খাবার থেকে স্যাচুরেইটেড ফ্যাট গ্রহণ কমাতে চাইলে
অস্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের মাত্রা কমাতে ‘উমামি’ ধরনের খাবার বেছে নেওয়া যায়।
মাখন, ক্রিম, চিজ, চর্বিবহুল মাংস, সসেজ, বিস্কুট- এই ধরনের খাবারে স্যাচুরেইটেড ফ্যাট থাকে।
আর এসব খাবার গ্রহণের পরিমাণে লাগাম টানতে সুপ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে উপকারে আসবে।
‘উমামি’ হল জাপানি শব্দ- যা সুস্বাদু মসলাদার খাবার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটা প্রাথমিক স্বাদের খাবারকে প্রতিনিধিত্ব করে যেমন- মিষ্টি, নোনতা, তেতো এবং টক।
বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকাল সেন্টারের আওতাধীন ‘স্টাডি অফ নিউট্রিশন মেডিসিন’য়ের প্রধান লেখক মিগেল আলোনসো-আলোনসো বলেন, “অনেক সংস্কৃতিতেই প্রধান খাবার শুরু করার আগে সুপ খাওয়ার চল রয়েছে। আমাদের গবেষণা বলছে, যারা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকিতে আছেন তারা মূল খাবারের আগে ‘উমামি’ ধরনের সুপ পান করলে বাড়তি উপকার পাবেন।”
বিশেষজ্ঞরা বলেন, “সুপ মস্তিষ্কের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনে যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলায় অনুপ্রেরণা যোগায়, বিশেষত যারা অতিরিক্ত ওজনধারী।”
‘উমামি’ ধরনের খাবারের একটি প্রধান উপাদান হলো ‘গ্লুটামেট’, একটি প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিড, যা সব ধরনের খাবারেই থাকে। বিশেষ করে, উচ্চমাত্রায় প্রোটিন থাকে এমন খাবার।
যেমন- দুগ্ধজাত খাবার, মাছ এবং মাংসতে বেশি পরিমাণে থাকে এই উপাদান।
যারা ‘উমামি’ ধরনের সুপ প্রধান খাবারের আগে গ্রহণ করছেন, তাদের মধ্যে খাদ্যাভ্যাস-বিষয়ক নিয়ন্ত্রণ দেখে গেছে বেশি মাত্রায়। তারা কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন সে বিষয়ে সতর্ক নজর দেন।
পাশাপাশি এ ধরনের সুপ পানের কারণে যারা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকিতে আছেন তারা মুল খাবারে ‘স্যাচুরেটেড ফ্যাট’ গ্রহণ করেছেন তুলনামুলক কম পরিমাণে।
‘নিউরোসাইকোফার্মাকোলজি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দাবী করা হয়- সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাবার স্বাস্থ্যকর মাত্রায় খাওয়ার অনুপ্রেরণা জাগাতে সাহায্য করবে এই পর্যবেক্ষণ।
আলোনসো-আলোনসো বলেন, “গবেষণায় আমরা পর্যালোচনায় এনেছি তাৎক্ষণিক প্রভাব আর পরীক্ষাগারের ফলাফল। বাস্তব পরিস্থিতিতে এই বিষয়গুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে সেবিষয়ে আরও বিস্তারিক গবেষণা প্রয়োজন।”
আরও পড়ুন
