Published : 14 Dec 2025, 12:57 AM
হালকা শীতের ছোঁয়া নিয়ে অগ্রহায়ণের শেষে রাজধানীর গুলশান লেক পার্কে আয়োজিত হল পৌষ উৎসব।
আয়োজনে ছিল ‘গুলশান সোসাইটি’ এবং ‘ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (এফডিসিবি)’।


১৩ ডিসেম্বর দিনব্যাপি আয়োজিত এই উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল নৃত্য, লোকগীতি, লালনসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা।


দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল দুই পর্বে আয়োজিত দেশীয় বয়নশিল্পের ফ্যাশন শো। যেখানে ১৮ জন ফ্যাশন ডিজাইনারের তৈরি পোশাক প্রদর্শিত হয়।

এফডিসিবি’র সভাপতি ও ‘স্টুডিও মায়াসির’য়ের স্বত্বাধিকারী পোশাক-নকশাকর মাহিন খান বলেন, “পৌষ উৎসব নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা অনেক দিনের। এ সময়টা বাংলার উৎসবমুখর সময়। গ্রামগঞ্জে পৌষকে ঘিরে নানান আনুষ্ঠানিকতা হয়। গ্রামে গ্রামে পৌষ মেলা চলে। উৎসবটি যেন পরিপূর্ণ মনে হয়, তাই আমাদের কারুশিল্প ও বয়নশিল্পের উপকরণ যেমন আছে, তেমনি সাংস্কৃতিক পর্বে রয়েছে দেশীয় পরিবেশনা।”


শুধু ফ্যাশন শো নয়, এই আয়োজনে অংশ নেয় দেশের নানান প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্পীরা। পাট ও কাঁসা–পিতলের সামগ্রী, সোনারগাঁয়ের কাঠের পুতুল, জামদানি ও হাতপাখা, সিরাজগঞ্জের তাঁত, টাঙ্গাইলের শাড়িসহ বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের প্রদর্শনী।


গ্রামবাংলার শীত মানেই পিঠাপুলি। সেই রেওয়াজ ধরে উৎসবে রাখা হয়েছে দুধ–চিতই, নকশি পিঠাসহ নানান খাবারের আয়োজন।


পোশাক-নকশাকর শৈবাল সাহা বলেন, “নতুন ধান কাটার পর আমাদের গ্রামবাংলায় যে পিঠাপুলির উৎসব হয়, শহরের যান্ত্রিক জীবনে সেই আমেজ আমরা অনেকটাই ভুলতে বসেছি। গ্রামবাংলার সেই উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই আয়োজন।”


পৌষ উৎসবের স্টলগুলোয় সাজানো ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজ ঐতিহ্য ও কারুশিল্প। সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে কেউ হাতে বোনা শীতলপাটি নিয়ে এসেছেন, আবার রাজশাহী থেকে শখের হাঁড়ি নিয়ে অংশও নিয়েছেন।





বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এই উৎসব চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সৌজন্যে আয়োজিত এই আয়োজনের সহযোগিতায় ছিল রাঁধুনী, বার্জার এবং বাটা।