Published : 21 Dec 2025, 02:42 PM
শীত এলেই ত্বকের নানান সমস্যা চোখে পড়তে শুরু করে। ঠোঁট ফাটা, হাত-পা রুক্ষ হওয়া এসবের সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চোখের চারপাশের নাজুক ত্বক।
মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় চোখের পাশের চামড়া অনেক বেশি পাতলা ও সংবেদনশীল।
তাই শীতকালে সামান্য অবহেলাতেই সেখানে দেখা দেয় শুষ্কতা, টানটান ভাব, কুচকে যাওয়া এমনকি ফাটা ভাব ও চামড়া ওঠে।
এই বিষয়ে ‘জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টার’য়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি বলেন “অনেকেই ভাবেন, শুধু মুখে ক্রিম লাগালেই যথেষ্ট। তবে বাস্তবে চোখের ত্বকের যত্ন আলাদা করে না নিলে শীতকালেই বয়সের ছাপ সবচেয়ে আগে এখানেই ফুটে ওঠে।”
চোখের পাশের ত্বক যে কারণে এত সংবেদনশীল
চোখের চারপাশের ত্বকে তেল গ্রন্থি খুব কম থাকে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে এখানে আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতাও কম।
“শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়, ঠাণ্ডা হাওয়া সরাসরি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়। ফলে চোখের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে” – বলেন ফারহানা রুমি।
এর ওপর বারবার চোখ মেলা, হাসি-কান্না, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা— সব মিলিয়ে চোখের চারপাশে চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি।
শীতে চোখের আশপাশের চামড়া ফাটার কারণ
প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে-
আর্দ্রতার অভাব: ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকে। ফলে ত্বক প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায় না।
হিটার বা গরম বাতাসের ব্যবহার: শীতের সময় রুম হিটার বা যান্ত্রিক গরম বাতাসের ব্যবস্থা করলে, ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়।
ভুল প্রসাধনী ব্যবহার: অ্যালকোহলযুক্ত ফেইসওয়াশ বা কঠিন মেইকআপ রিমুভার চোখের আশপাশের ত্বক আরও রুক্ষ করে দেয়।
পানিশূন্যতা: শীতে অনেকেই কম পানি পান করেন। শরীরে পানির অভাব চোখের ত্বকে দ্রুত প্রভাব ফেলে।
এই সব কারণ মিলেই চোখের ত্বক শীতে ফেটে যাওয়া বা খসখসে হওয়ার প্রবণতা বাড়ায়- জানান এই রূপ-বিশারদ।
যে জন্য চোখের ত্বক কুচকে যায়
“চোখের চারপাশে কুচকে যাওয়ার মূল কারণ হল কোলাজেন ও আর্দ্রতার ঘাটতি। শীতকালে ত্বক যখন শুষ্ক হয়ে পড়ে, তখন তার স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। ফলে সূক্ষ্ম রেখা বা ‘ফাইন লাইন’গুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে” বলেন ফারহানা রুমি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। তবে অল্প বয়সেও শীতের সময় ভুল যত্নে চোখের পাশে কুচকানো ভাব দেখা দিতে পারে।
শীতে চোখের যত্ন কতবার প্রয়োজন
শীতকালে চোখের ত্বকের যত্ন দিনে অন্তত দুবার নেওয়া জরুরি। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার পর। আর রাতে ঘুমানোর আগে।
যদি ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়, তাহলে দিনে আরও একবার হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার পণ্য লাগানো ঠিক নয়।
শীতে চোখের ত্বকের জন্য যেমন যত্ন প্রয়োজন
কয়েকটি পদ্ধতি এই ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল দেয়।
মাইল্ড ক্লিনজিং: চোখের মেইকআপ তুলতে বা মুখ ধোয়ার সময় খুব মাইল্ড, অ্যালকোহল-ফ্রি ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। চোখের পাশে কখনই জোরে ঘষা যাবে না।
আই ক্রিম বা আই জেল: শীতকালে সাধারণ ফেইস ক্রিম চোখের ত্বকের জন্য যথেষ্ট নয়। আলাদা করে আই ক্রিম ব্যবহার করা জরুরি।
এমন ক্রিম বেছে নিতে হবে, যাতে থাকে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন ই, সেরামাইড, শিয়া বাটার।
এই উপাদানগুলো চোখের ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
সঠিকভাবে আই ক্রিম লাগানো: আই ক্রিম লাগানোর সময় অনামিকা ব্যবহার করতে হবে। হালকা ‘ট্যাপ’ বা স্পর্শে ব্যবহার করতে হবে এবং কখনই টান দেওয়া যাবে না।
সানস্ক্রিন ভুলবেন না: শীত হলেও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি চোখের ত্বকের ক্ষতি করে। বাইরে বের হলে চোখের চারপাশে হালকা সানস্ক্রিন লাগানো প্রয়োজন।

ঘরোয়া যত্নে চোখের ত্বক সুস্থ রাখার উপায়
শীতে ঘরোয়া উপাদান দিয়েও চোখের যত্ন নেওয়া যায়।
বাদাম তেল বা নারকেল তেল: রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি বলেন, “রাতে ঘুমানোর আগে খুব অল্প পরিমাণ চোখের পাশে লাগালে শুষ্কতা কমে।”
অ্যালোভেরা জেল: প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
ঠাণ্ডা শসার টুকরা: চোখের ক্লান্তি ও শুষ্ক ভাব কমায়।
জীবনযাপনের ভূমিকা
চোখের ত্বকের যত্ন শুধু বাহ্যিক নয়, ভেতর থেকেও প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত পানি পান, শীতকালের ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন