Published : 14 Dec 2025, 01:16 PM
ঘন, মজবুত ও উজ্জ্বল চুল সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক। তবে জন্মগতভাবে চুল পাতলা হওয়া, বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল কমে যাওয়া কিংবা সাময়িক চুল পড়ায় ঘন চুল অনেকেই কাছেই স্বপ্নের মতোই।
চুল রাতারাতি ঘন হয়ে যাবে এমন কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে চুল শক্ত, স্বাস্থ্যকর ও তুলনামূলকভাবে ঘন করে তুলতে পারে।
রূপবিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কিছু পদ্ধতি অনুসরণে চুলের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
ভেতর থেকে পুষ্টি
চুলের যত্ন শুধু বাইরে থেকে তেল বা মাস্ক ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ নয়।
রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, “শরীরের ভেতরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভেঙে যায়। আয়রন, ভিটামিন ডি কিংবা হরমোনজনিত সমস্যার কারণে চুল পড়া বাড়তে পারে।“
দীর্ঘদিন ধরে চুল পাতলা হতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ থাকে শরীরের ভেতরে।
সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি ও ফলমূল চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিয়মিত ডাল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল চুলের জন্য উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন
চুলের বৃদ্ধিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
চুলের বৃদ্ধিতে ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার
মাথার ত্বকে নিয়মিত মালিশের উপকারিতা
শুধু আরাম নয়, মাথার ত্বক মালিশ বা ‘স্ক্যাল্প মাসাজ’ চুলের বৃদ্ধিতেও দারুণ কাজ করে।
“মাথার ত্বকে হালকা চাপ দিয়ে মাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে। ফলে চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছানো সহজ হয়”- ব্যাখ্যা করেন শারমিন কচি।
তিনি আরও জানান, মাসাজের সময় চুলের গোড়ার গঠন সামান্য প্রসারিত হয়, যা নতুন চুল তুলনামূলকভাবে মোটা হতে সাহায্য করে। গোসলের সময় বা গোসলের আগে আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে গোলাকারে-ভাবে মালিশ করলেই উপকার পাওয়া যায়।
রোদ থেকে চুল ও মাথার ত্বক সুরক্ষিত রাখা
রোদের অতিরিক্ত তাপ ত্বকের ক্ষতি করে। তবে চুলও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চুলের ভেতরের বন্ধন দুর্বল করে দেয়।
এর ফলে চুল পাতলা হয়ে যায়, সহজে ভেঙে পড়ে এবং রংও ফিকে দেখায়।
রোদপ্রবণ সময়ে বাইরে বের হলে মাথা ঢেকে রাখা, ওড়না বা স্কার্ফ ব্যবহার করা চুল রক্ষার একটি সহজ উপায়।
মানসিক চাপ কমানো না গেলে চুলও সুস্থ থাকে না
মানসিক চাপ শুধু মনেই নয়, চুলের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন চাপের মধ্যে থাকলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা চুল পড়ার একটি বড় কারণ।
কখনও অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনা, গর্ভধারণ, প্রিয়জন হারানো বা মানসিক আঘাতের পর হঠাৎ চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।
এই অবস্থা সাধারণত সাময়িক হলেও আগের মতো চুল ফিরে পেতে অনেক সময় লেগে যায়। তাই চাপের উৎস চিহ্নিত করে তা কমানোর চেষ্টাই ভালো সমাধান।
অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগে সতর্কতা
চুল শুকানো বা সাজানোর জন্য অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার চুলের বড় শত্রু। অতিরিক্ত তাপে চুলের ভেতরের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চুলের গঠন দুর্বল হয় এবং ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে পড়ে।
যাদের চুল এমনিতেই পাতলা বা দুর্বল, তাদের জন্য তাপ ব্যবহার সীমিত রাখা সবচেয়ে ভালো। প্রয়োজনে তাপ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা যে কারণে জরুরি
চুলের ভিত্তি হল মাথার ত্বক। আর এই মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে নতুন চুল গজানোর যথাযথ পরিবেশ আর থাকে না।
অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার, কঠিন রাসায়নিকযুক্ত পণ্য কিংবা গরম বাতাস সরাসরি লাগালে এর শুষ্কতা বাড়ে।
মাথার ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখতে নিয়মিত যত্ন নেওয়া দরকার। এতে নতুন চুলের বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
যত্নের সঙ্গে চুল আঁচড়ানো
চুল আঁচড়ানোর সময় অসতর্ক হলে ভাঙা ও চুল পড়া বাড়ে। ভেজা চুল সবচেয়ে দুর্বল থাকে। তাই এই সময় চুল আঁচড়ানো যাবে না কোনও ভাবেই।
ধীরে ও কোমলভাবে চুল আঁচড়ানো ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
মাঝে মাঝে পুষ্টিকর মাস্ক ব্যবহার
চুলের গোড়ার পাশাপাশি চুলের দৈর্ঘ্যও পুষ্টি চায়। নিয়মিত পুষ্টিকর মাস্ক বা গভীর পরিচর্যা চুলকে ভেতর থেকে শক্ত করতে সহায়ক।
সপ্তাহে অন্তত একদিন এই ধরনের যত্ন নিলে চুল ভাঙা কমে এবং ধীরে ধীরে চুলের গঠন উন্নত হয়- মন্তব্য করেন শারমিন কচি।
আরও পড়ুন
চুলের মাস্ক ধাপে ধাপে ব্যবহারের সঠিক উপায়