Published : 02 Nov 2025, 01:16 PM
চুল ধোয়ার ঝামেলা কম না। গোসলের সময় বের করতে হয়, শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয়, কন্ডিশনার লাগাতে হয়, আবার শুকাতেও সময় লাগে।
তাই অনেকেই দুয়েকদিন পিছিয়ে দেন চুল ধোয়া। তবে কীভাবে বোঝা যাবে যে চুল ধোয়ার ব্যবধানটা একটু বেশিই বাড়িয়ে ফেলেছেন?
চুল অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া
ত্বকের মতোই মাথার ত্বকেও নিয়মিত তেল বা সিবাম তৈরি হয়। চুল না ধুলে সেই তেল জমে গিয়ে চুল ভারি, তৈলাক্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি বলেন, “যখন চুল ধোয়া হয় না, তখন তেল জমে গিয়ে চুলে এক ধরনের অস্বস্তিকর গন্ধও তৈরি করতে পারে।”
তাই নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে ত্বকের রন্ধ্রে ময়লা জমে ত্বক ও চুল দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মাথার ত্বক চুলকানো বা জ্বালা করা
অতিরিক্ত সিবাম জমে শুধু তৈলাক্তভাবই নয়, মাথার ত্বকে চুলকানি ও জ্বালা ধরাতে পারে।
“সিবাম প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ বা আর্দ্র করে। তবে এটি ময়লা, ধুলা, ব্যাক্টেরিয়া ও ফাঙ্গাসের জন্য খাবারের উৎসও হয়ে ওঠে। ফলে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে”- বলেন এই বিশেষজ্ঞ।
অর্থাৎ মাথায় চুলকানি শুরু হলে বুঝতে হবে চুল ধোয়ার পরিমাণ কমে গেছে।
খুশকি বা ত্বক খসখস করা
চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু না করলে সিবাম জমে খুশকির সমস্যা বাড়ায়। সিবাম জমে গেলে তা খামির-জাতীয় জীবাণুর (ইস্ট) জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে, ফলে খুশকির সৃষ্টি হয়।
যদি খুশকি বারবার ফিরে আসে, তাহলে ‘মেডিকেইটেড অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু’ ব্যবহার করতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
মাথার ত্বকের পুরানো সমস্যা বেড়ে যাওয়া
যাদের আগে থেকেই খুশকি বা চুলকানির সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুল না ধুলে অবস্থাটা আরও খারাপ হয়। কম ধোয়া মানে মাথায় তেল ও ময়লা জমে যাওয়া, যা এই সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তোলে।
চুলে পণ্যের অবশিষ্ট জমে থাকা
নানান ধরনের চুল পরিচর্যার প্রসাধনী, যেমন- সেরাম, তেল, ক্রিম, জেল বা ফোম ব্যবহার করলে, এসবের অবশিষ্টাংশ মাথায় জমে যায় যদি ভালোভাবে না ধোয়া হয়।
ফলে চুল নিয়মিত পরিষ্কার না করলে মাথার ত্বক ও চুলে এক ধরনের স্তর তৈরি কারণে আঠালো অনুভূত হয়।
রূপবিশেষজ্ঞ ফারহানা রুমি পরামর্শ দেন, “একবার নয় শ্যাম্পু দুবার ব্যবহার করা উচিত। প্রথমবার ময়লা ও পণ্য বা প্রসাধনী জমে থাকা অংশ দূর হবে, দ্বিতীয়বার হবে মূল পরিষ্কার।”
চুল পড়া বা ভেঙে যাওয়া
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, কম ধোয়ার কারণেও চুল পড়তে পারে। কারণ মাথায় তেল, ময়লা ও দূষণ জমে প্রদাহ তৈরি করে, যা চুল পড়ার কারণ হয়।
এই জমে থাকা স্তর চুলের আর্দ্রতা শোষণে বাধা দেয়, ফলে চুল শুষ্ক হয়ে ভেঙে যায়।
চুল ভারি ও নিস্তেজ দেখানো
তেল ও স্টাইলিং পণ্য জমে থাকা স্তর চুলের স্বাভাবিক ঘনত্ব ও ভাঁজ নষ্ট করে।
অনেক আধুনিক চুলের পণ্যে এমন সব পদার্থ থাকে, যেগুলো নিয়মিত না ধুলে চুল ভারি হয়ে পড়ে এবং ঘনত্ব হারায়।
আরও পড়ুন