Published : 07 Jun 2026, 10:49 PM
যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা মে মাসে ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন; যা অন্য যে কোনো দেশ থেকে আসা রেমিটেন্সের চেয়ে বেশি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো মাসেই যুক্তরাজ্য থেকে এত বেশি রেমিটেন্স আসেনি।
ইউরোপের এই দেশ থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গত কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসত সৌদি আরব থেকে। মে মাসে সৌদিকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্স প্রবাহের দেশভিত্তিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, মে মাসে মোট ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অংক গত বছরের মে মাসের চেয়ে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।
একক মাসের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছে মে মাসে। এর আগে সবচেয়ে বেশি ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার এসেছিল চলছি বছরের মার্চ মাসে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসে এমন ১০টি উৎস দেশের মধ্যে মে মাসে নয়টি থেকেই আয় বেড়েছে; কমেছে কেবল যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
কোন দেশ থেকে কত রেমিটেন্স এসেছে
|
দেশ |
এপ্রিল |
মে |
|
যুক্তরাজ্য |
৫২ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার |
৬৪ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার* |
|
সৌদি আরব |
৫২ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার* |
৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার |
|
সংযুক্ত আরব আমিরাত |
৪০ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার |
৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
|
মালয়েশিয়া |
২১ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
৩০ কোটি ডলার ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
|
যুক্তরাষ্ট্র |
৩২ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার |
২৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার |
|
ওমান |
১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
২০ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার ডলার |
|
ইতালি |
১৭ কোটি ৫৯ লাখ ২০ হাজার ডলার |
১৬ কোটি ৭২ লাখ ৩০ হাজার ডলার |
|
কুয়েত |
১৩ কোটি ৯২ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
১৬ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
|
সিঙ্গাপুর |
১৪ কোটি ৪০ লাখ ২০ হাজার ডলার |
১৪ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার |
|
কাতার |
১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার ডলার |
১২ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার |
|
মোট |
৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার |
৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার |
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ৫২৮ কোটি ২২ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। বলা যায়, সঙ্কটে পড়া বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে রেমিটেন্স।
তবে প্রবাসী আয়ের উৎসে কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে, এবার সেখানে ধস নেমেছে।
সৌদি আরবকে পেছনে ফলে গত দুই অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছিল। এই দুই দেশকে ডিঙিয়ে আবার সেই সৌদি থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসছে; দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে যুক্তরাজ্য।
শীর্ষ থেকে পাঁচে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র; আরব আমিরাত তৃতীয় স্থানে। চমক দেখিয়ে মালয়েশিয়া চলে এসেছে চতুর্থ স্থানে।
রেমিটেন্সের উৎসে এই উত্থান-পতনের সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারছেন না কেউ। কেনো এক বছর এক দেশ থেকে বেশি আসছে, পরের বছরই ধস নামছে। অন্য দেশ শীর্ষে চলে আসছে—এর প্রকৃত কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “টানা ৬ মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে দেশে। এটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো। কিন্তু এই রেমিটেন্সের উৎস দেশের ওঠানামা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। গত কয়েক বছর ধরে এক দেশ হঠাৎ করে শীর্ষে চলে আসছে, পরের বছর আবার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে—আমি বুঝতে পারছি না।
“সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশী প্রবাসী থাকেন। সেখান থেকে এবার বেশি রেমিটেন্স আসছে–এটা না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু যুক্তরাজ্য থেকে হঠাৎ বাড়ল কেন, তার কোনো সদুত্তর কিন্তু আমি পাচ্ছি না। সে কারণেই আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করব—রেমিটেন্সের উৎস দেশে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে প্রকৃত কারণ বের করতে।”
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “এক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণ আছে কি-না, পাচার হওয়া টাকা রেমিটেন্স হয়ে দেশে আসছে কি-না, সবকিছু ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।”