বাথরুমের টাইলসের জোড়াতে কালচে গোলাপি হওয়ার কারণ ও প্রতিকার
এটি কোনও সাধারণ ময়লা বা ছত্রাক নয়, বরং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা।
বাথরুম বা গোসলখানা নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও দেখা যায়, টাইলসের মধ্যবর্তী সাদা জোড়ামুখ বা কোণার সিলিকন আঠার ওপর এক ধরনের কালচে গোলাপি বা হালকা লালচে রংয়ের আস্তরণ জমা হতে শুরু করেছে।
অনেকেই একে সাধারণ কোনও স্যাঁতসেঁতে দাগ বা ছত্রাক ভেবে ভুল করেন।
তবে পরিচ্ছন্নতা ও কলকব্জা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই কালচে গোলাপি আস্তরণটি আসলে কোনও সাধারণ ময়লা বা ছত্রাক নয়, এটি একটি জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার কলোনি বা আস্তানা।
সময়মতো সঠিক প্রতিকার না করলে এটি বাথরুমের মেঝেকে পিছল ও অস্বাস্থ্যকর করে তোলে।
জীবনধারা-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘মলি মেইড’-এর পরিচ্ছন্নতা বিশেষজ্ঞ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল সিলভা-ন্যাশ বলেন, “বাথরুমের আর্দ্র ও ভেজা পরিবেশ ক্ষতিকর অণুজীবের জন্য উপযুক্ত অভয়ারণ্য।”
তার কথায়, “বাথরুম অনবরত আর্দ্রতা, বাষ্প, সাবানের ফেনা এবং জমে থাকা পানির সংস্পর্শে আসে। যখনই টাইলস বা টাইলসের মধ্যবর্তী জোড়াতে কালচে গোলাপি রংয়ের আভা দেখা দেয়, তখনই বুঝতে হবে সেখানে পানি জমে রয়েছে এবং অণুজীবের বংশবৃদ্ধি শুরু হয়ে গেছে।”
কালচে গোলাপি দাগের আসল কারণ: ‘সেরাটিয়া মারসেসেন্স’
এই কালচে গোলাপি দাগের আসল অপরাধী হল ‘সেরাটিয়া মারসেসেন্স’ নামক এক ধরনের বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। এরা বেঁচে থাকার জন্য বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশ এবং ব্যবহৃত সাবান ও শ্যাম্পুর অবশিষ্টাংশ বা ‘ফ্যাটি উপাদান’কে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের জন্য এই ব্যাকটেরিয়াটি সাধারণত ক্ষতিকর বা বিষাক্ত নয়। তবে ঘরে যদি কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনও ব্যক্তি, শিশু বা প্রবীণ মানুষ থাকেন, তবে এই ব্যাকটেরিয়া থেকে তাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
তাই বাথরুমে এই দাগ দেখা দেওয়া মাত্রই দূর করা জরুরি। টাইলস ছাড়াও বাথরুমের প্লাস্টিকের পর্দা বা শাওয়ার লাইনারেও এই ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত ছড়ায়, যা দেখা মাত্রই ওয়াশিং মেশিনে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত।
জেদি কালচে গোলাপি দাগ দ্রুত পরিষ্কার করার নিয়ম
মাইকেল সিলভা-ন্যাশের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই কালচে গোলাপি দাগ কেবল সাধারণ পানি বা কাপড় দিয়ে মুছে ফেললে সাময়িকভাবে চলে গেলেও এর মূল স্তরটি ভেতরেই থেকে যায়। এজন্য ব্লিচ ব্যবহার করা আবশ্যক।
পরিষ্কারের পদ্ধতি: পানির সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্লিচ মিশিয়ে একটি তরল মিশ্রণ বা ‘সল্যুশন’ তৈরি করতে হবে। এরপর আক্রান্ত টাইলস ও টাইলসের জোড়ার ওপর এটি স্প্রে করে বা ঢেলে দিয়ে অন্তত কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যাতে ব্লিচের রাসায়নিক উপাদান ব্যাকটেরিয়ার দেওয়াল ভেঙে তা ধ্বংস করতে পারে।
এরপর একটি নরম ব্রাশ বা টুথব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পুনরায় দাগ ফিরে আসা রোধ করার ৩টি উপায়
বাথরুমকে চিরতরে এই কালচে গোলাপি আঠালো দাগ থেকে মুক্ত রাখতে বিশেষজ্ঞরা ৩টি প্রধান কৌশল অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাতাস চলাচল ও ভেন্টিলেইশন বৃদ্ধি: বাথরুমের আর্দ্রতা কমানোই এই ব্যাকটেরিয়া মারার প্রধান উপায়। গোসল শেষে বাথরুমের জানালা দরজা খোলা রাখতে হবে, যাতে ভেজা ভাপ দ্রুত বের হয়ে যায়। বাথরুমে ‘এগজস্ট ফ্যান’ থাকলে অন্তত ২০ মিনিট চালু রাখতে হবে।
পানি জমতে না দেওয়া: প্রতিবার গোসলের পর টাইলসের দেওয়ালে লেগে থাকা পানি একটি গ্লাস ক্লিনার বা ‘স্কুইজি’ দিয়ে টেনে নামিয়ে দিতে হবে। মেঝেতে যেন কোথাও পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সাবানের ফেনা পরিষ্কার: সপ্তাহে অন্তত একবার বাথরুমের দেয়াল ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে, যাতে ব্যাকটেরিয়ার প্রধান খাদ্য— সাবান ও শ্যাম্পুর ফেনা জমে না থাকতে পারে।
