Published : 13 May 2025, 06:51 PM
গ্রীষ্মকালীন ফ্যাশন মানে নতুন ট্রেন্ড, আধুনিকতা এবং কিছুটা ‘নস্টালজিয়া’ বা স্মৃতিকাতরতা। এ সময়ে যদি সমুদ্র সৈকতের দিকে রওনা হন কিংবা শহরে ঘুরে বেড়ান, তবে সঠিক আনুষঙ্গিকগুলো পুরো আদল বদলে দিতে পারে।
এই গ্রীষ্মের শীর্ষে থাকা ট্রেন্ডগুলো আধুনিক ছোঁয়ার সঙ্গে কিছু পুরানো দিনের ঝলকও ধারণ করে। যা নিজস্ব স্টাইলের প্রকাশ ঘটাতে সাহায্য করবে।
বড় আকারের সানগ্লাস থেকে শুরু করে বিশেষ গয়নার পাথর, আংটি, ঘড়ি সব অনুষঙ্গতেই এখন চলছে ট্রেন্ড।
ককটেল ওয়াচেস বা ককটেল ঘড়ি
এটি একটি ফ্যাশনেবল এবং আভিজাত্যপূর্ণ ঘড়ি যা সাধারণত বড়, সজ্জিত ও রঙিন নকশার হয়।
ফ্যাশন ওয়াচে এখন একটি বড় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ফ্যাশনে একটি মূল থিম হল ‘নিজের স্টাইলের প্রকাশ’।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডায়ান ইন স্টাইল’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ডায়ান বয়ার রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “এই গ্রীষ্মে আত্মপ্রকাশের জন্য সঠিক সময় হল ফ্যাশনাবল ঘড়ি পরা। বিশেষ করে গরমের দিনে, খালি হাতে এই ধরনের ঘড়ি পরলে পুরো স্টাইলের উজ্জ্বলতা আসে।”
বাংলাদেশেও এখন ফ্যাশনাবল ককটেল ঘড়ির জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
হাই-লো প্লে বা বৈপরীত্য
গ্রীষ্মে স্টাইলের মিশ্রণ একটি বড় ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘আইববস’-এর কর্মী ও স্টাইলিস্ট হ্যানাহ সোয়েনসন একই প্রতিবেদনে বলেন, “এই গ্রীষ্মে ফ্যাশনে বৈপরীত্যর প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। মানে হল ম্যাক্সি স্কার্টের সাথে বেসবল ক্যাপ পরা আর ড্রেসের ওপর শার্ট পরা।"
আঙ্গুলে আংটি ‘টোয়া এ মোঁয়া’
এই আংটির ইতিহাস ১৯শ শতকের শুরুর দিকে এবং এটি প্রেমের গল্প বলার জন্য পরিচিত।
‘টোয়া এ মোঁয়া’ এটি একটি ফরাসি শব্দগুচ্ছ। যার বাংলা অর্থ ‘তুমি এবং আমি’।

এই ধরনের আংটিতে সাধারণত দুটি পাথর বা রত্ন থাকে— যা দুজন মানুষের মিলন বা প্রেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলায় যেতে পারে ‘যুগল আংটি’, ‘তুমি ও আমি আংটি’, বা ‘বিশেষ যুগল রিং’। এই আংটি প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে বা দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়।
মার্কিন গয়না নকশাকর ক্রিস্টিনা গ্যাড বলেন, “এই আংটিগুলো খুবই রোমান্টিক এবং ব্যক্তিগত, যে কারণে সব জায়গায় এবং সব পোশাকের সাথে প্রায় প্রতিদিনই পরা যায়।”
চার্মস গ্যালোর বা ঝলমলে ছোট অলংকারের বাহার
চার্মস বা ছোট ছোট অলংকারের ব্যবহার এখন বেড়ে গেছে। দুল, ব্রেসলেট এবং হাতে পরার অন্যান্য অনুষঙ্গগুলোতে আবার ছোট অলংকার ব্যবহার করা হয়।
এই আকর্ষণীয় ছোট গয়নাগুলোকেই ‘চার্মস বলে। আদ্যাক্ষর, জন্মপাথর ইত্যাদি যেগুলো চেইন, ব্রেসলেট, ব্যাগ, জুতোর ফিতা এমনকি চুলেও পরা যায়।
ক্রিস্টিনা গ্যাড আরও বলেন, “এগুলি নিজস্ব ব্যক্তিত্বের ছোঁয়া এবং আকর্ষণীয়তার একটি অংশ হয়ে উঠেছে।”
বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফিঙ্গার রিং ও ট্যাগ রিং ব্যবহারের প্রবনণতা বেড়েছে।
চাঙ্কি এবং বড় সানগ্লাস
এই গ্রীষ্মে সানগ্লাসের ট্রেন্ডে এসেছে বড় এবং চাঙ্কি ফ্রেম।

হ্যানাহ সোয়েনসন বলেন, “জলপাই, প্যাস্টেল এবং সাদা রংয়ের ফ্রেম এখন চূড়ান্ত ট্রেন্ড।”
বাংলাদেশেও এখন বড় আকারের সানগ্লাস পছন্দ করছে তরুণরা, যা তাদের আরও ফ্যাশনেবল করে তোলে।
প্রেপি পার্লস বা অভিজাত ধাঁচের মুক্তা গয়না
মুক্তার গয়না এখন আর শুধুমাত্র বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য নয়, বরং প্রতিদিনের সাজসজ্জার একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন গয়না নকশাকর এবং ‘এডিএমকে জুয়েলারি’র প্রধান মেগান কার্টজ বলেন, “এখন মুক্তার নতুন ডিজাইনগুলো দারুণ এবং আধুনিক।”
নটিক্যাল ভাইবস বা সমুদ্রপথ-অনুপ্রাণিত শৈলী
নটিক্যাল ট্রেন্ড শুধুমাত্র পোশাক এবং জুতা নয়, এখন আনুষঙ্গিক এবং হ্যান্ডব্যাগেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ডায়ান বয়ার বলেন, “ফিশারম্যান হ্যান্ডব্যাগগুলো গ্রীষ্মের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এটি একেবারে আরামদায়ক স্টাইল দেয়।”
এটি মূলত ফ্যাশনে ব্যবহৃত একটি ধারণা- যা সমুদ্র, জাহাজ, নাবিকদের পোশাক, নৌকা-বাঁধা দড়ি, সাদা-নীল স্ট্রাইপ, অ্যাংকর (নোঙর) মোটিফ, ফিশারম্যান ব্যাগ ইত্যাদি উপাদান দিয়ে অনুপ্রাণিত।
এই স্টাইল গ্রীষ্মকালে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়। কারণ এটি হালকা, আরামদায়ক এবং ছুটির দিনের ‘লুক’ তৈরি করতে সাহায্য করে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর বিভিন্ন ‘নটিক্যাল স্টাইল’ এ সময়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়, বিশেষ করে সমুদ্র সৈকতে।
বার্থস্টোন বা জন্ম রত্ন গহনা
‘জন্ম রত্নের গহনা’ বর্তমানে আবার বড়ভাবে ফিরে এসেছে। এটি এমন গহনা যাতে ব্যক্তির জন্মমাস অনুসারে নির্দিষ্ট রত্নপাথর যেমন- জানুয়ারির জন্য গার্নেট, জুলাইয়ের জন্য রুবি ইত্যাদি পাথর ব্যবহার করা হয়।
এগুলো সাধারণত আবেগগত, ব্যক্তিত্বগত বা আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে।
আবার কেউ যদি অগাস্ট মাসে জন্মগ্রহণ করে, তাহলে তার জন্ম রত্ন হতে পারে ‘পেরিডট’। আর সেই অনুযায়ী পেরিডট পাথর দিয়ে তৈরি আংটি, চেইন বা ব্রেসলেট হতে পারে তার জন্ম রত্ন গহনা।
আরও পড়ুন
এই মৌসুমের সাথে মানানসই সুগন্ধি