়ে ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’। দ্বিতীয় মাথা ব্যথা দক্ষিণ চীন সাগরে বাধাহীন চলাচলের সুরক্ষা। সেটি বেশ নাজুক মনে করেন আঙ্কেল স্যাম। ভারত থেকে জাপান পর্যন্ত মিত্র দেশগুলোর শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে তা রক্ষার নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠন করেছে কোয়াড। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের গুরুত্বের কারণ এখানে স্পষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশও কি এই শক্তিবৃদ্ধির ঠিকাদারি পেতে পারে?
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক চরম বৈরিতায় গিয়ে ঠেকেছে। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ভারত ছাড়া অন্য কোনো দেশের রাজনৈতিক জটিলতা এমন প্রকাশ্য নয়। বিষয়টির বোঝাপড়ায় তাই বাংলাদেশের বেড়ে ওঠার পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কটির নির্মোহ বিচার আবশ্যক।
ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে পাট। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাশ-ক্রপ পাট চাষ ও বিক্রির আয়ে ভর করে শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠে নতুন মধ্যবিত্ত। এ জনগোষ্ঠী ছেচল্লিশে মুসলিম লীগকে বাক্স ভরে ভোট দেয়—যা ভারত থেকে পৃথক রাষ্ট্র গঠনে ভিত্তি জোগায়। তেমনই সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে দেওয়া ভোট বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত গড়ে। এটাই ‘জনগণের অভিপ্রায়’, চাপিয়ে দেওয়া কিছু নয়। একাত্তরে প্রকাশ্য মিত্র শক্তি হিসেবে ভারতের সহায়তা মেনে নিয়েই স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। যদিও স্বাধীনতার পর একটি পক্ষ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে রাজনৈতিক এজেন্ডা করে তোলে—তাতে চুলচেরা বিশ্লেষণের স্থান ছিল নগণ্য, বেশিটাই রেটরিক। তাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অপরাপর বৈশ্বিক শক্তির প্রতি তুলনায় বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ স্পষ্ট ছিল না। মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারও কোনো আশার আলো দেখেননি—বিখ্যাত হয়ে আছে তার ‘তলাহীন ঝুড়ি’ অভিধাটি। যদিও এক সময় বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেট মন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে ‘আমার আরেক ছাত্র’ বলে প্রশংসাসূচক পিঠ চাপড়েও দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কাছে দেশের ভবিষ্যৎ অস্পষ্ট ছিল কি?
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, দেশ গঠনে তার সম্পদ জনগণ— অর্থাৎ শ্রমশক্তি। হাতে পাট ও চা থাকলেও ছিল না খনিজ বা কোনো শিল্প। জনগণের শ্রমশক্তি কীভাবে বৈশ্বিক বাজারে কাজে লাগাবেন তার কোনো স্পষ্ট ধারণা দেননি সেদিন। তবে এক যুগের মধ্যে এই সস্তা জনশক্তি বিশ্ব শ্রমবাজারে যুক্ত হয়—পোশাক ও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে। এ দুটোই দেশের বৈদেশিক ধন আহরণের প্রধান খাত এখনও। পাটের অতীতের অর্থনৈতিক ভূমিকাও হারায় এই সময়। পোশাকশিল্প ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিযায়ী শ্রমিকের খাত নতুন সচ্ছল জনগোষ্ঠী গঠনের ভিত্তি হয়ে ওঠে—অর্থাৎ স্বাধীনতার পর মধ্যবিত্ত গঠনের ভিত্তি বদলে গিয়েছে। জনমানসে কালচারাল শিফটে কি এর ভূমিকা রয়েছে?
এর উল্টো পিঠের কথা হচ্ছে—এদেশে প্রধানত সস্তা মজুরির বিনিময়েই বৈদেশিক শোষণটি ঘটে চলেছে। এই শোষণের সুবিধাভোগী পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের করপোরেটগুলো। তাই বলে তাদের দূর দূর না করে বরং সান্নিধ্যই আমাদের কাম্য। দুটো ডলার মেলে।
লুণ্ঠনের আরেকটি উপায় প্রকল্পে বিনিয়োগ। এসব প্রকল্পে বিদেশি ঋণে সুদ দিতে হয়। পাশাপাশি শর্ত মত প্রকল্পের সরঞ্জাম সেসব দেশ থেকেই আমদানির করতে হয়। তাতে সেসব দেশের আরেক দফা মুনাফা থাকে। বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে বিনিয়োগে চীন. জাপানের মত দেশগুলোই প্রাধান্যে রয়েছে।
মার্কিন এনএসএসে লিখেছে—‘economic security is fundamental to national security’—অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বৈদেশিক শক্তির সঙ্গে সক্ষমতা অনুযায়ী সমঝোতা ছাড়া আমাদের হাতে কোনো বিকল্প আছে কি? লক্ষণীয়, পোশাক-পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রকল্প ঋণ দুটো ক্ষেত্রেই ভারতের অবস্থান গৌণ।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের মত। সেদেশ থেকে পোশাক শিল্পের তুলাসহ নানা সরঞ্জাম ও খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়, তুলনামূলক সস্তা বলেই। ভারত শোষণ করছে বলবার জো কি আছে?
বিগত পঞ্চশ বছর ধরে বাংলাদেশের এই প্রধান অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির বিকাশে ভারত কি প্রতিবন্ধক? দেশটির প্রধান মাথাব্যথা নিরাপত্তা নিয়ে। এই নিরাপত্তা ইস্যুর একটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ও অন্যটি বৈশ্বিক এজেন্ডা। বৈশ্বিক নিরাপত্তা এজেন্ডায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সরকার নিরপেক্ষ বিষয়। বিগত বিএনপি সরকারও এতে যুক্ত ছিল।
এবার মার্কিন ঘোষণায় এসছে, তারা আর কোনো দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে ভাবিত নয়। আপাতত বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের উপর গণতন্ত্র-মানবাধিকার ইস্যু খড়্গ হয়ে নামছে না বোধকরি। তবে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য চ্যাপ্টারে নন-স্টেট ‘ইসলামিক টেরোরিস্ট’ নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ আছে। উল্লেখ আছে—গাল্ফ দেশগুলোও ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতির চাইতে বড় হাতিয়ার হয়ে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে —শান্তির ধ্বজা। বিশ্বের স্থিতিশীলতায় সেই শান্তি তারা মিত্র ও অংশীদার রাষ্ট্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে বোধগম্য— ‘United States… yet we cannot afford to be equally attentive to every region and every problem in the world.’
ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ কর্মসূচির লক্ষ্য সেদেশে পুনরায় শিল্পায়ন ঘটিয়ে ঘরের পুঁজি ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া। ওষুধ শিল্প খাত ছাড়া আলোচিত অন্য কোনো পণ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগ নেই। অভিনব প্রযুক্তিভিত্তিক নব শিল্পায়ন যুগে ঢুকতে চায় দেশটি। আশা করি দর্জিগিরি সেই তালিকায় নেই। তবে পাকিস্তানি এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তার দেশের প্রসঙ্গে বলছেন, জনসংখ্যা দিয়ে সক্ষমতা দেখানোর বড় সুযোগ থাকছে না। আমাদের সস্তাশ্রমের ভিত্তি কিন্তু অদক্ষ জনসংখ্যা। নানাবিধ গৌরবে মোড়া আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটিও অদক্ষতা উৎপাদনের ব্যবস্থা।
এ নিয়েই অর্ধ শতাব্দীকাল ধরে বাংলাদেশ ‘ব্যবসায়িক দেশ’ হিসেবে বিভিন্ন দেশে উপার্জনের উপায় খুঁজে ফিরছে। তাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’—সেখানে সাম্প্রতিক হটকারী কর্মকাণ্ডগুলো অভাবনীয়। ভারত ভেঙে নতুন রাষ্ট্র গঠনের আওয়াজ দিতেও দেখা যায়! কোনো ‘নেশন বিল্ডিং’ মূলত পরাশক্তির কাজ। এই সব রোমান্টিক হটকারিতাকে লঘুভাবে দেখা উচিত নয়। অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক এজেন্ডার তফাৎ বোঝার জন্য ভারত-আফগানিস্তানের বর্তমান সম্পর্কই যথেষ্ট। ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নে হুমকি না হওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তান। তালেবান মন্ত্রী ভারত সফরও করে গেছেন।
পাকিস্তান সৃষ্টির পর নিপীড়নের মুখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দলে দলে ভারতে চলে যাওয়া শুরু করে। পরিস্থিতি সামালে সামরিক হস্তক্ষেপ করার কথা বিবেচনায় নিয়েছিল ভারতের নেহরু সরকার। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মধ্যে চুক্তি হয়—সেই ‘নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি’র পর পরিস্থিতি শীতল হয়। এর পঁচাত্তর বছর পর, ফের আমরা দেখলাম, বাংলাদেশ ঘেঁষে ভারত সেনানিবাস গড়ে তুলল! যেচে ঝুঁকি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের কৌশলগত কোনো দায় রয়েছে কি? মনে রাখা দরকার— নব্বইয়ের দশকে বিএনপি-আওয়ামী লীগের শাসনের পালা বদলে ভারত কোনো বড় ইস্যু ছিল না।
বাংলাদেশ বরাবরই ভুগছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে। তাই প্রয়োজন ছিল, দ্রুত দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও অবারিত করা। দেশের ব্যবসায়িক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া। অথচ দেশ যেন নৈরাজ্যের স্বর্গ। জোর যার মুল্লুক তার—এটাই কি আমদের শেষ কথা! রাজনৈতিক-সামজিক বাস্তুতন্ত্র নির্মাণে আমরা কি ব্যর্থ হতেই থাকব?