Published : 06 Aug 2025, 04:25 PM
বিয়ের দিনটি জীবনের একটি আনন্দের দিন হওয়ার কথা। অথচ এর ঠিক আগ মুহূর্তগুলো হয়ে উঠতে পারে প্রচণ্ড চাপ আর দুশ্চিন্তার উৎস।
বিয়ের দিন যতই ঘনিয়ে আসে, ততই মনে হতে পারে চাপটা যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সিদ্ধান্তের পাহাড়, আত্মীয়স্বজনের জটিল চাওয়া-পাওয়া, ব্যয়ের বোঝা আর ভবিষ্যতের চিন্তা। সব মিলিয়ে উদ্বিগ্নতা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।
বিশেষ করে নারীদের জন্য, যারা অনেক সময়ই পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের প্রত্যাশা পূরণের চাপে থাকেন, তাদের বিয়ের সময় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে মনে রাখা জরুরি এই উদ্বেগ মানে এই নয় যে সঙ্গীর সঙ্গে কোনো সমস্যা আছে। বরং এটি প্রমাণ করে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং চাচ্ছেন সবকিছু সুন্দরভাবে হোক।
এই মন্তব্য করে ‘কাম ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ডা. ক্রিস মসুনিক, বিয়ের আগে উদ্বেগের পেছনে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেন।
সাধারণ সমস্যার ভয়
অনুষ্ঠানে যদি বৃষ্টি পড়ে? কোনো আত্মীয় যদি অপ্রত্যাশিত আচরণ করে বসেন? এসব ভাবনা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে- কিছু সমস্যা হতেই পারে। তারপরও দিনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
অতিরিক্ত নিখুঁত করার চিন্তা
ডেকোরেশন, নিমন্ত্রণপত্র, খাবার সবকিছু নিখুঁত না হলে চলবে না। এই মানসিকতা উদ্বেগ বাড়ায়। অথচ আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে একটি নতুন জীবনের শুরু।
খরচের চিন্তা
বিয়ে ব্যয়বহুল। যৌথ জীবন শুরু করার আগে অনেকেই ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন হন। তাই খরচের সীমা টানা, অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়া জরুরি।
পারিবারিক টানাপোড়েন
সব আত্মীয় এক জায়গায় একত্রিত হলে পুরানো মতভেদ বা বিবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে। এজন্য আগেই সঙ্গীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে রাখা ভালো। যদি কিছু ঘটে, কীভাবে সামলানো যাবে।
জীবন পরিবর্তনের ভয়
বিয়ের পর নতুন ভূমিকা, দায়িত্ব আর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একা থাকার স্বাধীনতা থেকে বের হয়ে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ অনেকের জন্যই মানসিকভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময়, কিছুটা মনোযোগ দরকার। বড় কথা হল- এই দুশ্চিন্তা মানেই আপনি বিয়ের জন্য অযোগ্য নন।
উদ্বেগ সামলাতে যেসব উপায় কাজে লাগতে পারে
গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের চর্চা
যুক্তরাজ্যের ধ্যান-বিশেষজ্ঞ জেয় শেটি একই প্রতিবেদনে বলেন, “গভীর শ্বাস নেওয়া উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এই অনুশীলন আপনার হৃদস্পন্দন কমিয়ে শান্ত করতে পারে।”
পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা আনা
সব কাজের একটি তালিকা করে সময় অনুযায়ী অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে এবং অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কমে আসবে।
কাজ ভাগ করে দেওয়া
সব কাজ একা করার চেষ্টা করা যাবে না। বিয়ের পরিকল্পক, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিতে হবে। এতে চাপ কমবে এবং প্রস্তুতির সময়টা উপভোগ্য হবে।
ইতিবাচক দিকগুলোতে মন দেওয়া
যখন ভয় বা নেতিবাচক চিন্তা আসে তখন মনে করিয়ে দিতে হবে— দিনটি ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে একটি নতুন জীবন শুরু করার জন্য। এই আনন্দকে গুরুত্ব দিন, ছোটখাটো ত্রুটিকে নয়।
বিরতি ও নিজেকে সময় দেওয়া
‘কাম ডটকম’য়ের ধ্যান-প্রশিক্ষক তামারা লেভিট বলেন, “পরিকল্পনার ভিড়ে নিজেকে ভুলে গেলে চলবে না। মাঝে মাঝে হাঁটতে বের হন, পছন্দের বই পড়ুন বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান।"
খোলাখুলি কথা বলা
সঙ্গী, কাছের বন্ধু বা পরিবারের কাউকে বলুন, নিজে কেমন অনুভব করছেন। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন
পুনরায় বিয়ের আগে যেসব আর্থিক বিষয় বিবেচনা করা দরকার