Published : 16 May 2026, 04:43 PM
পাকা চুল দেখা দিলেই দ্রুত পুরো চুলে রং করে ফেলার প্রবণতা খুব সাধারণ। কারণ এতে মনে হয় পাকা চুল পুরোপুরি ঢেকে ফেলাই সবচেয়ে ভালো সমাধান।
তবে সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্যচর্চার ধরন বদলেছে। চুল রং করারও নতুন নতুন কৌশল আসছে। এমনই নতুন চুল রং করার কৌশল ফ্রেঞ্চ ব্লেন্ডিং।
রূপবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য পাকা চুল পুরোপুরি লুকানো নয়, বরং এমনভাবে রংয়ের মিশ্রণ তৈরি করা যাতে পাকা চুল স্বাভাবিকভাবে চুলের ভেতরে মিশে যায়। ফলে চুল দেখতে কৃত্রিম লাগে না।
আবার নতুন করে চুল গজানোর পরও স্পষ্ট রংয়ের রেখা দেখা যায় না।
কী এই ফ্রেঞ্চ ব্লেন্ডিং
এই পদ্ধতিতে পুরো চুলে একরঙা রং ব্যবহার না করে বিভিন্ন হালকা ও গাঢ় রংয়ের স্তর তৈরি করা হয়। এতে চুলে নতুনত্ব আসে এবং পাকা চুলও আলাদা করে চোখে পড়ে না।
প্রচলিত চুল রং করার পদ্ধতিতে সাধারণত গোড়া থেকে পুরো চুল একই রংয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। শুরুতে সুন্দর দেখালেও কয়েক সপ্তাহ পর নতুন চুল গজালে গোড়ায় স্পষ্ট সাদা রেখা দেখা যায়। ফলে আবার দ্রুত রং করতে হয়।
তবে ফ্রেঞ্চ ব্লেন্ডিং এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনে। এখানে পাকা চুলকে লুকানোর বদলে চুলের সামগ্রিক রংয়ের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নতুন চুল উঠলেও সেটি খুব স্পষ্ট না হয়।
যেভাবে কাজ করে এই কৌশল
“এই পদ্ধতিতে চুলের বিভিন্ন অংশে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করা হয়। কোথাও হালকা রং, কোথাও গাঢ় রং যোগ করে এমন একটি স্বাভাবিক মাত্রা তৈরি করা হয়, যা চুলকে প্রাকৃতিক দেখায়”- বলেন বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপবিশারদ শারমিন কচি।
বিশেষভাবে চুলের গোড়ার দিকে কাজ করা হয়, কারণ পাকা চুল সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে এই অংশেই। সেখানে রংয়ের স্তর তৈরি করে চুলের খুব বেশি বৈপরীত্য কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে নতুন চুল গজালেও তা খুব সহজে বোঝা যায় না।
কচির মতে, এই কৌশলে চুলের প্রাকৃতিক রং ও পাকা অংশকে একসঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা হয়। তাই এটি অনেক বেশি স্বাভাবিক দেখায়।
সবার জন্য একই নয়
ফ্রেঞ্চ ব্লেন্ডিংয়ের বড় সুবিধা হল, এটি সবার জন্য একই ধরনের নয়। চুলের অবস্থা ও পাকা চুলের পরিমাণ অনুযায়ী পদ্ধতি বদলে যায়।
যাদের চুলে অল্প কিছু পাকা অংশ দেখা যাচ্ছে, তাদের জন্য হালকা বৈপরীত্য তৈরি করে রং দেওয়া হয়। এতে পাকা চুল স্বাভাবিক ভাবেই মিশে যায়।
আবার আগে থেকেই চুলে রং করা থাকলে এবং নতুন চুল ওঠার পরিমাণ কম এবং রং চোখে পড়ুক, এরকম চাইলে আলাদা ধরনের রংয়ের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়া চুলে পাকা অংশ বেশি হলে চুলের বিভিন্ন স্তরে রং করে আরও বেশি জায়গা নিয়ে রং করা হয়। এতে পুরো চুল দেখতে উজ্জ্বল ও স্বাভাবিক লাগে।
যারা এই পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত
পুরোপুরি পাকা চুল ঢাকতে না চাইলে এবং পরিপাটি ও যত্ন নেওয়া চুলের মতো ‘লুক’ রাখতে চাইলে তাদের জন্য এই পদ্ধতি ভালো।
বিশেষ করে যাদের চুলে অল্প থেকে মাঝারি পরিমাণে পাকা অংশ রয়েছে এবং ঘন ঘন রং করা থেকে বিরতি চাইলে এটি কার্যকর হতে পারে।
সাধারণ রংয়ের ক্ষেত্রে যেখানে পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর আবার রং করতে হয়, সেখানে ফ্রেঞ্চ ব্লেন্ডিংয়ে কয়েক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এই রূপবিশারদ বলছেন, “এটি একেবারে যত্নহীন কোনো পদ্ধতি নয়। সময় সময় চুলের উজ্জ্বলতা ও মাত্রা ঠিক রাখতে রং নতুন করে করতে হতে পারে। কিন্তু সেটি তুলনামূলক অনেক বেশি নমনীয়।”
যেভাবে রং করাতে হবে
এই পদ্ধতিতে রং করাতে চাইলে নিজের চাহিদা পরিষ্কারভাবে পার্লারে জানানো জরুরি। বিশেষ করে বলতে হবে যে ,পুরো পাকা চুল ঢাকার বদলে স্বাভাবিক ও নরম রংয়ের পরিবর্তন আনতে হবে।
“চুলের ধরন, স্বাভাবিক রং এবং পাকা চুলের পরিমাণ অনুযায়ী রংয়ের অবস্থান ঠিক করা হয়। তাই আগে থেকে কিছু ছবি সঙ্গে নিয়ে গেলে নকশা বোঝানো সহজ হয়” বলেন রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।
আরও পড়ুন