Published : 14 Jun 2026, 04:01 PM
নিখুঁত মেইকআপের জন্য শুধু ভালো প্রসাধনী যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক ক্রমে ব্যবহার করাও সমান ভাবে প্রয়োজন। তবে মেইকআপের সময়ে ফাউন্ডেশন আগে ব্যবহার করা উচিত, নাকি কনসিলার?
অনেকের ধারণা কনসিলার দিয়ে দাগ ঢেকে, তারপর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করাই ভালো। আবার প্রথমে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে, পরে প্রয়োজন অনুযায়ী কনসিলার ব্যবহার করেন অনেকেই।
বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি বলেন, “ত্বকের ধরন, মেইকআপের উদ্দেশ্য এবং ফলাফলের ওপর নির্ভর করে দুই পদ্ধতিই কার্যকর। তবে অধিকাংশ সময়ে ফাউন্ডেশন আগে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত হতে পারে।”
কেন আগে ফাউন্ডেশন?
এই রূপবিশেষজ্ঞ প্রথমে ফাউন্ডেশন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন কারণ এতে পুরো মুখের রং সমান হয়ে যায় এবং পরে কনসিলার ব্যবহার করলে সেটি ত্বকের সঙ্গে খুব স্বাভাবিকভাবে মেশে।
তার মতে, “ফাউন্ডেশনের মূল কাজই হল ত্বকের অসম রং, লালচেভাব ও ছোটখাটো দাগ ঢেকে সমান ভিত্তি তৈরি করা। এই কাজ প্রথমে সম্পন্ন হলে পরে কোথায় কতটুকু কনসিলার লাগবে, তা সহজেই বোঝা যায়। ফলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না এবং মেইকআপও ভারী দেখায় না।”
অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনী ব্যবহার কমে
অনেকেই মুখে কনসিলার লাগানোর পর ফাউন্ডেশন ব্যবহার করেন। এতে প্রায়ই দেখা যায়, ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করার সময় কনসিলারের একটি অংশ সরে যায়। তখন আবার সেই জায়গায় নতুন করে কনসিলার লাগাতে হয়।
তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র হালকা ফাউন্ডেশন দিয়েই ‘কাভারেজ’ পাওয়া সম্ভব।
এরপর যদি কোথাও অতিরিক্ত ঢাকার প্রয়োজন হয়, তখন অল্প কনসিলার ব্যবহার করা যায়। এতে মেইকআপ অনেক বেশি হালকা, স্বাভাবিক এবং ত্বকের মতোই দেখায়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কার্যকর
ভারী মেইকআপের পরিবর্তে স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল ত্বকের প্রবণতাই বেশি চলছে এখন। আর এ ধরনের সাজে ফাউন্ডেশন আগে ব্যবহারেই ত্বকের স্বাভাবিক বোঝা যায়।
কচির মতে, “ফাউন্ডেশন পুরো মুখে সমানভাবে মিশিয়ে দেওয়ার পর কেবল চোখের নিচে, নাকের পাশে কিংবা ব্রণের দাগের মতো নির্দিষ্ট স্থানে কনসিলার ব্যবহার করলেই স্বাভাবিক মেইকআপ পাওয়া যায়।”
এতে মুখে অতিরিক্ত স্তর তৈরি হয় না, আবার দীর্ঘ সময় মেইকআপও সতেজ থাকে।
ফাউন্ডেশন ও কনসিলারের ধরনেও মিল থাকা
শুধু ব্যবহারের ক্রম ঠিক করলেই হবে না, ব্যবহৃত প্রসাধনীর ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।
যদি তরল ফাউন্ডেশনের ওপর গুঁড়া ধরনের কনসিলার ব্যবহার করা হয় কিংবা উল্টোটা করা হয়, তাহলে মেইকআপ অসমান বা ভারী দেখাতে পারে।
তাই একই ধরনের বা কাছাকাছি গঠনের ফাউন্ডেশন ও কনসিলার ব্যবহার করলে, ত্বকে সমানভাবে মিশে যায় এবং দীর্ঘ সময়ও টিকে থাকে।
কখন আগে কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে
যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন আগে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে বিশেষ অবস্থায় কনসিলার আগে ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে।
ছবি তোলা, টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বা স্টুডিওর তীব্র আলোর সামনে কাজ করার সময় কনসিলার ব্যবহার করা যায়।
কারণ তীব্র আলো বা ক্যামেরার ঝলকে মুখের কিছু অংশ ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।
আগে কনসিলার ব্যবহার করলে মুখের বিভিন্ন অংশের রং সহজে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
রংয়ের অমিল থাকলেও কাজে আসে
সব সময় কনসিলারের রং ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও থাকতে পারে। যদি কনসিলার কিছুটা হালকা হয়, তাহলে আগে সেটি ব্যবহার করে, পরে ফাউন্ডেশন লাগালে রংয়ের পার্থক্য সহজেই ঢেকে যায়।
এই কৌশল বিশেষ করে তাদের জন্যই কার্যকর, যাদের কাছে ত্বকের সঙ্গে পুরোপুরি মিল থাকা কনসিলার নেই।
ফাউন্ডেশন পরে ব্যবহার করলে রং অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসে।
চোখের নিচের কালচে দাগ ঢাকতে ভিন্ন পদ্ধতি
অনেকের চোখের নিচে খুব গাঢ় কালচে দাগ থাকে, যা শুধু সাধারণ কনসিলার দিয়ে ঢেকে রাখা কঠিন। এমন ক্ষেত্রে আগে রং সংশোধনকারী কনসিলার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন- এই রূপ-বিশারদ।
তিনি বলেন, “চোখের নিচের গাঢ় দাগ বা ত্বকের রংয়ের অমিল দূর করতে প্রথমে রং সংশোধনকারী কনসিলার ব্যবহার করা উচিত। এরপর ফাউন্ডেশন লাগিয়ে প্রয়োজনে আবার সাধারণ কনসিলার ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।”
এক্ষেত্রে ফাউন্ডেশন একা চোখের নিচের কালচেভাব পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। তাই কনসিলার আগে ব্যবহার করাই কার্যকর।
মুখে উজ্জ্বলতা আনতে
মুখের নির্দিষ্ট অংশ উজ্জ্বল দেখাতে ত্বকের রংয়ের চেয়ে এক বা দুই শেইড হালকা কনসিলার ব্যবহার করা যায়।
তবে এক্ষেত্রেও, এটি ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পর করাই সবচেয়ে ভালো। এতে চোখের নিচে, নাকের মাঝখান কিংবা কপালের অংশ আরও উজ্জ্বল দেখায় এবং মুখে স্বাভাবিক আকৃতি ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুন
ত্বক ভেতর থেকে সুস্থ ও তরুণ রাখার উপায়