২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭ কার্তিক ১৪৩৩

নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও কমোডে জেদি দাগ পড়ার কারণ

দাগের রং দেখে নিতে হবে পরিষ্কারের সঠিক কৌশল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Oct 2026, 01:00 PM

Updated : 22 Oct 2026, 09:53 AM

অনেকেই সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বেশ খাটাখাটনি করে কমোড পরিষ্কার করেন। তারপরও দেখা যায়, ঠিকমতো পরিষ্কার করার পরও কমোডের ভেতরে পানির সমান্তরালে একটি গোল দাগ বা রিং তৈরি হয়।

এই দাগ এতটাই জেদি হয় যে, সাধারণ তরল ক্লিনার দিয়ে ঘষলেও সহজে উঠতে চায় না। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরও কেন এই বিব্রতকর দাগ পড়ে, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন।

জীবনযাপন বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পরিচ্ছন্নতা ও প্লাম্বিং বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার আসল কারণ এবং তা দূর করার কার্যকর কিছু ঘরোয়া কৌশল জানিয়েছেন।

কমোডে রিং বা দাগ পড়ার মূল কারণ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কমোডে এই ধরনের গোল দাগ পড়ার প্রধান কারণ হল, কড়া পানি বা বা ‘হার্ড ওয়াটার’।

এছাড়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পাইপের মরিচা কিংবা কমোডের নিজস্ব কিছু ত্রুটির কারণেও এই দাগ হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে অবস্থিত ‘ব্লুফ্রগ প্লাম্বিং অ্যান্ড ড্রেন’ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ মরগান বাক বলেন, “মাটির নিচ থেকে পানি তোলার সময় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত হয়। কমোডের ভেতরে পানির উপরিভাগ যেখানে এসে থামে, সেখান থেকে পানি যখন বাষ্পীভূত হয়ে যায়, তখন এই খনিজ উপাদানগুলো নখের মতো শক্ত হয়ে কমোডের গায়ে আটকে থাকে। এটিই পরে চকের মতো একটি গোল রিং বা দাগ তৈরি করে।”

তিনি আরও জানান, অনেক সময় মৃদু পানি বা ‘সফট ওয়াটার’ থাকা সত্ত্বেও কমোডে দাগ পড়ে। সেক্ষেত্রে বাথরুমে আর্দ্রতার কারণে জন্মানো ব্যাকটেরিয়া বা পুরোনো লোহার পাইপ থেকে আসা মরিচা এর জন্য দায়ী।

দাগের ধরন দেখে সমাধান

যুক্তরাষ্ট্রের পরিচ্ছন্নতা-বিষয়ক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘মেইডপ্রো’-এর কারিগরি প্রশিক্ষক এবং পরিচ্ছন্নতা বিশেষজ্ঞ জর্জেট মিন্টজ বলেন, “যদি নিয়মিত ধুয়ে ফেলার পরও দাগ ফিরে আসে, তবে বুঝতে হবে আপনি ভুল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করছেন। দাগের রং দেখেই এর প্রতিকার নির্ধারণ করতে হবে।”

সাদা, ধূসর বা হালকা বাদামি দাগ (খনিজ আস্তরণ): এটি মূলত কড়া পানির ক্যালসিয়ামের কারণে হয় এবং হাত দিলে খসখসে মনে হয়।

প্লাম্বিং বিশেষজ্ঞ মরগান বাকের মতে, “যেহেতু এটি একটি খনিজ স্তর, তাই একে গলাতে অ্যাসিডের প্রয়োজন। সাদা ভিনেগার বা সিট্রিক অ্যাসিড ক্লিনার দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ঘষলে, এই দাগ সহজে উঠে যায়।”

এছাড়া পিউমিস স্টোন ঝামা পাথর দিয়ে আলতো করে ঘষেও এই শক্ত খনিজ আস্তরণ তুলে ফেলা সম্ভব।

গোলাপি বা কমলা রংয়ের (ব্যাকটেরিয়া): কমোডের পানির লাইনে এই ধরনের দাগ দেখা দিলে বুঝতে হবে, এটি ‘সেরাটিয়া মারসেসেন্স’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া।

এটি পানি থেকে নয়, বরং বাথরুমের ভেজা ও আর্দ্র বাতাস থেকে ছড়ায়।

এই ব্যাকটেরিয়া মারতে ভিনেগার খুব একটা কাজে আসে না। এর জন্য ব্লিচ যুক্ত জীবাণুনাশক ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে।

ধূসর বা কালো রিং (ছত্রাক বা মোল্ড): বাথরুমের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে কমোডে কালো ছাতা বা ছত্রাক পড়তে পারে। এটিও ব্লিচ ধরনের পরিষ্কারক দিয়ে সহজে তুলে ফেলা যায়।

বিশেষ করে যে বাথরুমগুলো কম ব্যবহার করা হয়, সেখানে নিয়মিত ফ্ল্যাশ না করার কারণে এই ছত্রাক বেশি জন্মায়।

গাঢ় লালচে-বাদামি দাগ (মরিচা): পানিতে অতিরিক্ত আয়রন বা লোহা থাকলে বা ঘরের পানির পাইপটি যদি পুরোনো গ্যালভানাইজড লোহার হয়, তবে কমোডে লালচে মরিচার দাগ পড়ে।

যদি ঘরের সব বেসিন বা বাথটাবের রংও এমন হতে শুরু করে, তবে বুঝতে হবে মূল লাইনের পানিতেই সমস্যা আছে। এজন্য বাজারে মরিচা তোলার বিশেষ ক্লিনার পাওয়া যায়।

প্রতিরোধের উপায়

পরিচ্ছন্নতা বিশেষজ্ঞ জর্জেট মিন্টজ পরামর্শ দেন, “কমোড পরিষ্কার করার সময় কেবল নিচের অংশ নয়, বরং কমোডের ভেতরের ওপরের যে অংশটি দিয়ে পানি ফ্লাশ হয়ে বের হয়, সেখানেও ব্রাশ পৌঁছাতে হবে।”

সপ্তাহে অন্তত একবার ভিনেগার বা ব্লিচ দিয়ে বাথরুমের আর্দ্রতা ও খনিজ দূর করার রুটিন তৈরি করলে এই জেদি রিং দাগ ফিরে আসার সম্ভাবনা কমবে।

পুরনো খবর:

ঘরের যেসব জিনিস প্রতি মাসেই পরিষ্কার করা উচিত
লেবু দিয়ে যেসব জিনিস পরিষ্কার করা যাবে না
ঘরের যেসব জিনিস সচরাচর পরিষ্কার করা হয় না
বেইকং সোডা দিয়ে যেসব জিনিস পরিষ্কার করা যাবে না