Published : 30 Jul 2025, 06:00 PM
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র ও নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ছিল দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অসাম্য, সাংস্কৃতিক সংকোচন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বহীনতার এক গাঢ় প্রতিক্রিয়া। এটি কোনো একক নেতৃত্বাধীন বিপ্লব ছিল না, বরং এক বিপুল সামাজিক উত্তেজনার স্ফুরণ। এই লেখায় আমরা বস্তুবাদী দর্শনের আলোকে বিশ্লেষণ করব—কীভাবে অর্থনৈতিক ভিত্তির রূপান্তর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিসংস্কৃতির জন্ম দেয়, বুর্জোয়া শ্রেণি কীভাবে সাংগঠনিক ও আদর্শিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে শ্রেণিসংগ্রাম কী ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট খুঁজে পেতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিকে। বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সমাজে মতাদর্শ, রাজনীতি ও সংস্কৃতি যেভাবে গড়ে ওঠে, তার শেকড় রয়েছে অর্থনৈতিক ভিত্তির মধ্যে। যে শ্রেণি উৎপাদনের উপায় নিয়ন্ত্রণ করে, তার হাতেই থাকে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের চাবিকাঠি।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর, বাংলাদেশ একটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনীতির পথে এগুতে থাকে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়টিকে ‘উন্নয়নের মহাসড়ক’ বলে চিহ্নিত করা হয়। অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ, বিদেশি ঋণনির্ভর বড় প্রকল্প এবং রেমিটেন্সনির্ভর ভোগের সম্প্রসারণ—এসব মিলিয়ে একটি ‘কন্ট্রাক্টর-পুঁজি’ নির্ভর উন্নয়ন কাঠামো তৈরি হয়।
এই সময় মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণি কিছুটা স্বস্তি পায়। ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সংবাদমাধ্যম, আবাসন খাত ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে একধরনের ‘বুর্জোয়া স্বপ্ন’ গড়ে ওঠে, যার ভিত্তি ছিল বৈদেশিক লেনদেন, মেগা-প্রজেক্ট এবং রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। এই শ্রেণির একাংশ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ফুলে-ফেঁপে ওঠে, অন্য অংশটি নীতিনির্ধারক বা মতাদর্শগত ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবস্থার অংশ হয়ে ওঠে।
কিন্তু ২০২৩ সালের পর এই উন্নয়ন কাঠামোর ভেতরে দেখা দেয় অনিবার্য ফাটল, ফলস্বরূপ বৈদেশিক ঋণের বোঝা ও সুদের চাপে দেশের বাজেট দুর্বল হয়ে পড়ে। বহুবছর পরে সরকারকে আইএমএফের শরণাপন্ন হতে হয়। অথচ, কিছুদিন আগেও নিজের টাকায় পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সকলকে চমকে দিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল যে মূল্যস্ফীতি ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন মধ্যবিত্তের সঞ্চয় ও আয়কে অনিরাপদ করে তোলে এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও খেলাপি ঋণের বিস্তার সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের আস্থা হারায়। পাশাপাশি, প্রবাসী আয় হ্রাস ও রপ্তানি খাতে স্থবিরতা দেখা দেয়।
এই সংকটে সবচেয়ে বিপন্ন হয়ে পড়ে ওই বুর্জোয়া শ্রেণি, যারা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে বিকাশ লাভ করেছিল—বিশেষত শহুরে মধ্যবিত্ত, নতুন উদ্যোক্তা, প্রগতিশীল সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে জড়িত পেশাজীবীরা। বস্তুবাদী পরিভাষায় এটি উৎপাদন সম্পর্কের সংকট—যেখানে পুঁজি ও শ্রমের সম্পর্ক, চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য এবং রাষ্ট্র ও শ্রেণির স্বার্থের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
অর্থনৈতিক অবকাঠামোর এই সংকট একদিকে শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে, অন্যদিকে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বুর্জোয়া শ্রেণির সামনে অস্তিত্ব সংকট তুলে ধরে। তাদের পূর্বের শ্রেণি-অবস্থান টিকে থাকে না, আবার পরবর্তী স্তরে উত্তরণও সম্ভব হয় না। এমন এক সময়ে, যখন অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে, তখনই সমাজে আন্দোলন, বিদ্রোহ এবং মতাদর্শগত পুনঃসংজ্ঞার আবির্ভাব ঘটে।
বাংলাদেশে বুর্জোয়া শ্রেণির বিকাশ ঘটেছে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করে—এরা মূলত উৎপাদনের মালিক না হয়ে ব্যবস্থার সুবিধাভোগী। ২০০৯–২০১৯ সময়ে শহুরে শিক্ষিত পেশাজীবী, মিডিয়া মালিক, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইটি ও এনজিও সংশ্লিষ্টরা ‘উন্নয়ন’ ও ‘প্রগতিশীলতা’র ভাষায় সাংস্কৃতিক বুর্জোয়া রূপে আত্মপ্রকাশ করে। তবে ২০২০ সালের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা-ঘনিষ্ঠ এক নতুন বুর্জোয়া গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে, যারা মেগা প্রকল্প, ব্যাংক ও টেলিযোগাযোগে আধিপত্য বিস্তার করে। বিপরীতে, পুরনো সংস্কারমুখী বুর্জোয়া শ্রেণি—বিশেষত মিডিয়া ও সুশীল সমাজ—অনুদান হ্রাস, সাংস্কৃতিক সংকোচন ও প্রভাবহীনতায় পতিত হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে এই শ্রেণিকে দেখতে পাওয়া যায় দ্বিধান্বিত—কেউ সহানুভূতিশীল, তো কেউ চুপ, আবার কেউ বিভ্রান্ত। তারা একদিকে শাসন কাঠামোর প্রতি আস্থা হারায়, অন্যদিকে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিকেও দেখতে পায় না। বস্তুবাদী বিশ্লেষণে এটি এক অভ্যন্তরীণ শ্রেণি-সংকট, যাকে গ্রামসি ‘সিভিল সোসাইটির হেজেমনি-লজ্জা’ বলে চিহ্নিত করেছেন।
অর্থনৈতিক সংকট ও বুর্জোয়া শ্রেণির সাংস্কৃতিক প্রভাব ক্ষয় পেতে শুরু করলে, ওই শূন্যতা পূরণে উঠে আসে এক বিকল্প মতাদর্শ—সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা। ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে ধর্ম, জাতীয়তাবাদ ও ঐতিহ্যবাদের মিশ্রণে গড়ে ওঠা এক নতুন হেজেমনি—রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রে জায়গা করে নেয়।
এটি বস্তুবাদী দৃষ্টিতে ‘সুপারস্ট্রাকচারের প্রতিস্থাপন’—যেখানে পুরনো হেজেমনির পতনের পর সাংস্কৃতিক ক্ষমতা চলে যায় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে। মার্কসবাদ অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক আধিপত্য একটি শ্রেণির অর্থনৈতিক ভিত্তির সম্প্রসারিত রূপ। তাই যখন পুরনো বুর্জোয়া শ্রেণি দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন নতুন শ্রেণি বা শ্রেণি-জোট সাংস্কৃতিক ক্ষমতার ওপর দখল স্থাপন করে। বাংলাদেশে এখন যে সাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক আধিপত্য গড়ে উঠেছে, তা শ্রমজীবী শ্রেণিকে তাদের নিজস্ব সংগ্রামের ভাষা থেকে বিচ্যুত করে, রাজনৈতিক চেতনার বদলে আবেগ ও শত্রুবিমুখতা কৌশলে ব্যস্ত রাখে এবং যে কোনো শ্রেণিগত পুনর্গঠনের সম্ভাবনাকে ‘সাম্প্রদায়িক জাতীয় ঐক্যের’ ভেতরে চেপে ফেলে।
বস্তুবাদী বিশ্লেষণে ২০২৪ সালের আন্দোলনটি ছিল একটি জমে থাকা সামাজিক সংকটের যৌক্তিক বিস্ফোরণ—উৎপাদন সম্পর্কের দ্বন্দ্ব, সাংস্কৃতিক দিশাহীনতা ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বশূন্যতার ফল। ব্যাংক, বাজার, বিদ্যুৎ ও বেকারত্ব ঘিরে রিকশাচালক, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক, প্রবাসী পরিবার ও প্রথম প্রজন্মের শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়—জীবনের তাগিদ থেকেই উঠে এসেছিল। বস্তুবাদে একে বলা যায় সংগঠিত না হওয়া বাস্তব প্রলেতারিয়েত, যারা পথ খুঁজছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা আন্দোলনের সামনে থাকলেও তাদের আদর্শিক স্পষ্টতা ছিল না। জাতীয়তাবাদ, ধর্ম, আর ব্যবস্থাপনা সংস্কারের দাবি মিলেমিশে তাদের মধ্যে এক ধরনের সংস্কারবাদী ক্ষোভ বিরাজ করছিল।
জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল—এর নেতৃত্বহীনতা। বস্তুবাদী দৃষ্টিতে প্রশ্নটি অন্যরকম: নেতৃত্ব অনুপস্থিত ছিল, নাকি নেতৃত্বকে বিকশিত হতে দেওয়া হয়নি? আদর্শের অভাব ছিল, নাকি আদর্শকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল?
আন্দোলনটি ছিল শ্রেণিসংগ্রামের একটি কাঁচা, অপরিণত, কিন্তু অকপট রূপ। এটি শাসক শ্রেণিকে চ্যালেঞ্জ জানায়নি, কিন্তু তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করেছে; বিকল্প আদর্শ তুলে ধরেনি, কিন্তু প্রশ্ন তুলেছে পূর্বের সকল আদর্শের প্রতি; নেতৃত্ব গড়েনি, কিন্তু নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।
এই আন্দোলনের ভেতরে ছিল সম্ভাবনা ও বিভ্রান্তি, সাহস ও ছন্দপতন, শ্রেণিসংগ্রামের বীজ এবং সংস্কারবাদী বিভ্রান্তির সমাবেশ। বস্তুবাদী দৃষ্টিতে এটি ‘উৎপাদন ও বণ্টনের অবকাঠামোগত দ্বন্দ্ব’ এবং ‘প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্বশূন্যতার’ দ্বৈত সংকটে গঠিত। উৎপাদন স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে সমাজে সঞ্চিত ক্ষোভ জমে উঠলেও, তা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত রূপ নিতে পারেনি। রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও মতাদর্শের অভাবে আন্দোলন আত্মসচেতন শ্রেণিসংগ্রামে পরিণত হয়নি। অর্থনৈতিক ভিত্তি বদলালেও তার ওপর নির্মিত রাজনীতির কাঠামো ছিল পুরনো ও নিস্তেজ।
এই আন্দোলন দেখিয়েছে যে বর্তমান শ্রেণিসংগ্রাম আর কেবল শ্রমিক-মালিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন ‘নিয়ন্ত্রিত ভবিষ্যৎ বনাম অনিশ্চিত বর্তমানে’র লড়াই। নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শহুরে তরুণ প্রজন্ম একই সংকটে আবদ্ধ হলেও তাদের রাজনৈতিক চেতনা ও অভিব্যক্তি ভিন্ন—সংঘাত আছে, কিন্তু ঐক্য নেই। এটিই হলো বস্তুবাদী সংকটের উচ্চতম স্তর—যেখানে বস্তুগত শর্ত একত্র হলেও, ঐতিহাসিক চেতনার অভাব একটি সংগঠিত রূপ নিতে বাধা দেয়। গ্রামসির ভাষায়, “পুরনো সমাজ মরছে, কিন্তু নতুন সমাজ জন্ম নিতে পারছে না—এটাই হচ্ছে আন্তঃসংক্রমণকাল, যেখানে মনস্টার জন্ম নেয়।”
ইতিহাস কোনো শূন্যতার মধ্যে স্থবির থাকে না। তাই এই আন্দোলনের ভেতরেই রয়েছে দুটি বিপরীত দিক: বিপ্লবী রূপান্তরের সম্ভাবনা—যদি নতুন নেতৃত্ব, আদর্শ ও সাংগঠনিকতা এই অসন্তোষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে শ্রেণিসংগ্রামে রূপান্তর করতে পারে। অথবা, প্রতিক্রিয়াশীল পুনর্নির্মাণের আশঙ্কা—যদি শাসকগোষ্ঠী ধর্ম, জাতীয়তা ও নিরাপত্তার রেটোরিক ব্যবহার করে আবারও সমাজকে দমন করে এবং একটি ‘নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা’ তৈরি করে।
২০২৪ সালের আন্দোলন এক সংকট-সংক্রমণকালের দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়—যেখানে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো, সামাজিক শ্রেণিচিত্র এবং সাংস্কৃতিক হেজেমনির ভিত কেঁপে ওঠে। এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল পরিচালিত ছিল না, আবার সরলভাবে এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানও নয়। বরং এটি ছিল এক অস্থায়ী সামাজিক চেতনার বিস্ফোরণ, নিষ্ক্রিয় সাংস্কৃতিক বুর্জোয়াদের অন্তর্লীন দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ এবং শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পারস্পরিক নির্ভরতা ও সন্দেহের এক জটিল দ্বন্দ্ব।
বস্তুবাদী দৃষ্টিতে সমাজে কোনো আন্দোলন তখনই ঐতিহাসিক মূল্য পায়, যখন তা অন্তর্নিহিত শ্রেণিসংগ্রামকে নগ্নভাবে উন্মোচন করে দেয়। ২০২৪ সালের আন্দোলন ওই কাজটি করেছে নিঃসন্দেহে, যদিও তার মধ্যে রূপান্তর ঘটানোর মতো আদর্শিক পরিপক্কতা ও সংগঠিত কৌশল ছিল অনুপস্থিত।
কীভাবে অর্থনৈতিক ভিত্তির পরিবর্তন সাংস্কৃতিক সংকটের জন্ম দেয়, কীভাবে বুর্জোয়া শ্রেণির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতা নতুন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে শক্তিশালী করে এবং কীভাবে নেতৃত্ব ও আদর্শহীনতা একটি আন্দোলনের সম্ভাবনাকে দ্বিধায় আটকে দেয়—এই লেখায় ওই বিষয়গুলো ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। মার্কসীয় বস্তুবাদে দ্বন্দ্বই ইতিহাসের চালিকা শক্তি। এই আন্দোলনের দ্বন্দ্ব—শ্রেণি, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব, ভাষা, বিশ্বাস—সমস্ত কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত করছে। একটি সমাজ তখনই বদলে যায়, যখন তার ‘অর্থনৈতিক ভিত্তি’ আর তার ‘চেতনার অবকাঠামো’ একে অপরকে অস্বীকার করতে শুরু করে। ২০২৫ সালের বাংলাদেশে আমরা ওই বিচ্ছিন্নতা অনুভব করছি।