Published : 30 Mar 2026, 08:02 PM
এবার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন নতুন মামলায় সাংবাদিক থেকে রাজনীতিতে নাম লেখানো শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তারের এ তথ্য দেন।
সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ওই মামলাতেই শওকতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে এবং সেখানে হট্টগোলের ঘটনার জেরে ২০২৫ সালের ২৮ অগাস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছিল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক হাফিজুর রহমান কার্জনকে। পরে তারা জামিনে মুক্ত হন।
এর আগে রমনা থানার একটি মামলায় শওকত মাহমুদকে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকার ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্রে’ জড়িত থাকার অভিযোগে যে মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরী গ্রেপ্তার হন, সেই মামলায় শওকত মাহমুদকে ৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়।
এ মামলায় সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি।
পরে গত ১৬ মার্চ শওকত মাহমুদকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ৩০ মার্চ রাখেন।
এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছর ২৮ অগাস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বেলা ১১টায় ওই অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন।
অভিযোগে বলা হয়, হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে তাদেরসহ ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় ২৯ অগাস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন একই থানার এসআই আমিরুল ইসলাম।