Published : 15 Jul 2026, 12:52 AM
দীর্ঘ ২০ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় পা রাখছেন ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন, যিনি বর্তমানে দিল্লিতে বসবাস করেন।
মঙ্গলবার ইন্ডিয়া টুডে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, আগামী ১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে মৌলবাদবিরোধী কবি ও লেখকদের উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তসলিমার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তসলিমা নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন।
তাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ করেছে ‘সেক্যুলার মিশন’এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’ (এইচআরবিএফএফ) নামে দুটি সংগঠন।
আয়োজকরা বলছেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে তসলিমার দীর্ঘদিনের ‘আপসহীন’ অবস্থান এবং বাকস্বাধীনতার পক্ষে লড়াইয়ের স্বীকৃতিতে তাকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে।
১৯৬২ সালে ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া তসলিমা আশির দশকে উদীয়মান কবি হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্যজগতে ‘আলোড়ন’ তুলেছিলেন। কিন্তু লিঙ্গসমতার পক্ষে এবং ধর্মবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে তাকে ইসলামপন্থিদের রোষানলে পড়তে হয়।
হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন তসলিমা। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকের বেশি সময় বসবাস করার পর ২০০৪ সালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন।
কিন্তু ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তসলিমার লেখালেখি নিয়ে সহিংস প্রতিবাদ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন।
এরপর তার কয়েকবার কলকাতায় আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ায় তা আর হয়নি।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, ১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে অনুষ্ঠান আয়োজকদের দাবি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও সেখানে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। শুভেন্দু তাতে রাজিও হয়েছেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায় বলেন, “তসলিমার এই রাজ্যে আসার ক্ষেত্রে তো কোনও আইনি বাধা নেই। আদতে বিগত দুটো সরকার মৌলবাদের কাছে নতজানু হয়েছিল। এখন নতুন একটি সরকার এসেছে। নতুন আবহে আমরা যারা দীর্ঘদিন তসলিমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি, তারা ঠিক করলাম তাকে কলকাতায় আনব।”
এই অনুষ্ঠানের নেপথ্যে কোনো রাজনীতি নেই দাবি করে তিনি বলেন, “তসলিমার বিভিন্ন কবিতা ও গান নিয়ে অনুষ্ঠান হবে। তবে তসলিমার নিরাপত্তা একটা বড় বিষয়। সরকারের তরফে তসলিমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে।”
এদিকে সংবাদ প্রতিদিন বলছে, তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানকার সাহিত্যিকরা। কথা সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “খোলামেলা কথা বলেন বলেই তসলিমাকে পছন্দ করে না নীতিপুলিশ সমাজ। অনেক দিন ধরে স্বদেশ থেকে নির্বাসিত তিনি। বাংলাদেশকে অসম্ভব ভালোবাসেন। বাংলাদেশের পর তার ভালোবাসার জায়গা হল কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ।
“আমি ব্যক্তিগত ভাবে ওকে চিনি। ওর প্রতি আমার একটা স্নেহ, ভালোবাসা তো আছেই। তসলিমা পশ্চিমবঙ্গে আসুন, আমি চাই। এখানেই যদি তার একটা স্থানীয় ঠিকানা হত, তাহলে সে খুশি হত, আমরাও খুশি হতাম।”
কবি অংশুমান করও পশ্চিমবঙ্গে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি লেখকের চূড়ান্ত স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। বাম জামানায় অত্যন্ত অন্যায় কাজ হয়েছিল। তারপর তৃণমূলের সময়ও তসলিমা নাসরিনকে আসতে দেওয়া হয়নি। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক। আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি এই সরকারকে, তারা তসলিমাকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন।”